প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:২৩ এএম
ব্যর্থতাই যেখানে সিলেটের নিয়তি, সেখানে টুর্নামেন্টের শুরুতে সিলেট স্ট্রাইকার্সের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়া ছিল বৃথাচেষ্টা। বিপিএলে সিলেটের লিগ পর্ব শেষে পাশার দান উল্টেছে। তাদের পক্ষে বাজি ধরার লোক এখন অনেক। আধিপত্যের শুরু বিপিএলের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অধীনে। তার নেতৃত্বেই টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শীর্ষস্থান ধরে রেখে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে সিলেট। ২০১৩ সালের পর আবার প্লে অফ খেলবে দলটি। বাকি আসরগুলোতে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির জায়গা ছিল টেবিলের তলানির দিকে। সাফল্যের আশায় বুক বেঁধে থাকা সমর্থকদের হৃদয় ভাঙে বারবার। সেই দুঃখ ঘুঁচিয়ে এবার আরো অনেক দুরের স্বপ্ন দেখছে সিলেট।
এবারের লিগ পর্বে ১২ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্টে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করে প্লে অফে উঠেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। তাদের সাফল্যের মূল নিয়ামক দেশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স। বিদেশিদের অবদান থাকলেও অধিকতর দ্যুাতি ছড়িয়েছেন দেশি ক্রিকেটাররা।
প্লেয়ার ড্রাফট কিংবা সরাসরি চুক্তিতে মাশরাফি ও মুশফিকুর রহিম ছাড়া তেমন কোনো দেশি বড় নাম নেই সিলেট দলে। তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসানদের মতো ক্রিকেটাররা আছেন। বিদেশিদের মধ্যে মোহাম্মদ আমির, ইমাদ ওয়াসিম, থিসারা পেরেরারা অবশ্য বড় নাম। পুরো দলের মধ্যে অধিনায়ক মাশরাফির তৈরি করা জয়ের ক্ষুধা সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি। দলটির ব্যাটিং কোচ তুষার ইমরান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কিছু কথাবার্তা আছে মাশরাফির ভেতরে যা ক্রিকেটারদের ইন্সপায়ার করে। তাদের মনের ভেতর কাজ করে মাশরাফি বলছেন, আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এখানেই অন্যান্য ক্যাপ্টেনের চেয়ে মাশরাফি এগিয়ে।’
আরও পড়ুন: চলে এসেছেন ডিআরএস টেকনিশিয়ানরা
আরও পড়ুন: রোমাঞ্চের ভেলায় ভাসছেন অধিনায়করা
বিপিএলে অধিনায়ক হিসেবে চার শিরোপা জেতা মাশরাফির জন্য তরুণ দেশি ও অভিজ্ঞ বিদেশিদের সমন্বয়ে গড়া দল পরিচালনা নাকি সহজ ব্যাপার। এমনকি অধিনায়ক মাশরাফি দল গঠনেও ছিলেন নেতা। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের কাছে পেয়েছেন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা। তাতেই কাগজে-কলমে সেরা চারে না থাকলেও পয়েন্ট টেবিলে তারা শীর্ষে। ‘বিপিএলের সাকসেসফুল ক্যাপ্টেন। ও জানে আসলে কীভাবে সামলাতে (বিদেশি ক্রিকেটার) হয়। ম্যানেজমেন্টে যারা আছে তারাও মাশরাফিকে আস্থায় নিয়েছেন। কাগজে-কলমে আমরা হয়তো আহামরি কোনো দল ছিলাম না। শুরুতে অনেকেই আমাদের পাঁচ নম্বর দল হিসেবে গণ্য করেছিল।’ যোগ করেন তুষার। কাগজে-কলমের পয়েন্ট টেবিলের সঙ্গে মাঠের কোনো সম্পর্ক নেই। বড় নামহীন দলটি নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করতে মাশরাফি দলে তৈরি করেন সাফল্যের জন্য ক্ষুধা। তুষার বলেন, ‘সব বয়স্ক প্লেয়ার নিয়েছে, দল পারফর্ম করতে পারবে না। এটাই সবার ধারণা ছিল। মাশরাফির জন্য প্লেয়ারদের মধ্যে জয়ের ক্ষিধে তৈরি হয়। তাদের মধ্যে দেখিয়ে দেব এমন ভাবনা ছিল।’
দলের বিদেশি ক্রিকেটাররাও মাশরাফির দেখানো পথেই হেঁটেছেন। তুষার ইমরান সেই প্রসঙ্গে বলছিলেন, ওরাও (বিদেশি ক্রিকেটাররা) রিড করে মাশরাফি যখন ওদেরকে কাজে লাগাতে চান, সেরাটা দিতে হবে।’ যোগ করেন তুষার। সব মিলিয়ে দেশি-বিদেশিদের এক সুতায় গাঁথতে পারার এই সাফল্যই সিলেটের সেরা হয়ে প্লে অফে ওঠার নিয়ামক।