প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৩ ১০:৩০ এএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৩ ১১:৫৮ এএম
৬০ বলে ১০০*। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন মুশফিকুর রহিমের - বিসিবি
এই ম্যাচ নিয়ে অনেক কিছু বলার উপাদান ছিল। গল্প ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপসংহার টেনে দিল বৃষ্টি! বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। যে ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৪৯ রানের নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। মুশফিকুর রহিম দেশের হয়ে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। ৬০ বলে অপরাজিত পাক্কা ১০০। তাওহীদ হৃদয় টানা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেন। লিটন দাসের ব্যাট হাসল ৭১ বলে ৭০ রানের হাসিতে। নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৭ বলে ৭৩ রান করে জানান দিলেন ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটছে তার। রান উৎসবের এই ম্যাচে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড টপকে গেল বাংলাদেশ। তবে দিন শেষে রেকর্ড নয় শিরোনাম কেড়ে নিল চৈত্রের শুরুর বৃষ্টি।
বৃষ্টির তোড়ে জবাবি ইনিংস শুরুই করতে পারল না আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের ইনিংস বিরতির পরপরই বৃষ্টি ঝাঁপিয়ে নামে। সেই বৃষ্টিতেই শেষমেশ ধুয়ে গেল দ্বিতীয় ওয়ানডে। রাত ৮টা ৩২ মিনিটে ম্যাচ রেফারি ম্যাচ পরিত্যক্তের ঘোষণা দেন। ম্যাচ বাতিল হলেও এই ম্যাচের সব রেকর্ড কিন্তু ঠিকই টিকে থাকছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১-০তে। দ্বিতীয় ম্যাচে যে বিশাল স্কোর দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ, তাতে এদিনই সিরিজ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল পুরো দল। কিন্তু বৃষ্টি যে ম্যাচই ভাসিয়ে দিল!
আরও পড়ুন : সিরিজ জয়ের পথে বৃষ্টির চোখরাঙানি
গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে বৃষ্টি হচ্ছিল। কাল ম্যাচের দিন সকালেও বৃষ্টি নামে। তবে টসের দুপুরে বৃষ্টি ছিল না। যথাসময়ে টস হয়। বৃষ্টিস্নাত উইকেটে টসে জিতে আয়ারল্যান্ড যথারীতি বোলিং বেছে নেয়। উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে আইরিশ পেসাররা শুরুতে বাংলাদেশের ওপেনারদের আটকে রাখে। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস শুরুতে জোরাজুরি কায়দার ব্যাটিং না করে সতর্কতার পথে হাঁটেন। প্রথম পাওয়ার প্লের শেষ বলে ভাঙে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। সরাসরি থ্রোতে তামিম ইকবাল রান আউট হয়ে ফেরেন। ৩১ বলে ২৩ রানে শেষ হয় তামিমের জন্মদিনের ইনিংস। লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আয়ারল্যান্ডের বোলারদের বেচারা বানিয়ে দেন। দুজন যোগ করেন ১০১ রান। ৩ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে লিটন দাস ৭০ রান করে ফেরেন। শান্ত যেভাবে খেলছিল তাতে মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি হয়ে গেল বলে! কিন্তু সত্তরের ঘরে তিনিও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ক্যাচের আবেদন ওঠে। আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। আয়ারল্যান্ডও রিভিউ চায়নি। কিন্তু ব্যাটে যে লেগেছে সেটা শান্ত ঠিকই টের পান। তিনি ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা শুরু করেন। সাকিব দুই বাউন্ডারিতে ১৯ বলে ১৭ রান করে ফেরার পর এই তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিকুর রহিম।
এই ম্যাচের বাকি সব গল্পটা মুশফিকের!
উইকেটে এসেই ধুমধাম বাহারি স্ট্রোকে মুশফিক ওয়ানডে ম্যাচে টি-টোয়েন্টি মেজাজের ব্যাটিং দেখান। ২ ছক্কা ৪ বাউন্ডারিতে মাত্র ৩৩ রানে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। পরের অংশ আরও আকর্ষণীয়। মাত্র ২৭ বলে পরের পঞ্চাশ করেন মুশফিক। ম্যাচের শেষ ওভারের শেষ বলে সেঞ্চুরির আনন্দে ভাসেন। ইনিংসের বাকি তখন চার বল। আর মুশফিকের সেঞ্চুরির জন্য চাই ৯ রান। সেই টার্গেটও দারুণ দক্ষতার সঙ্গে পুরো করলেন মুশফিক। ইনিংসের শেষ বলে সিঙ্গেলসে তার রেকর্ড সেঞ্চুরির স্বপ্নপূরণ।
১৪ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় মাত্র ৬০ বলে হার না-মানা ১০০। বলের হিসাবে এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি। আর স্কোর বোর্ডে ৩৪৯ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর ৪০৭টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ।
দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এবং মুশফিকের ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিনে শেষ পর্যন্ত মুচকি হেসে জিতল বৃষ্টি!