প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৪২ এএম
মঙ্গলবার বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচটা শেষ হয়েছে কেবল, তখন দেখা মিলল অভূতপূর্ব এক দৃশ্যের। বাংলাদেশ অধিনায়ক শামসুন্নাহারকে রীতিমতো জেঁকে ধরলেন ভুটানের মেয়েরা। একটু আগেই যার কাছ থেকে হজম করেছেন তিন তিনটি গোল, তার সঙ্গেই ছবি তোলার এমন মরিয়া প্রয়াস। ইউরোপের ফুটবলে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে হরহামেশাই। কিন্তু দেশের ফুটবলে এমন দৃশ্য বিরল। সেই বিরল দৃশ্যের দেখাই মিলেছে এবারের সাফে।
গতকাল ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাষ্য, ‘ম্যাচের শেষদিকে আমাকে একটা ফাউল করা হলো। ভুটানের খেলোয়াড়রা তখন আমাকে পানি এগিয়ে দিচ্ছিল। বলছিল এটা খাও, গোল করো না আর।’ শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিক তখন হয়ে গেছে, বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ের।
সে অপেক্ষা যখন শেষ হলো, তখন দেখা মিলল শামসুন্নাহারের ‘ভক্তদের’ সেই কাণ্ডের। শামসুন্নাহারের কথা, ‘ওরা ছবি তুলতে এসে বলছিল, যেভাবে খেলেছ, তাতে তোমার ভক্তই হয়ে গেছি।’
ভক্ত বানিয়ে দেওয়ার মতো নৈপুণ্য টুর্নামেন্টজুড়েই দেখিয়েছেন শামসুন্নাহার। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে করেছিলেন গোল। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন বেশ কিছু। তৃতীয় ম্যাচে তো হ্যাটট্রিকই করে বসেছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘প্রথম’ আসরেই বাজিমাতের স্বপ্ন
আরও পড়ুন: ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় মেসির আর্জেন্টিনা
চার গোল করে তিনি আছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে। লড়াইটা তার যার সঙ্গে, সেই আমিশা কারকি আছেন আবার নেপাল দলেই। ফাইনালে দলের লড়াইটা নেপালের সঙ্গে, আমিশার সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াইটাও কি ভাবাবে না তাকে?
শামসুন্নাহারের সহজ উত্তর, ‘আমার কাছে দলই সবার আগে। গোলের সামনে আমার যদি গোলের সুযোগ থাকে ৫০ শতাংশ, আর আমার পাশে থাকা কারও থাকে ৭০ শতাংশ, তাহলেও আমি শট না নিয়ে পাসই বাড়াব তাকে।’
দলের অধিনায়ক তিনি, দলীয় ভাবনাটা বুঝি তাকে তাই একটু বেশিই ভাবায়! তবে জয় নিশ্চিত হলে ভাবনাটা ভিন্ন হতেও পারে, ইঙ্গিত বাংলাদেশ অধিনায়কের। বললেন, ‘ম্যাচটা নিশ্চিত হয়ে গেলে নিজের কথা ভেবেও দেখতে পারি।’
প্রতিপক্ষ গোলমুখে শামসুন্নাহার যেমন বাংলাদেশের ভরসার নাম, তেমনি নিজেদের বিপদসীমায় দলের অতন্দ্র প্রহরী রুপনা চাকমা। বয়সভিত্তিক দল তো বটেই, রুপনা তো বাংলাদেশ জাতীয় দলেরও গোলরক্ষক। সবশেষ নারী সাফের চ্যাম্পিয়ন যে হয়েছে বাংলাদেশ, তাতে বড় অবদান তো তারও ছিল, দলকে জিতিয়ে তিনি নিজে জিতেছিলেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।
রুপনা তেমন নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবারের যুব সাফেও। টুর্নামেন্টে যে বাংলাদেশের জালে জড়িয়েছে সবচেয়ে কম গোল, তাতে বড় অবদান তার। ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে তিনি দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ এক সেভ, যার ফলেই ভুটানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ এসেছে দুশ্চিন্তা ছাড়াই। সেই এক গোল হয়ে গেলে দৃশ্যটা ভিন্নরকমও হতে পারত বৈকি!
ফাইনালে আজ তার কাছেও বড় প্রত্যাশা বাংলাদেশের। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন যেমন জানালেন, ‘রুপনা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। গ্রুপ পর্বে তার ছাপ আমরা দেখেছি। ফাইনালের মতো মঞ্চেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সে।’
শামসুন্নাহার-রুপনাদের মতো মঞ্চটা তৈরি আকলিমা খাতুন, শাহেদা আক্তার রিপাদের জন্যও। যথাক্রমে তিন ও দুই গোল করে এই দুজনও আছেন সেরা গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে। তাদের যেকেউই আলোটা শেষমেশ কেড়ে নিক, সেটা করে দেখাতে পারলে লাভটা তো হবে বাংলাদেশেরই! আরও একটা নারী সাফ শিরোপা জেতার পথটাও যে মসৃণ হয়ে যাবে তাতে।