প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ০৫:২১ এএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ০৫:২৪ এএম
২৭ রানে নেই চার উইকেট। ইনিংস হারের শঙ্কা মাথায় নিয়ে গতকাল মিরপুরে ব্যাটিংয়ে নামে আয়ারল্যান্ড। আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার পিটার মুর ও হ্যারি টেক্টর দেখেশুনে দিন শুরু করেন। মুর দলীয় ৫১ রানে ফিরলে আইরিশদের ইনিংস হারের শঙ্কাটা জোরালো হয়। দিনের শেষে শঙ্কাটা উবে যায় আইরিশ ব্যাটারদের দৃঢ়তায়। অভিজ্ঞতা কম হলেও দিনটা আইরিশদের জন্য স্বপ্নের। ইনিংস হারের শঙ্কা থাকলেও ব্যাটিং দৃঢ়তায় তা কাটিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন দেখাচ্ছে জয়ের স্বপ্ন।
আরও পড়ুন : ডোনাল্ডও জানেন না সাকিবের বোলিং না করার কারণ
আইরিশদের শঙ্কা কাটানোর শুরু ষষ্ঠ ও সপ্তম উইকেট জুটি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে থিতু হয়ে টেক্টর ও লরকান টাকার দলকে ধীরগতিতে এগিয়ে নেন। ওই জুটিতে বাংলাদেশের ব্যাকফুটে যাওয়ার শুরু। শেষ পর্যন্ত ইনিংস হারের শঙ্কায় থাকা আইরিশরা ১৩১ রানের লিড নিয়েছে। হাতে দুই উইকেট থাকায় চতুর্থ দিন সকালেও তাদের সামনে আছে লিড বাড়ানোর সুযোগ। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সফরকারীদের দুই ব্যাটার টেক্টর ও টাকার ১৪৫ বলে করেন ৭২ রান। ম্যাচের দুই ইনিংসেই তাদের ত্রাণকর্তা ছিলেন টেক্টর। দুই ইনিংসেই তার ব্যাটে এসেছে হাফসেঞ্চুরি। দ্বিতীয় সুযোগেও হাফসেঞ্চুরির পর ইনিংস থামলেও আইরিশদের লিড পাওয়ার ভিত্তিটা তিনিই গড়ে ছিলেন।
টেক্টরের পর মাঠে নামা অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইন যোগ্য সঙ্গী হয়ে ওঠেন লরকান টাকারের। যোগ্য সঙ্গ ও দারুণ মনোযোগী ব্যাটিংয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান আইরিশ উইকেটরক্ষক। টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ উইকেটরক্ষক ব্যাটার তিনি। আইরিশদের হয়ে সাদা পোশাকে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির মালিকও এই টাকার। সেঞ্চুরির পরপরই ইনিংস থামলেও দলের লিড বাড়িয়ে নেওয়ার কৃতিত্ব তার। ১০৮ রানের ওই ইনিংসে ছিল ১৪ চার ও ১ ছক্কা। তাকে দারুণ ক্যাচ নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যেতে সাহায্য করেন শরিফুল ইসলাম। পেসার এবাদতের করা অফস্টাম্পের বাইরের বল কাভার ড্রাইভ করলে এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে ক্যাচ নেন শরিফুল।
বিদায়ের আগে সপ্তম উইকেট জুটিতে ১১১ রান তোলেন টাকার ও ম্যাকব্রেইন। টেস্টে যেকোনো উইকেট জুটিতে এটি আইরিশদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগেরটি ছিল দেশটির অভিষেক টেস্টে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১৪ রানের ওই জুটি গড়েন কেভিন ও’ব্রায়েন ও স্টুয়ার্ট থম্পসন।
রেকর্ড জুটির পর টাকারের বিদায়েও ভেঙে পড়েনি আইরিশদের ব্যাটিং লাইনআপ। বাংলাদেশের ইনিংসে বল হাতে প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পাওয়া ম্যাকব্রেইন ব্যাট হাতেও হয়ে ওঠেন উজ্জ্বল। অষ্টম উইকেট জুটিতে ম্যাকব্রেইনের সঙ্গী থাকা মার্ক অ্যাডায়ার যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফেরেন। পরের দুই উইকেটে থাকা বোলাররা দ্রুতই ফিরবেন এমনটাই আশা ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের। সবাইকে অবাক করে দিয়ে আর কোনো আইরিশ ব্যাটারই প্যাভিলিয়নে ফেরেননি। রান করতে না পারলেও গ্রাহাম হিউম সঙ্গ দেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইনকে। এই স্পিনার ১৪৪ বলে ৭১ রান তোলেন। ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ১ ছক্কা।
অথচ গতকাল তৃতীয় দিনে প্রতিরোধ গড়া এই আইরিশরা দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকালে খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। দুই দিনে দুই ভিন্ন রূপ দেখালেন তারা। চতুর্থ দিনের শুরুতে ১৩১ রানের এই লিড আরও বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত আইরিশরা কোথায় থামে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ ইনিংসে জয়টা যে কঠিন হয়ে এসেছে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।