প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৩৪ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৩৭ পিএম
কোয়ার্টার ফাইনালের ড্রয়ের পর থেকেই এই লড়াই নিয়ে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। সময়ের অন্যতম দুই সেরা দল বায়ার্ন মিউনিখ আর ম্যানচেস্টার সিটি যে মুখোমুখি হতে চলেছে! সে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে আজ, ম্যানসিটির মাঠ ইতিহাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের লড়াইয়ে আজ মাঠে নামবে দুই দল।
আরও পড়ুন- জিরোনায় আটকাল শীর্ষে থাকা বার্সা
শেষ কয়েক মৌসুমে দুই দল নিজেদের লিগের সেরা। বায়ার্ন সবশেষ দশ মৌসুমে লিগ শিরোপা তুলেছে ঘরে। আর ম্যানচেস্টার সিটির লিগ সাফল্য টানা দুই মৌসুমের; সবশেষ পাঁচ মৌসুমে মোটে একবার শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে তাদের। কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচ নিয়ে আকর্ষণের এটাও বড় একটা কারণ।
ইউরোপীয় ফুটবলে এটি দুই দলের সপ্তম সাক্ষাৎ। এর আগের ছয় সাক্ষাতে তিনবার করে জিতেছে দুই দলই, ড্র হয়নি একটি ম্যাচও। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আজকের ম্যাচটাও শেষ হবে সাম্যাবস্থায় থেকে, সম্ভাবনাটা ক্ষীণ।
ফল যদি একটা আসেই, ইতিহাস তাতে এগিয়ে রাখছে ম্যানচেস্টার সিটিকেই। নিজেদের মাঠে সিটি বায়ার্নের বিপক্ষে খেলেছে তিন ম্যাচে, যার শেষ দুটোতেই জিতেছে দলটি। সবশেষ হেরেছিল ২০১৩ সালের অক্টোবরে, সেবার আবার বায়ার্নের কোচ ছিলেন গার্দিওলা নিজেই, তার দল জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। ইতিহাদে বায়ার্ন-সিটি দ্বৈরথ মানে শেষ হাসিটা গার্দিওলারই- বিষয়টা যেন এমনই!
তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে বায়ার্নের ইতিহাস আবার কথা বলছে জার্মান পরাশক্তির পক্ষেই। ২০০৫ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মাটিতে টানা চার ম্যাচে জেতা হয়নি বায়ার্নের। তবে এরপর থেকে শেষ দশ ইংল্যান্ড সফরের ছয়বারই শেষ হাসি হেসেছে বায়ার্ন, হেরেছে মোটে দুটোতে। শেষ চার ম্যাচে তাদের রেকর্ডটা তো আরও ভালো, জিতেছে তিনটিতেই।
তবে জার্মান দলের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির ফর্মটাও বেশ ভালো। নিজেদের শেষ ১০ হোম ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মানদের বিপক্ষে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের সবশেষ ম্যাচেই তো, আরবি লাইপজিগকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল গার্দিওলার শিষ্যরা। তেমন কিছু না হলেও একাধিক গোলের জয় যে আজকেও চাইবেন সিটির স্প্যানিশ কোচ, তা আর আলাদাভাবে বলে দিতে হয় না।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের সবশেষ ৮ ম্যাচে জিতেছে সিটি। এর এক ক্রিস্টাল প্যালেস ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই একাধিক গোল করেছে সিটিজেনরা। সবশেষ দুই ম্যাচে জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে, এর মধ্যে লিভারপুলও আছে সিটির শিকার হিসেবে।
এই ম্যাচে বায়ার্ন আসছে এক ম্যাচের জয় নিয়ে। এক ম্যাচ আগেই ফ্রেইবুর্গের কাছে ঘরের মাঠে ২-১ গোলের হার দলটির বিদায় নিশ্চিত করে দিয়েছে জার্মান কাপ থেকে।
সঙ্গে যোগ করুন দলটির নতুন কোচ থমাস টুখেলকেও। দলের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি বেশিদিন হয়নি। ঠিক এই সময় পেপ গার্দিওলার সিটির মুখোমুখি তিনি। দুই লেগের লড়াই বলে এই ম্যাচে খানিকটা দলের, প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণও থাকবে তার ‘টু ডু লিস্টে’।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে জয়টাই দুই দলের চূড়ান্ত চাওয়া থাকবে- তা বলাই বাহুল্য।