প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ০১:১০ এএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৩ ০৯:০৩ এএম
সুপার লিগের প্রথম ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে নেমেছে শেখ জামাল। দুইয়ে নামলেও শিরোপাদৌড় থেকে ছিটকে যায়নি। আবাহনীর সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে। সুপার লিগের তৃতীয় রাউন্ডে নিজ নিজ ম্যাচে আবাহনী ও শেখ জামাল তুলে নিয়েছে জয়। তাতেই জমে উঠেছে ডিপিএলের শিরোপা লড়াই।
আরও পড়ুন : রোনালদোর সুখী পরিবার
আবাহনী-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ
রিপন মণ্ডলের বোলিং তোপের পর নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাটে আসে হাফসেঞ্চুরি। তাতেই লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করতে নেমে রিপন মণ্ডলের বোলিং তোপে মাত্র ২৩০ রানে গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ। চিরাগ জানি ও ইরফান শুক্কুরের হাফসেঞ্চুরিতে মূলত লড়াইয়ের পুঁজি পায়। দুজনের ব্যাটে আসে যথাক্রমে ৫০ ও ৫২ রান। এ ছাড়া জাওয়াদ রোয়েনের ব্যাটে আসে ৪৬ রান। আবাহনীর পেসার রিপন মণ্ডল ৪৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে আবাহনীর দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও নাঈম শেখের জুটিতে ভালো শুরু ছিল। থিতু হয়ে রান বড় করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে মাঠ ছাড়েন বিজয়। তার ব্যাটে আসে ৩৩ রান। নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয় তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। দুজন যথাক্রমে করেন ৫৬ ও ৬৭ রান। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আফিফ হোসেন করেন ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ছোট ইনিংসে ভর করেই ৪ উইকেটের জয় পায় আবাহনী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ২৩০/১০ (ইরফান ৫২, চিরাগ ৫০; রিপন ৪/৪৫)
আবাহনী : ২৩৩/৬ (জয় ৬৭, বিজয় ৫৬; মুক্তার ৩/৩৮)
ফল : আবাহনী ৪ উইকেটে জয়ী
শেখ জামাল-প্রাইম ব্যাংক
মিরপুরে শেখ জামালের শুরুটা ছিল দারুণ। সৈকত আলী ও সাইফ হাসান জুটি ভালো শুরু করেছিল। তবে ১৪৮ থেকে ১৫৫ সাত রানের মাথায় দুই উইকেট হারিয়ে খানিকটা বিপদে পড়ে শেখ জামাল। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন নুরুল হাসান সোহান। ৪৫ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। এর আগে সাইফ ১০২ বলে খেলেন ৮৩ রানের ইনিংস। শেষদিকে তাইবুর রহমানের ৩১ বলে ৩০ ও জিয়াউর রহমানের ১৬ বলে ২৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ২৭৬ রান তোলে শেখ জামাল।
জবাবে শাহাদাত হোসেন দিপু ও প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের ব্যাটে ভর করে জয়ের দিকে এগিয়ে ছিল প্রাইম ব্যাংক। দিপু ফেরেন ৬৬ রানে। অন্যদিকে প্রান্তিক নওরোজ নাবিল আউট হন ৭৫ রানে। ‘স্পোর্টসম্যানশিপের’ পরিচয় দিয়ে আম্পায়ার আউট না দিলেও সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। তার বিদায়ের পরই মূলত ভেঙে পড়ে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষদিকে আল আমিন জুনিয়র ৩৬ ও মাহেদি হাসান ৩৫ রান করেন। সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২৬৩ রানে থামে প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস। শেখ জামাল জয় নিশ্চিত করে ১৩ রানে। ব্যাট হাতে ৮৩ রানের পর বোলিংয়ে ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন সাইফ হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শেখ জামাল : ২৭৬/৬ (সাইফ ৮৩, সোহান ৫৩; কাশিফ ভাট ৩/২৩)
প্রাইম ব্যাংক : ২৬৩/১০ (নাবিল ৭৫, দিপু ৬৬; শফিকুল ৩/৪৪)
ফল : শেখ জামাল ১৩ রানে জয়ী
মোহামেডান-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স
ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে আলো ছড়িয়েছেন মোহামেডানের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার ৯৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ভর করে মোহামেডানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪০ রান। রিয়াদের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন আরিফুল হক। ৪৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে তার ১ চারের পাশাপাশি ছিল ৬ ছক্কা। অবশ্য মোহামেডানের শুরুটা এত ভালো ছিল না। দলীয় ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায়। ইমরুল কায়েস, রুবেল মিয়া ও মহিদুল ইসলাম অঙ্কনরা উইকেটে থিতু হতে পারেননি। পরে আব্দুল মজিদ ও রিয়াদ মিলে দলকে টেনে তোলেন। মজিদ ৮৮ বলে করেন ৬৩ রান। গাজী গ্রুপের হয়ে আনামুল হক ৩৬ রানে দুটি ও টিপু সুলতান ৩১ রানে নেন ৩ উইকেট।
জবাবে ৬ বল বাকি থাকতে ২২০ রানে গুটিয়ে যায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। ওপেনার মেহেদি মারুফ একপ্রান্ত ধরে রেখে ৬৫ বলে করেন ৪২ রান। মিডল অর্ডারে মেহেরব হোসেনের ৬৩ রানে জয়ের পথেই ছিল গাজী গ্রুপ। অন্য ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ২২০ রানে অলআউট হয় দলটি। সাদা-কালোদের কাছে হারে ২০ রানে। মোহামেডানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম অপু, এনামুল হক জুনিয়র, মুশফিক হাসান ও খালেদ আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান : ২৪০/৯ (রিয়াদ ৭১, মজিদ ৬৩; টিপু ৩/৩১)
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স : ২২০/১০ (মেহেরব ৬৩, মারুফ ৪২: নাজমুল অপু ২/২৪)
ফল : মোহামেডান ২০ রানে জয়ী