প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ২৩:০৪ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ০৮:৪২ এএম
সময়টা ২০০৪ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর- মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে আমূল বদলে গেল জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট। যার ত্যাগ কিংবা চোখরাঙানিতে এমনটি হয়েছে সেই হিথ স্ট্রিক লড়ছেন মরণঘাতী ক্যানসারের বিরুদ্ধে। বর্ণবৈষম্য বা বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে মাঠের খেলায় যিনি সম্মুখে থেকে লড়তেন, তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকার হাসপাতালের সাদা বেডে শুয়ে।
আরও পড়ুন - শ্বাসরুদ্ধকর ছিল রূপগঞ্জ-লিওপার্ডস ম্যাচ, আলোচনায় মোহামেডান-জামাল
ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং জীবনে নানা সময়ে সমালোচিত হয়েছিলেন, ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পেসার ক্যানসারের বিরুদ্ধেও জয় নিয়ে লম্বা হাসিতে ফিরবেন, পরিবার-সমর্থক হয়ে কিংবদন্তিকে নিয়ে সবার চাওয়া এমনটাই।
১৯৯৩ সালে অভিষেক হওয়া হিথ এক সময় প্রতিপক্ষের বোলারদের তটস্থ রাখতেন, বোলিংয়ে ব্যাটারদের খাওয়াতেন নাকানিচুবানি। তবে ক্যানসারের শেষপর্যায়ে থাকা হিথের লড়াই এখন মৃত্যুর সঙ্গে। ২২ গজের লড়াইয়ের মতো এ যুদ্ধেও তিনি জিতবেন সে আশা তার পরিবারের। রবিবার তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার, ‘হিথের ক্যানসার হয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ক্যানসার বিশেষজ্ঞের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। এখন বেশ খোশমেজাজেই আছেন। তিনি ক্যানসারের সঙ্গে একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন, যেভাবে ক্রিকেট মাঠে সেই দিনগুলোতে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলেন।’
স্ট্রিকের পরিবার আরও জানায়, 'পরিবারের আশা সবাই এই বিষয়টিকে একান্ত পারিবারিক বিষয় হিসাবে বিবেচনা করবেন। একই তাদের ইচ্ছাকে বুঝবেন ও সম্মান জানাবেন। প্রার্থনা এবং শুভ কামনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে না। এর বাইরে কোনো সংবাদ প্রকাশ পেলে সেটা গুজব হিসাবে গণ্য হবে।'
শনিবার রাতে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের সঙ্গে আলাপচারিতায় স্ট্রিকের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন জিম্বাবুয়ের বর্তমান অধিনায়ক শন উইলিয়ামস। তিনি বলেন, হিথের কোলন ও লিভারের ক্যানসার এখন চতুর্থ স্তরে। এই পর্যায়ে আমি যা জানি তা হলো, হিথের পরিবারকে দক্ষিণ আফ্রিকায় তার কাছে যাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। আমি হিথকে মেসেজ করেছিলাম এবং সে সাড়া দিয়েছিল। মনে হচ্ছে ক্যানসার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ গত সপ্তাহে তিনি মাছ ধরছিলেন। কোলন ও লিভারের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন হিথ।
বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিংয়ের বিপ্লব যার হাত ধরে, সেই হিথ আছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার হাত ধরেই উঠে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমানের মতো পেসার। মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেনদের বোলিংত্রয়ীর বোলিং বৈচিত্র্যও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। টাইগার পেসারদের মাথায় সেট করে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ শুধু স্পিনার নয় পেসারদের অবদানেও মাততে পারে জয়ের আনন্দে। ২০১৪ থেকে ২০১৬- এই দুই বছর মাশরাফি-রুবেলদের সামলেছেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের সাবেক শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ডেভিড কোল্টার্ট লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন হিথ স্ট্রিক খুবই অসুস্থ এবং তার এখন আমাদের প্রার্থনা প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে আমরা সবাই তার এবং তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করি।’
জিম্বাবুয়ের সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন হিথ স্ট্রিক। ৬৫ টেস্টে তার উইকেটসংখ্যা ২১৬। জিম্বাবুয়ের হয়ে প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলকও তার। ওয়ানডেতে ১৮৯ ম্যাচে তার উইকেটসংখ্যা ২৩৯। ক্রিকেটকে বিদায় বলার পর কোচিং করিয়েছেন বাংলাদেশকে। ২০১৪-২০১৬ সালে ছিলেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। পরে জিম্বাবুয়ের কোচিংয়েও যুক্ত হন তিনি। আইপিএলের দুটি দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে হিথের। আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী বিধির বেশ কয়েকটি ধারা ভঙ্গের দায়ে ২০২১ সালে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তাকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আইসিসি।