বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫২ এএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫৫ এএম
দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচটা জিতেছে। ‘ডি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের লড়াইটা তাই পরিণত হয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। জিতলেই মিলবে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট।
আরও পড়ুন : আইপিএলের ১০০০তম ম্যাচে রাতে মুখোমুখি মুম্বাই-রাজস্থান
রুমা আক্তারদের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না প্রথম ম্যাচেও। তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে সে ম্যাচে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল বেশ। প্রতিপক্ষের জালে ৬ গোল জড়িয়ে বাংলাদেশের মেয়েরাও দিয়েছেন তার প্রতিদান। স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তাই আগ্রহটা বেড়েছে বৈ কমেনি একটুও।
সে আগ্রহের আভাসটা মিলছে ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে। ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগেই শেষ জালান বেসার স্টেডিয়ামের ৬০০০ টিকিটের সব। তবে স্বাগতিক দলের খেলা যেহেতু, সে টিকিটের কিছু অংশ যে সিঙ্গাপুরীদের দখলেও গেছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে প্রথম ম্যাচে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, শেষ ম্যাচেও তাদের উপস্থিতি থাকবে বেশ। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের দল তাদেরই জয়টা উপহার দিতে চায়।
তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কাজটা সহজ নয়। ২৮ এপ্রিল সিঙ্গাপুর নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে। তুলে নিয়েছে ৭-০ গোলের জয়। সে ম্যাচটা বাংলাদেশ দল দেখেছে মাঠে বসেই, প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে ধারণাটা নিতে হতো যে! তবে ম্যাচটা দেখে বাংলাদেশ জেনে গেছে, সিঙ্গাপুর দল হিসেবে বেশ ভালোই।
গোলাম রাব্বানী ছোটনের দলের অভিজ্ঞতার ঝুলিটা অবশ্য বেশ ভারী। গেল মার্চেই তো দল খেলেছে রাশিয়া, ভারতের মতো দলের বিপক্ষে! তাই রুমা আক্তাররা আত্মবিশ্বাসী বেশ।
কোচ জানালেন, স্বাগতিকদের বিপক্ষে পরিকল্পনাটাও ছকে ফেলেছেন ইতোমধ্যেই।
ছোটনের কথা, ‘সিঙ্গাপুর ভালো দল। বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে যারা টেকনিক্যালি খুব ভালো। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই সাজিয়ে ফেলেছি। টিম মিটিং হয়েছে। সেখানে মেয়েদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা তা বুঝতে পেরেছে।’
বয়সভিত্তিক পর্যায়ের এই দলটা নিয়ে বাংলাদেশ নারী দলের কোচ খেলেন লং বলের কৌশলে। প্রতিপক্ষ ‘হাই লাইন’ রক্ষণ নিয়ে খেললে তার পেছনে ফেলে আসা ফাঁকা জায়গাটাই লম্বা বলে দখলে নিতে চায় অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। সিঙ্গাপুরের মতো আক্রমণাত্মক দলের বিপক্ষেও তা-ই খেলতে চায় বাংলাদেশ। কোচ বললেন, ‘আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলব। এটা পরিষ্কার যে, আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’
বাংলাদেশ খানিকটা বাড়তি সুবিধাও পেয়েছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচটা রুমারা খেলেছেন গত ২৬ এপ্রিল। এরপর দল তিন দিন সময় পেয়েছে পরের ম্যাচের প্রস্তুতির। কোচ ছোটন বললেন, ‘শেষ ম্যাচে মেয়েরা পুরো ৯০ মিনিট একই ছন্দে ফুটবল খেলেছে, ভালো খেলেছে। সে ম্যাচের পর আমরা যে সময়টা পেয়েছি, তাতে আমাদের রিকভারিটা বেশ ভালো হয়েছে।’
বাংলাদেশকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে ইতিহাসও। সবশেষ অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড তো খেলেছেই, মূলপর্বেও ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের উপস্থিতি। রুমা আক্তাররা আজ দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার ম্যাচে নামার আগে তাই অনুপ্রেরণা নিতে পারেন পূর্বসূরিদের কাছ থেকেও।