প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ২১:৫১ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ০০:০৬ এএম
মাসখানেক আগে পাকিস্তান সুপার লিগে নিষিদ্ধ সারোগেট (গর্ভ ভাড়া করা) ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ইসলামি অনুশাসন মেনে চলা পাকিস্তানে জুয়ার প্রতিষ্ঠান, অ্যালকোহল, শূকরের মাংস ও পর্নগ্রাফির ওয়েবসাইটের প্রচারণাও নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন : কোহলি-রোহিতদের ‘ব্যাট-ডক্টর’ রাজশাহীর শাহিন
পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে যাওয়ার কারণে এসব বিষয়ে নানা সময়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। সেই বিড়ম্বনা থেকে আপাতত তাদের মুক্তি দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। কাউন্টিতে খেললেও এখন থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আর এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আসতে হবে না।
কাউন্টিতে খেলতে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডে যাওয়ার তালিকা বেশ লম্বা। সাবেক প্রায় সব তারকা ক্রিকেটার সেখানে খেলতে মুখিয়ে থাকতেন। এবারও পাকিস্তান থেকে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার কাউন্টির বিভিন্ন ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। হাসান আলি, মোহাম্মদ আব্বাস, আজহার আলি, হায়দার আলি ও সৌদ শাকিলরা খেলছেন কাউন্টি ক্রিকেটে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে সেখানে যাওয়ার কথা আছে শাহিন শাহ আফ্রিদি-শাদাব খানের।
ক্রিকেট বাণিজ্যিকীকরণের কারণে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনে থাকতে হতো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের। এতে তারা পড়েছিলেন বড় সমস্যায়। বিতর্কিত পণ্যের প্রচারে অংশ নেওয়ার কারণে পাকিস্তানের মানুষ তাদের খুব একটা ভালো চোখে দেখত না। কিন্তু কাউন্টি ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় বিতর্কিত পণ্যের প্রচারে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল না হাসান-হায়দারদের। সেটা করলে আবার নিজ দেশে পড়তে হতো সমালোচনার খগড়ে। সেই ঝামেলা মিটিয়ে দিয়েছে ইসিবি। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এসব নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে ‘না থাকার’ স্পেশাল অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে বিতর্কিত এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন চাইলে এড়িয়ে যেতে পারবেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
এক্সপ্রেস নিউজকে সূত্র জানিয়েছে, কাউন্টিতে চুক্তিবদ্ধ পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ সারোগেট ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বর্জন করতে পারবেন, পাশাপাশি অ্যালকোহলের প্রচারেও নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারবেন। তারা শূকরের মাংস অথবা পর্নসাইটের বিজ্ঞাপন থেকেও সরে যেতে পারবেন। এই নিয়ম কাউন্টির সব ক্লাবই মেনে চলবে।
কাউন্টিতে খেলা পাকিস্তানের এক ক্রিকেটার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, কাউন্টি ক্রিকেটে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে কোনোরকম আঘাত দেওয়া হয়নি। নিষিদ্ধ পণ্যের প্রচারে কেউ তাকে জবরদস্তিও করেননি। রমজানে বরং সুযোগ-সুবিধা আরও বেশি ছিল।