আপন তারিক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৩ ১০:৩৫ এএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৩ ১০:৪৫ এএম
এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে শতদ্রু দত্ত
শতদ্রু দত্ত। কলকাতার স্পোর্টস প্রমোটর। নিজের নামেই কোম্পানি খুলেছেন। প্রতিষ্ঠানের নাম শতদ্রু দত্ত অ্যাসোসিয়েটস। কাজে ঝানু। যোগাযোগের ক্ষেত্রটা বিশাল। মেসি, রোনালদো থেকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ- বিশ্বের বিখ্যাত ফুটবলারদের সঙ্গে তার কাজের যোগাযোগ। কলকাতায় ম্যারাডোনা- পেলে-কাফুকে উড়িয়ে এনে মনমাতানো আনন্দ উপহার দিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীদের।
সেই শতদ্রু দত্ত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে কাল জানালেন এবার তিনি কলকাতা ও ঢাকা সফরে নিয়ে আসছেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে। সেই সফরের পটভূমি নিয়ে শতদ্রু দত্তর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন আপন তারিক।
আরও পড়ুন : ঢাকায় আসছেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক
এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ঢাকায় আসছেন খবরের সত্যতা কতটুকু? যদি আসেন তবে সেটা কখন, কবে?
শতদ্রু দত্ত : যদি আসেন না, আসছেনই। ঢাকায় ল্যান্ড করবেন। আশা করছি তখন ঢাকায় এক দিনের একটা প্রোগ্রামও করব মার্টিনেজের জন্য। আর সেটা হবে ৩ জুলাই। ওইদিন সকালে বাংলাদেশে পা রাখবেন, পরের দিন সকালে ঢাকা থেকে কলকাতা চলে আসবেন।
মার্টিনেজকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কি আপনার কোনো যোগাযোগ হয়েছে?
শতদ্রু দত্ত : না, ওভাবে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। আমার বাংলাদেশে কিছুটা জানাশোনা আছে। পার্টনাররা রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। ওরা ব্যবসায়িকভাবে বেশ ক্ষমতাধর। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া আছে। তাছাড়া আগামী সপ্তাহে আমি এ নিয়ে কথা বলতে ঢাকায় আসছি। এরই মধ্যে ভিসার জন্য অ্যাপ্লাইও করে ফেলেছি। সবকিছু ঠিক করে কিছুদিনের মধ্যেই একটা প্রেস কনফারেন্স করব- এটাই প্ল্যান।
কাদের সঙ্গে কথা হলো মার্টিনেজকে নিয়ে আসার ব্যাপারে। যেহেতু বাফুফে এখানে যুক্ত নয়, তাহলে আর্থিক দিকটা কারা নিশ্চয়তা দিচ্ছে?
শতদ্রু দত্ত : আমি বাফুফের প্রেসিডেন্টের (কাজী সালাউদ্দিন) সঙ্গে দেখা করব- এটা পরিকল্পনায় আছে। উনার সঙ্গে আগেও একবার আমার দেখা হয়েছে। আমার কিছু পার্টনার আছে, যাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ রয়েছে; তারাই মিটিংটা করিয়ে দেবে। প্রেসিডেন্টকে টপকে কিছু করা উচিত নয়! আমার পার্টনাররাই সব ব্যবস্থা করছে। ঢাকায় কাদের সঙ্গে কী আলোচনা হচ্ছে, সেটা ওরাই ঠিক করছে। ওদের তো কিছু সময় দিতেই হবে! আমি যতটুকু শুনেছি- বসুন্ধরা আর বিকাশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পরেই এটা ফাইনাল হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার ভক্তদের উন্মাদনার বিষয় তো লিওনেল মেসি-মার্টিনেজের কান অবধি পৌঁছেছে। এ অবস্থায় ঢাকায় আসার ব্যাপারে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপারের সঙ্গে কী কথা হলো আপনার?
শতদ্রু দত্ত : আমি যখন ওকে পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) সফর নিয়ে বললাম তখন ও বলল- বাংলাদেশেও তো আমার অনেক ফ্যান আছে। তখন আমিও বললাম- হ্যাঁ, তোমার-আর্জেন্টিনার বিশাল ফ্যান গ্রুপ রয়েছে বাংলাদেশে। ও বলল- যদি সময় বের করা যায় তাহলে সেখানকার জন্যও কিছু পরিকল্পনা করা যেতে পারে। ও আমাকে বাংলাদেশ সফর নিয়ে উদ্যোগ নিতে বলল। তার পরই আমি আমার পার্টনারদের সঙ্গে কথা বললাম।
কমার্শিয়াল ব্যাপারটা বলছিলেন- মার্টিনেজের সঙ্গে ঢাকায় আসা নিয়ে আর্থিক ব্যাপারটায় কোনো কথা কি হয়েছে? মানে এক দিনের জন্য তিনি কেমন অর্থ নিতে চাইছেন?
শতদ্রু দত্ত : দেখুন, ফিন্যান্সিয়াল চুক্তির ব্যাপারটা তো সেভাবে বলতে পারব না। এটা গোপনীয়। সেটাই স্বাক্ষর করেছি মার্টিনেজের সঙ্গে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মার্টিনেজ ২৪ ঘণ্টা থাকবেন বলছিলেন। তাহলে আগামী ৩ জুলাই বিশ্বকাপজয়ী এই গোলকিপারের শিডিউলটা কী হচ্ছে?
শতদ্রু দত্ত : যেটা কলকাতায় করছি তেমনই। একটু ফ্যানদের সঙ্গে দেখা, স্পন্সরদের কিছু ইভেন্টে অংশ নেওয়া- এসবই। তার বাইরে আসলে কিছু করার নেই। বাংলাদেশে বড় কোনো ক্লাব, তাদের যদি কোনো অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকে তবে সেটাও হতে পারে। এক দিনে আসলে তেমন কিছু করার থাকবে না! এর মধ্যে সকাল-দুপুর-রাত যেভাবে কাজে লাগানো যায় সে পরিকল্পনাই হবে।
আপনি স্পোর্টস প্রমোটর হিসেবে বেশ সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এর আগে আপনার উদ্যোগেই কলকাতায় পা রেখেছিলেন সর্বকালের দুই সেরা ফুটবলার ব্রাজিলের পেলে আর আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা। লিওনেল মেসি অথবা আর্জেন্টিনা দলটাকে নিয়ে আসার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে?
শতদ্রু দত্ত : হ্যাঁ, এই দুই লিজেন্ডের পাশাপাশি ব্রাজিলের কাফুকেও এনেছিলাম পশ্চিমবঙ্গে। আর্জেন্টিনা দলটাকে নিয়ে আসার ক্ষমতা আসলে আমার নেই। তবে আরেকজনের নাম যেটা বললেন তিনি আমার রাডারে রয়েছেন। আশা করছি আজ না কাল এটা পূর্ণ করার চেষ্টা নিশ্চয়ই করব।
নিশ্চয়ই আপনি মেসির কথা বলছিলেন...
শতদ্রু দত্ত : হ্যাঁ, লিওনেল মেসিকেই নিয়ে আসার প্ল্যান রয়েছে আমার।