চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:৫৮ পিএম
পরিসংখ্যান তো পক্ষে আছেই, রিয়াল মাদ্রিদ যে ফুঁসে আছে তার প্রমাণ দিচ্ছে ক্লাবটির শেষ ৫ ম্যাচ। চার জয়ের বিপরীতে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের একটি হার। করিম বেনজেমা-ভিনিসিউসরা শেষ ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন গুনে গুনে ১৬ বার। সেখানে থিবো কুর্তোয়াকে প্রতিপক্ষ ফাঁকি দিতে পেরেছে মোটে তিনবার। ভিয়ারিয়াল বাদে বাকি চার ম্যাচে ক্লিনশিট ধরে রেখেছিলেন রিয়ালের গোলপ্রহরী। তাই তো আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছেন কুর্তোয়া, চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে নামার আগে চেলসিকে থ্রেটটা তার পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন - আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়
নড়বড়ে চেলসি অবশ্য কতকিছু করল— এক এক করে তিনজন কোচ বদলাল, খরচ করা হলো কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ। কিন্তু ফল ঘুরছে একই বৃত্তে। নব্বই মিনিট খেলার পর ব্লুজদের কপালে হয় হার, নয়তো গোলশূন্য ড্র। গোল খরায় ভুগতে থাকা চেলসি সবশেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে, অন্যটিতে ড্র। প্রতিপক্ষ যেখানে শেষ ৫ ম্যাচে ৭ বার তাদের জালে বল জড়িয়েছে, সেখানে ব্লজদের গোলসংখ্যা মোটে একটি। চলতি মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবটির প্রতিচ্ছবিও এটা।
তবে আজ রাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চে আশা দেখতেই পারেন ফ্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তেমনই আশা দেখেছিলেন চেলসি ডাগআউটের নতুন বস। চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচ বলেছিলেন, ‘ফলটাই বাস্তব। স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে বিশেষ কিছু হতেই পারে। ওরা অবশ্যই ভালো দল। তবে আমাদেরও বিশ্বাস রাখতে হবে। আরেকটু ইতিবাচক থাকতে হবে। বড় লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছি।’
ইংলিশ ডেরায় লড়াইটা যে খুব একটা বড় হবে না, তার নিশ্চয়তা আগেই দিয়ে দিয়েছেন রিয়ালের গোলরক্ষক কুর্তোয়া। মূলত কার্লো আনচেলত্তির দলের হয়ে থ্রেটটাও দিয়েছেন তিনি। লা লিগায় কাদিজের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের পর বেলজিয়ান তারকা বলেছিলেন, ‘জয় পেয়ে আমরা খুশি। আরও গোল করা উচিত ছিল। আশা করছি, চেলসির বিপক্ষে আমরা গোল জমিয়ে রেখেছি।’
বার্নাব্যুতে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল ফরোয়ার্ডদের আক্রোশপূর্ণ মনোভাবে পড়েছিল চেলসি। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০টির বেশি গোল করাদের তালিকায় আছে রিয়ালের ৫ তারকা। ব্লুজদের মূলত গোল শোধ করার পাশাপাশি আটকাতেও হবে বেনজেমা-ভিনি-রদ্রিগোদের আক্রমণ। ছক কষতে হবে ভালভার্দে, অ্যাসেনসিওকে নিয়েও।
পরিসংখ্যান মতে, এখন পর্যন্ত আটবার মুখোমুখি দেখায় চেলসিকে দুবার হারাতে পেরেছে রিয়াল, যা চেলসির রেকর্ড। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির বিপক্ষে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে এমন ইউরোপের ক্লাবের ভেতর চেলসির জয়ের হারও ২০ শতাংশের ওপর, যা ব্লুজদের জন্য সর্বোচ্চ।
গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগেও অনেকটা এমন হয়েছিল। শীর্ষ চারে উঠতে প্রথম লেগে চেলসির চেয়ে ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ফিরতি লেগে একসময় ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। ঘরের মাঠে ওই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারলেও ৫-৪ ব্যবধানে পরের ধাপে পা ওঠে রিয়ালের, ফাইনালে সেবার লিভারপুলকে হারিয়ে জেতে শিরোপা।
চেলসি কোচ ল্যাম্পার্ডের আশা ঘরের মাঠ বলে, সেখানেই সতর্ক রিয়াল। অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে দলকে সতর্ক করেছেন ভিনিসিউস। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইংলিশ ক্লাবটির বিপক্ষে সবশেষ চার দেখায় জয় তুলে ম্যাচে এগিয়ে থাকবে রিয়াল। বেনজেমা, ভিনিসিউসদের আক্রমণ আর মাঝমাঠে টনি ক্রুস, লুকা মদ্রিচদের বাধা এবং সবশেষে রক্ষণের শক্ত দেয়াল ও থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করতে হবে গোলখরায় ভোগা চেলসিকে। তাও গুনে গুনে চারবার। সেটা হলে কিংবা না হলেও মিলবে উত্তর। ইউরোপ সেরার সেমিতে যাচ্ছেন কারা, আজ রাতেই আসছে উত্তর।