প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১২:০১ পিএম
বিদেশের মাটিতে প্রথম ম্যাচ। প্রত্যাশার চাপ ছিল, সঙ্গে ছিল অচেনা কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জও। তবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল সব চ্যালেঞ্জ জয় করেছে অনায়াসেই। জোড়া গোল করে তাতে বড় অবদানই রেখেছেন থুইনু মারমা। তাতেই বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানকে হারিয়েছে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
আরও পড়ুন : স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩০ এপ্রিল সে ম্যাচ
তবে কাজটা এখনও শেষ হয়ে যায়নি কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের দলের। মূল লক্ষ্য যে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা, সেটা যে এখনও বাকি! স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৩০ এপ্রিল সে ম্যাচ। জোড়া গোল করে প্রথম ম্যাচ জয়ের নায়ক থুইনু জানালেন, এবার করতে চান হ্যাটট্রিক।
তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে থুইনু দুই অর্ধে করেছিলেন দুটো গোল। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে উঠে যেতে না হলে হয়তো হ্যাটট্রিকটাও করে বসতেন। সে আক্ষেপটা পরের ম্যাচে ঘোচাতে চান থুইনু। বাফুফের ভিডিওবার্তায় তিনি জানালেন, ‘আগামী ম্যাচে ইচ্ছা আছে হ্যাটট্রিকের। চেষ্টা করব নিজের সেরা নৈপুণ্যটা দেখানোর।’
তবে পথটা সহজ ছিল না। দেশের বাইরে প্রথম ম্যাচ বলে কথা! অচেনা পরিবেশে পেয়েছেন দেশীয়দের সমর্থন। পরের গল্পটা তো সবারই জানা! থুইনু জানালেন জোড়া গোল করেছেন, দলও জিতেছে, স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত তিনি, ‘প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে খেলতে এসেছি। এসেই দেখেছি এখানে আমাদের অনেক সমর্থন, অনেক দর্শক এসেছিলেন আমাদের খেলা দেখতে। এসেই দুটো গোল করতে পেরেছি, সেটা দলের উপকারে এসেছে… দলকে জেতাতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে।’
অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতিটা বাংলাদেশ নেওয়া শুরু করেছে সাফেরও আগে। সাফে দল ভালো করতে পারেনি। বিশেষ করে ফিনিশিং নিয়ে কথা উঠছিল বেশ। থুইনুর জোড়া গোল, বাংলাদেশের ছয় গোল জানান দিচ্ছে, সে নিয়েও কাজটা হয়েছে ভালোই।
সেটা থুইনুর কথাতেও উঠে এলো। তার ভাষ্য, ‘সাফ থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের প্রস্তুতি। সেখানে আমাদের, আমার নিজের কিছু ভুল ছিল, সেগুলো শুধরে এসে পারফর্ম করতে পেরেছি, দুই গোল করতে পেরেছি, জিততে পেরেছি। সব মিলিয়ে ভালো লাগা কাজ করছে।’
মাঠে পারফর্ম করেছে দল। দূর পরবাসে সেটা দর্শকরা দেখেছেন গ্যালারিতে এসে। সেটা মুগ্ধ করেছে গোটা দলকেই। দলের সহ-অধিনায়ক জয়নব বিবি রিতার কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘কালকের (বুধবারের) ম্যাচটা অনেক ভালো ছিল। তবে যে বিষয়টা ভালো লেগেছে তা হচ্ছে দর্শকদের উপস্থিতি। তুর্কমেনিস্তান ম্যাচে অনেক দর্শক আমাদের সমর্থন দিতে মাঠে এসেছিলেন। আশা করছি পরের ম্যাচেও তারা আমাদের সমর্থন দিতে আসবেন।’ দলের সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অনন্যাও কথা বললেন একই সুরে। তার কথা, ‘বিদেশের মাটিতে এসেও দেশের মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। আশা করছি ৩০ এপ্রিলের ম্যাচে আরও সমর্থন পাব।’
আরেক গোলদাতা সুরভী আকন্দ প্রীতি চোট পেয়েছিলেন প্রথম ম্যাচে। তবে শেষ ম্যাচে তাকে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী দল। অনন্যা জানান, ‘সুরভীর অ্যাঙ্কেলে ব্যথা আছে। আশা করছি ৩০ এপ্রিল আমাদের শেষ ম্যাচের আগে আমরা তাকে ফিট পাব।’