প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ০০:০১ এএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ০২:৫৩ এএম
অথচ ফল বলছে ভিন্ন কথা! চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরে বরং আক্ষেপে পোড়ার কথা চেলসির। মৌসুমজুড়ে ক্লাবটি সেখানে ভস্মের মাঝে খুঁজছে লড়ার রসদ। এদিকে সেমির মঞ্চ প্রস্তুতে যোগ-বিয়োগের খেরো খাতায় এগিয়ে থাকলেও কার্লো আনচেলত্তির রিয়াল মাদ্রিদ কিছুটা নাখোশ- নাহ, ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। মূলত প্রথম লেগেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি।
আরও পড়ুন : বয়সভিত্তিক দলে নতুন নির্বাচক অপি
পোড়াটাও স্বাভাবিক। বুধবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বল দখল, আক্রমণ কিংবা গোলে শট- প্রতিটি বিভাগে দাপট দেখিয়েছে বেনজেমা-ভিনিসিয়ুসদের দল। ঘরের মাঠে ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৫ বার গোলে শট নিয়েছিল, যার ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের এমন আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রমাণ করে স্টাম্পফোর্ড ব্রিজেও ধার এমনই থাকবে। সেই জায়গায় আশা দেখছেন চেলসির কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। হেরে গেলেও শিষ্যদের পারফর্মে মুগ্ধ ব্লুজদের নতুন বস। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় লেগে রিয়ালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরের পর্বের সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
‘রিয়ালের মতো একটি দলের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো বড় চ্যালেঞ্জের। তবে দুয়ার এখনও খোলা। পরের সপ্তাহে সেই দুয়ার খুলতে পারি কি না, সেটা পুরোটা নির্ভর করছে আমাদের ওপর।’ চেলসি বসের মতে, টানা চার ম্যাচে গোল না পাওয়া বা পারফরম্যান্সে ঘাটতি থাকলেও রিয়ালের বিপক্ষে দাপুটে খেলার কথাই বলেছেন। ল্যাম্পার্ডের আশা, পরের লেগে ঘরের মাঠে বিশেষ কিছু করবে ব্লুজ ক্লাব।
চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচ বলেছেন, ‘ম্যাচে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আছে আমাদের। তবে ফলাফলটাই হলো বাস্তব। মাত্রই আমি ছেলেদের বলে এলাম যে, স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে বিশেষ কিছু হতেই পারে। ওরা অবশ্যই অনেক ভালো দল। তবে আমাদেরও বিশ্বাস রাখতে হবে। আরেকটু ইতিবাচক থাকতে হবে। পরের সপ্তাহে বড় লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছি।’
বার্নাব্যুতে ম্যাচটা করিম বেনজেমার ছিল। মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচ তিনি রাঙিয়েছেন গোলে। ২১তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দানি কারভাহালের বল ভিনিসিয়ুসের পা হয়ে আসে বেনজেমার পায়ে, ফাঁকা পোস্টে বলটা জালে জড়াতে কোনো সমস্যাই হয়নি রিয়াল টেসলম্যানের। চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রেঞ্চ তারকার এটি ৯০তম গোল। তার সামনে এখন শুধু লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য রিয়ালকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত। চেলসি এ সময় বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিল সমতা ফেরানোর। তবে কাজে লাগাতে পারেনি একটিও। ৬০ মিনিটে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নিয়ে এগোতে থাকা রদ্রিগোকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বেন চিলওয়েল। ১০ জনে পরিণত হওয়া চেলসি ম্যাচটা খুইয়ে বসেছে তখনই। আর সেখানেই আক্ষেপ রিয়াল কোচ আনচেলত্তির।
এগিয়ে থাকলেও এখনই সেমিফাইনালে ওঠার উদযাপনে মাততে চান না মাদ্রিদের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোচ, ‘পারফরম্যান্স ও ম্যাচের ফল নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে লড়াই এখনই শেষ নয়। আরও ৯০ মিনিটের লড়াই বাকি আছে। সেটির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। ওরা ১০ জনের দল হয়ে যাওয়ার পর হয়তো আমাদের আরও বেশি কিছু করা উচিত ছিল, শেষদিকে আমাদের প্রাণশক্তির কিছুটা ঘাটতিও ছিল। তবে আমরা সন্তুষ্ট। স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে এই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তিই করতে হবে আমাদের।’