প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৩ ১১:৪৬ এএম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৩ ১১:৪৯ এএম
মানুষ নাকি মেশিন- আর্লিং হালান্ডকে নিয়ে এমন একটি জিজ্ঞাসা ফুটবলপাড়ায় বেশ জোরালো। তবে কান পাতলে এও শোনা যায় নরওয়েজিয়ান সেনসেশন ‘ গ্রেট’ হয়ে গেছেন অথবা মহাতারকাদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার যেভাবে এগোচ্ছেন সেটা ধরে রাখলে একসময় গ্রেটদের কাতারে যাবেন নিশ্চিত।
আরও পড়ুন : মেসিকে চাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
কিন্তু তাকে আগেভাগেই সেরাদের কাতারে বসানো হচ্ছে বলে মনে করেন লেস ফার্ডিনান্ড। সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ডের মতে, সামর্থ্য আছে হালান্ডের কিন্তু অনেক পথ বাকি এখনও।
গোল করে একের পর এক রেকর্ড গড়া হালান্ডকে ধারাবাহিক হতে হবে বলে মনে করেন ফার্ডিনান্ড, ‘হালান্ডকে গ্রেট বলা একটু তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। গ্রেট খেলোয়াড়রা বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে সামর্থ্য দেখিয়েছে। এই মৌসুমে হালান্ড সেটা করেছে এবং চলতি মৌসুমে সে অসাধারণ খেলছে। কিন্তু তাকে বিচার করা হবে বছরের পর বছর ধরে সে কেমন করবে, সেটার ভিত্তিতে।’
গত গ্রীষ্মের দলবদলে ইতিহাদে আসার পর নিজেকে গোলমেশিনের রূপান্তরিত করেছেন হালান্ড। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এরই মধ্যে জাল খুঁজে পেয়েছেন ৫১ বার। তার আগে প্রিমিয়ার লিগের কোনো খেলোয়াড় এক মৌসুমে গোলের ফিফটি করতে পারেননি। লিগেও রেকর্ড গড়েছেন হালান্ড, ৩১ ম্যাচে পেয়েছেন ৩৫ বার জালের দেখা। প্রিমিয়ার লিগ যুগ শুরুর পর এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এটিই।
এতসব রেকর্ড গড়া হালান্ডের কিংবদন্তিদের কাতারে যাওয়ার সামর্থ্য আছে বলে মানেন ফার্ডিনান্ড। তবে সাবেক ইংলিশ তারকার মতে ধারাবাহিকতাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি, ‘মনে হচ্ছে হালান্ড ধারাবাহিক হতে পারবে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিক না হচ্ছে ততক্ষণ তাকে গ্রেট স্ট্রাইকারদের কাতারে রাখা কঠিন।’
প্রিমিয়ার লিগে ইতিমধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার বনে গেছেন হালান্ড। ছাড়িয়ে গেছেন অ্যালান শিয়ারার ও অ্যান্ড্রু কোলকে। এবার আরেকটি রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় নরওয়ের বিষ্ময়। এক মৌসুমে গোল করানোর তালিকায়ও কোল ও শিয়ারা ছিলেন সবার ওপরে। ১৯৯৩–৯৪ মৌসুমেই নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে ৪৭ গোলে অবদান রেখেছিলেন কোল। নিজে করেছিলেন ৩৪ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন ১৩টি।
সব মিলিয়ে ৪৭টি গোলের অবদান। এক মৌসুম পর কোলের কীর্তির ছুঁয়ে ফেলেছিলেন শিয়ারার। তাদের ওই রেকর্ড ভাঙতে লিগের বাকি ৫ ম্যাচে আর ৬টি গোলে এসিস্ট করতে হবে হালান্ডকে। ৩১ ম্যাচে হালান্ডের অবদান ৩৫ গোল ও সাত এসিস্ট, মোট ৪২টি গোলের কারিগর সিটির এই স্ট্রাইকার।