নেয়ামত উল্লাহ
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৩৭ এএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৪৩ এএম
শেষ তিনবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবারও আছে লিগের শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনীর সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধানটা বড়, সাত। অপরাজিত লিগের হাতছানিও আছে দলটির সামনে। দলের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে বড় অবদানই রেখেছেন দলটির সহ-অধিনায়ক রবসন রবিনহো। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন তার দল, নিজের পারফরম্যান্স, লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বসুন্ধরা কিংসের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের ভাবনা।
আরও পড়ুন : মাহমুদউল্লাহকে তাহলে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েই দিল বিসিবি!
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : শেষ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আপনারা। এবারের মৌসুমেও আছেন লিগের শীর্ষে। এখন পর্যন্ত দলের পারফরম্যান্সকে কীভাবে দেখছেন?
রবসন রবিনহো : আমরা খুব ভালো কাজ করছি। আমরা একটা দল হিসেবে বেশ ভালো খেলছি। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত আমরা যেমন খেলছি, তাতে আমি বেশ খুশি। একটা ম্যাচ বাদে আমরা সব খেলায় জিতেছি, ওই একটা ম্যাচ ড্র হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য, ক্লাবের জন্য এ বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই তীব্রতাটাই ধরে রাখতে চাই। কঠোর পরিশ্রম করে ফল বের করে আনতে চাই।
প্রবা : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যেন আপনাদের ব্যবধানটা কমে আসছে। এবারের লিগে পয়েন্ট ব্যবধানটা তেমনই বলছে। তাতে কি চ্যালেঞ্জটা বাড়ছে আপনাদের?
রবসন : প্রতি মৌসুমে একটু একটু করে লিগটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। প্রত্যেকটা দলই এখন ভালো ভালো বিদেশি খেলোয়াড় আনছে। তাদের ফুটবল প্রকল্প আরও ভালো হচ্ছে। এটা দেশের ফুটবলের জন্য ভালো। আমরা খুব খুশি, কারণ আমরা সব সময় শিরোপার জন্য লড়ি। আপনি দেখছেন একটা দেশে একটা দলই সব সময় জিততে থাকে, কাজটা কিন্তু সহজ নয়। এর জন্য সবার কঠোর পরিশ্রম তো বটেই, একই রকমের মানসিকতা, মনোযোগটাও একই রকম থাকতে হয়।
প্রবা : দরিয়েলতন গোমেজ লিগে এখন পর্যন্ত শীর্ষ গোলদাতার আসনে আছেন। তার গোল ১১টি, আপনার ৮টি। তার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত কোনো লড়াই আছে শীর্ষ গোলদাতা হওয়ার ক্ষেত্রে?
রবসন : না, মোটেও না। আমার জন্য এটা মুখ্য নয়। আমি লিগটা জিততে চাই, দলকে জেতাতে চাই। এটা করতে গিয়ে কে সেরা গোলদাতা হলো, তা আমার কাছে মুখ্য নয়। দলকে জেতাতে যা প্রয়োজন, তা-ই করব। আমার মনোযোগ সব সময় দলকে জেতানোর দিকেই থাকে। ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলের জয়টাই আমাকে আনন্দ দেয় বেশি।
প্রবা : তার উপস্থিতিটা কি দল হিসেবে আপনাদের আরও ভালো করার সুযোগ এনে দেয়?
রবসন : তার উপস্থিতিটা আমাদের কাজটা সহজ করে দেয়। যেমন ধরুন, দলে একজন ভালো স্ট্রাইকার থাকলে প্রতিপক্ষের মনোযোগটা শুধু আমার ওপর আসে না, দরিয়েলতনের ওপরও যায়। তারা যদি তাকে মার্ক করতে যায়, তখন আমি ফাঁকা পড়ে যাই, এর উল্টোটাও হয়… যদি আমাদের দুজনের ওপর মনোযোগ দেয় প্রতিপক্ষ, তাহলে আমাদের দলে বিদেশি আরও আছে, স্থানীয় খেলোয়াড়রা থাকে যারা গোল করতে পারবে। তো সব মিলিয়ে কাজটা সহজই হয়ে যায়।
প্রবা : মাঝ মৌসুমের বিরতি থেকে ফিরেই পয়েন্ট খুইয়ে বসেছিল বসুন্ধরা। দীর্ঘ বিরতির কারণে মনোযোগটা একটু সরে গিয়েছিল?
রবসন : না, আসলে তা নয়। সে ম্যাচে তীব্র গরমের কারণে আমরা একটু রয়েসয়ে খেলছিলাম, যেহেতু আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। শেষ মুহূর্তে গোলটা হজম করে বসেছিলাম। তো এমনটা করা যাবে না, আমরা বুঝেছি। লিগটা জিততে হলে আর কোনো পয়েন্ট খোয়ানো চলবে না।
প্রবা : ঘরোয়া মৌসুম শেষ হওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগও অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য…
রবসন : এটা ক্লাবের জন্য, আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা এটা। সেখানে আমাদের জয়ের মনোভাব নিয়েই যেতে হবে, জেতার চেষ্টা করতে হবে। হ্যাঁ, মানছি কাজটা সহজ নয়, কিন্তু আমাদের দলে বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে, কোচিং স্টাফও; সঙ্গে ক্লাবের সমর্থনটাও আছে বেশ। তো সব নিয়ে আমরা সেখানে জেতার জন্যই যাব।