প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৩ ১৩:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের রেকর্ড শিরোপাজয়ী আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে ধারে-ভারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কোনো তুলনাই চলে না। তবু লিগের সবশেষ ম্যাচে যখন মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, শেষ হাসিটা হেসেছিল মুক্তিযোদ্ধাই; লিখেছিল আরও একটা পুঁচকে ডেভিডের গোলিয়াথ-দৈত্য বধের গল্প। সে গল্পটা আবারও লেখার উপলক্ষ পরের ম্যাচেই পেয়ে যাচ্ছে দলটা। তবে এবার চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। টানা তিনবারের লিগজয়ী, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস যে সামনে এবার!
আরও পড়ুন : ‘পরিবার সায় দিলে আল হিলালে খেলবেন মেসি’
কোচ অস্কার ব্রুজনের বসুন্ধরা অতীতের মতো এবারও লিগ জয়ের দুয়ারে। ১৩ ম্যাচে ১২ জয়, এক ড্রয়ে পয়েন্ট অর্জন করেছে ৩৭, সুযোগ আছে এবার অপরাজিত হিসেবে লিগ জেতারও। কিছু দিন ধরে সবার সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েও দিচ্ছে দলটা।
লিগের দ্বিতীয় মৌসুমের শুরুতে ড্র করার পর টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে চারটি করে গোল। যে দুই দল ফর্টিস আর রহমতগঞ্জের বিপক্ষে চারটি করে গোল করেছে বসুন্ধরা, তারা আবার পয়েন্ট টেবিলে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবেশীই। ফর্টিস আছে সাতে, নয়ে আছে রহমতগঞ্জ; দুই দলের মাঝে অষ্টম অবস্থানে আছে মুক্তিযোদ্ধা। তবে কি ফর্টিস আর রহমতগঞ্জের পর এবার মুক্তিযোদ্ধার পালা?
ট্র্যাক রেকর্ড বলছে, উত্তরটা হবে ‘না’। কেন? কারণটা মুক্তিযোদ্ধার ফর্ম, বিশেষ করে জায়ান্টদের বিরুদ্ধে। সবশেষ ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডকে হারিয়েছে, এর ঠিক আগের ম্যাচে শেখ জামালের কাছ থেকে একটা পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছিল এই মুক্তিযোদ্ধা। এখানেই শেষ নয়, বসুন্ধরার বিপক্ষে দলটির চলতি মৌসুমের পারফরম্যান্সও জানান দিচ্ছে, শিরোপাধারীদের কাজটা সহজ হবে না আদৌ।
চলতি মৌসুমে একটা দলই বসুন্ধরার বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে আগে গোল করতে পেরেছে। নামটা আন্দাজ করতে পারেন? এই মুক্তিযোদ্ধাই সেই দল। তাও এক ম্যাচে নয়, দুই ম্যাচে কাজটা করে দেখিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ পর্যন্ত চলতি মৌসুমে মুক্তিযোদ্ধা বসুন্ধরার মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। গোল করেছে প্রতিটি ম্যাচেই, ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে তো করেছিল তিন তিনটি গোলই! একটাও জয় পায়নি মুক্তিযোদ্ধা, বসুন্ধরার বিপক্ষে এই মৌসুমে কেউই জেতেনি; কিন্তু বসুন্ধরার বিপক্ষে প্রতি ম্যাচেই গোল করার ট্র্যাক রেকর্ড তো আবাহনীরও নেই, ম্যাচের আগে এই তথ্যটা তাই মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়তি অনুপ্রেরণাই জোগাবে। সেই অনুপ্রেরণায় ভর করেই আজ ‘ডেভিড’ মুক্তিযোদ্ধা চাইবে আরও এক ‘গোলিয়াথ’ বধের কাব্য লিখতে; বধ না হোক, নিদেনপক্ষে রুখে হলেও যে দিতে চাইবে মুক্তিযোদ্ধা, তা বলাই বাহুল্য।