প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:০৪ পিএম
‘খেলা দেখা আর লেখা, কাজটা তো সহজই!’ এই একটা কথা শোনেননি এমন ক্রীড়া সাংবাদিক পাওয়া বাংলাদেশে দুষ্করই বোধহয়। কাজটা অবশ্য এতটা সহজ নয়, বিশেষ করে নিত্যনতুন প্রযুক্তির যুগে যেমন সুযোগ-সুবিধা বেড়ে চলেছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর চ্যালেঞ্জও; সে চ্যালেঞ্জটা বহুগুণে বেড়ে যায় যখন সাংবাদিকতার ব্যাকরণ মেনে কাজটা করতে হয়। নবীনদের সে চ্যালেঞ্জটা উতরে যাওয়ার রাস্তাটা সহজ করতেই প্রবীণ সাংবাদিক আজাদ মজুমদারের প্রয়াস ‘ইনসাইড দ্য প্রেস বক্স’।
খেলা চলাকালে ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাজটা হয় প্রেস বক্সে, যেখান থেকে খেলাটার দেখা মেলে সবচেয়ে ভালোভাবে। ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে লেখা এই বইয়ের নাম দেওয়া হয়েছে সেই প্রেস বক্সের নামেই।
নামে ‘প্রেস বক্সের ভেতরে’ হলেও এই বই স্রেফ প্রেস বক্সের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। বইয়ের লেখক ইংরেজি ভাষার শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক দ্য নিউ এজের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক বইটিকে ভাগ করেছেন ১১টি অধ্যায়ে। শুরুটা হয়েছে ক্রীড়া প্রতিবেদনের সংজ্ঞা দিয়ে। শেষটা করেছেন তিনি ক্রীড়া সাংবাদিকতার নৈতিকতা অধ্যায়টি দিয়ে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি
আরও পড়ুন: ঐচ্ছিক অনুশীলনে সিরিয়াস মঈন আলী
লেখক আজাদকে এই বইয়ের কথা ভাবিয়েছে ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে লেখা বইয়ের অপ্রতুলতা। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিকতা পড়ানো হয়, অনেক শিক্ষার্থীই পাস করে বেরোচ্ছেন, তবে সেখানে ক্রীড়া সাংবাদিকতার বিষয়টা এত গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয় না, দুয়েকটা জায়গায় আছে, তবে সেখানেও তা ঐচ্ছিক। তাই ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগটা কম। কিন্তু শেষ এক-দুই দশকে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রসারটা ঘটেছে বেশ পত্রিকা, অনলাইন, টিভি সর্বত্রই গুরুত্ব পাচ্ছে বেশ। এর ফলে খেলাটাকে ভালোবেসে অনেকেই আসছে, তবে এসেই ধাক্কা খাচ্ছে, শিক্ষাগত জীবন যার যত ভালোই হোক, অনেক কিছুই শিখে আসে, কিন্তু এটা শেখে না, এখানে এসে কাজ করতে করতে শিখতে হয়। শেখার মতো ম্যাটেরিয়াল তাদের হাতে নেই।’
আজাদ জানান, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে লেখা বই আছে অনেক। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসে সেসব বই আবেদন হারায়। মূলত এই ভাবনা থেকেই লেখক তার বইটি সাজিয়েছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায়।
বইটি লিখতে গিয়ে আজাদ অনুপ্রেরণা-সহযোগিতা পেয়েছেন সহকর্মীদের। জানালেন, বই লেখায় তাদের অবদানটা নেহায়েত কম নয়। জানালেন, ‘আমি প্রতিটা অধ্যায় লেখা শেষে কায়সার ভাইকে (এম. এম. কায়সার) দেখাতাম, আনিসকেও (আনিসুর রহমান)। তারা সেটা পড়ে ফিডব্যাক দিতেন, সমালোচনা করতেন। তারা যথেষ্ট ইনপুট দিয়েছেন এখানে, সেটা আমি যোগ করার চেষ্টা করেছি।’
তার এই বই প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের পাঠ্যসূচিতে। লেখক আজাদের আশা, শিগগিরই এ বই জায়গা করে নেবে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও।
সাংবাদিকতা নিয়ে লেখা এই বই ক্রীড়ামোদী পাঠকদেরও আগ্রহী করে তুলতে পারে, অভিমত লেখকের। তিনি বলেন, ‘যারা ক্রীড়ামোদী, তাদের একটা বড় অংশ পাঠকও। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি খেলার সংবাদটাও দেখেন। তারা অনেক সময় মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাংবাদিকদের দেখার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তাদেরটা মেলে কি না। এছাড়া যেসব কনটেন্ট তাদের সামনে আসে তা কীভাবে আসে, সে বিষয়েও কৌতূহল হতে পারে, সে কৌতূহলটা এখান থেকে মেটানো সম্ভব। ক্রীড়া সাংবাদিকতা নিয়ে তাদের মনেও প্রশ্ন আসে, ক্রীড়া সাংবাদিকতার ভালো-মন্দের তফাতটা বুঝতেও এই বইটা তাদের সহায়তা করতে পারে।’
এবারের অমর একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। পাওয়া যাচ্ছে তাদের ২২ নম্বর প্যাভিলিয়নে।