প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫২ পিএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:৫৩ পিএম
টি-টোয়েন্টিতে শেষ কিছু দিনে বাংলাদেশ রীতিমতো বদলে গেছে। যে ফরম্যাটে নিকট অতীতে রীতিমতো খাবি খেয়েছে দল, সেই ফরম্যাটে এই বদলে যাওয়ার পেছনে ভয়ডরহীন মানসিকতাই কাজ করেছে বেশি। শুরু থেকে আক্রমণের মন্ত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের লড়াইয়ে নামতে চায় দল। তবে শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুদ্রার উল্টো পিঠটাও বাংলাদেশ দেখে ফেলেছে। আইরিশদের কাছে হারতে হয়েছে বড় ব্যবধানেই।
আরও পড়ুন - ৯ অনুভূতির ভারত বিশ্বকাপের লোগো ‘নভরাসা’
ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে শুরু করে আয়ারল্যান্ড সিরিজ, শেষ কিছু দিনে বাংলাদেশ আক্রমণে উঠেছে একেবারে শুরু থেকেই। শেষ টি-টোয়েন্টিতেও তা-ই করতে চেয়েছিল দল। কাজে দেয়নি, তাতে শুরুর ছয় ওভারে খুইয়ে বসতে হয়েছে ছয় উইকেট। লিটন দাস থেকে শুরু করে সাকিব আল হাসান, প্রত্যেকটা ডিসমিসালে চোখ রাখলে অতি আক্রমণাত্মক ইনটেন্টেরই দেখা মেলে। লিটন অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বল পয়েন্টের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ডিপ পয়েন্টে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রনি তালুকদার, সাকিব আল হাসানদের সবাই ধরা পড়েছেন মিড উইকেট থেকে ডিপ মিড উইকেট অঞ্চলে। লক্ষ্য ছিল বড় শটেরই, ডিসমিসাল থেকে এটা অন্তত স্পষ্ট।
এ থেকে আভাস মিলছে দলের ইনটেন্টেরও। সাকিব আল হাসান থেকে শুরু করে তাসকিন আহমেদ, সবাই জানালেন, এটাই নতুন বাংলাদেশ, এটাই দলের চূড়ান্ত টি-টোয়েন্টি কৌশল। সাকিব ম্যাচ শেষে বললেন, ‘আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। নিয়মিত উইকেট হারিয়েছি। এটা হয়েই থাকে। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেললে কখনোই ফল পক্ষে আসবে, কখনও আসবে না। তবে আমরা খেলার ধরনটা বদলাতে চাই না। যদি বড় দল হতে হয়, তাহলে এভাবেই খেলতে হবে।’
তাসকিনও সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, দিনটা নেহায়েতই একটা বাজে দিন ছিল। তবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলও এটাই। বললেন, ‘উইকেট ভালোই ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ দ্রুত উইকেট পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইনটেন্ট আগের দুই ম্যাচের মতোই ছিল। তখন রান হয়েছে, আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হয়ে গেছে। আসলে, জি, আরেকটু ভালো ব্যাটিং হয়তো করতে পারতাম আমরা, কারণ আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। আনফরচুনেটলি সেটা হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের সবার ইনটেন্ট এমন ছিল যে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলা, আক্রমণাত্মক খেলা। আজ বাজে একটা দিন ছিল আসলে।’
তবে শেষ টি-টোয়েন্টিতে যেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে দাবি মিটিয়ে ব্যাটিং কৌশলে খানিকটা বদল আনাই যেত, অভিমত ক্রিকেট কোচ সারোয়ার ইমরানের। তার মনে হয়েছে, সেটা করলে পুঁজিটাও বাড়ত বেশ। তিনি বলেন, ‘কালকে রয়েসয়ে খেলার সুযোগ ছিলই। যখন উইকেট পড়ে গেল, তখন একটু রয়েসয়ে খেলা যেত। তাহলে আরও কিছু রান বেশি হতো।’
তার মতে, শেষদিকে পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটারেরও ঘাটতি আছে দলের। এক্ষেত্রে মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো কাউকে দলে চান তিনি। তার ভাষ্য, ‘পরিস্থিতির দাবি বুঝে খেলা জরুরি। আমাদের উইকেট যদি না থাকে, আমরা যদি ধরে খেলতে পারি, এটা বিরাট ব্যাপার। এমন খেলোয়াড় কমই থাকে দলে। আমাদের লেট অর্ডারে তেমন পরিস্থিতি বুঝে খেলা খেলোয়াড় নেই। মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহ যে কাজটা করত, লেট অর্ডারে আমাদের তেমন কেউ নেই। আমার মনে হয় এমন পরিস্থিতির দাবি মেটানো খেলোয়াড় দরকার দলে। শেষ ম্যাচে লেট অর্ডারে তেমন কেউ থাকলে আমার মনে হয় আমরা আরও কিছু রান বেশি করতে পারতাম।’