প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ০০:৪০ এএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ০০:৪৬ এএম
কথার লড়াইয়ে নেমেছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন। শুরুটা হয়েছিল বাফুফে সভাপতির পক্ষ থেকে। গতকাল বাফুফে সভাপতির কথার উত্তর দিয়েছেন বিসিবিপ্রধান। শুধু উত্তর নয়, রীতিমতো খোঁচা মেরেছেন পাপন।
আরও পড়ুন : প্রাইম ব্যাংকের সহজ জয়
আরও পড়ুন : আইপিএলে ক্যারিয়ার শেষ সাকিবের!
মিয়ানমারে বাংলাদেশ নারী দলকে অলিম্পিক বাছাইপর্বে না পাঠানোর ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেন কাজী সালাউদ্দিন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীকে কেন জানানো হয়নি, এমন প্রশ্ন হয়েছিল। সেই উত্তরে সালাউদ্দিন বলেন, ‘সবার ব্যক্তিত্ব তো এক না। আমি তো লোক দেখিয়ে বলব না, এই প্রধানমন্ত্রী ফোন দিয়েছে। আমি ওই রকম না। আমি ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। আমি ওই নাটক করতে পারব না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। আমি লোক দেখাতে পারব না।’
এই নিয়েই শুরু হয় দুই সংস্থার প্রধানের কথার লড়াই। সালাউদ্দিনের উত্তরের জবাবে নাজমুল হাসান পাপন বলেন- ‘দেখেন, সাধারণ জিনিস। প্রথম কথা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফোন করলে আমি যেখানেই থাকি, যে অবস্থায় থাকি ফোন ধরবই। আমি জানি না এটা নিয়ে কেন বলেছে। এ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
এই প্রশ্নের জন্য সাংবাদিকদের দায় দেখেন তিনি। সালাউদ্দিনকে অর্থ বিষয়ক প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারবেন না সেটাও মনে করেন পাপন, ‘আমার মনে হয় সমস্যাটা আপনাদের, আপনারা এত বাজে প্রশ্ন করলেন কেন। আপনারা হিসাব চাচ্ছেন, টাকা কী করছে? এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে যান কেন? এটা করলে তো উনার মাথা খারাপ হবে এটা সবাই জানেন। এমন প্রশ্ন করেন কেন? করলে মাথা ঠিক থাকবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সব ফুটবলার... ফুটবল ব্যাকগ্রাউন্ড মানেই কী নির্লজ্জ, বেহায়া, অহংকারী এটা বলা যাবে? তো? ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে সম্পর্ক কী আমি জানি। এটা ব্যক্তির ব্যাপার। তবে আপনারা এসব প্রশ্ন না করাই ভালো।’
কাজী সালাউদ্দিনের কথায় পাপনের কিছু যায় আসে না তার। সেটাও স্পষ্ট করেছেন পাপন, ‘আমার কাছে খারাপ লাগছে যত কিছুই হোক, যে যত কথাই বলুক- আমার এগুলো নিয়ে প্রশ্নই উঠে না মন খারাপ হওয়ার, চিন্তা করার। কে বলছে সেটা আসলে বড় কথা। এ ধরনের লোক বললে কিছু যায় আসে না।’
অলিম্পিকের বাছাইপর্বে নারী দল যেতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী হতাশ হয়েছেন সেটাও মনে করেন তিনি। যে কারও কাছে গিয়ে চাইলে মেয়েদের জন্য আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যেত, এটাও মনে করেন পাপন। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো মেয়েরা যেতে পারল না। মাত্র ২০ লাখ টাকার (মূলত ৬০ লাখ) জন্য। এর চেয়ে দুঃখ, কষ্ট... মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী কষ্টটাই না পেয়েছেন। আপনারা চ্যানেলগুলো আছেন না, যেকোনো চ্যানেলের মালিকের কাছে গিয়ে বললেই দিয়ে দিত। একজনের কাছে বলতে তো হবে।’
কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে না পেলে ক্রিকেটারদের সাহায্য চাইলে সেখান থেকেও পাওয়া যেত বলে বিশ্বাস পাপনের। ‘বিশ্বাস করে আমি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, আমাদের প্লেয়াররা দিয়ে দিত। খালি বলত একবার। এ কী! এত গোপনে জিনিসটা রেখে, যে প্রসেসে করেছে এটা খুব দুঃখজনক।’ বাফুফের সদস্য ও কর্তাব্যক্তিদের কাছে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের চেয়ে বেশি টাকা আছে বলে মনে করেন পাপন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ে ফুটবল বোর্ডে যে পরিচালকরা আছে, অবিশ্বাস্য। ২০ লাখ টাকা দিতে পারে না।’
নারী ফুটবলারদের অলিম্পিক বাছাইপর্বে যেতে না পারাকে হতাশাজনক অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় অন্য কিছু আছে। আমি জানি না। এটা দুঃখজনক। দেশের জন্য এর চেয়ে বড় বদনাম হতে পারে না। আমরা বলছি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সারা পৃথিবী মেনে নিচ্ছে। সে জায়গায় আমরা বলছি ২০ লাখ টাকার জন্য আমাদের দেশের মেয়েরা প্রি অলিম্পিক (বাছাইপর্বে) খেলতে যেতে পারে না। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর হয় না। এজন্য এই টপিক নিয়ে কথা বলতে চাই না।’