বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক বিদায়ে সমর্থকদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুকভাঙা কষ্ট নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারা। টানা তিনবার ফাইনাল খেলারও কীর্তি রয়েছে দেশটির। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় করেছে। তারপর থেকেই ব্রাজিল হেক্সা মিশন পূরণের স্বপ্ন দেখে আসছে।
স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি এসেছিল ২০১৪ সালে। সেবার আয়োজক ছিল তারা। কিন্তু সে সময়ে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। হেক্সা মিশনও পূর্ণতা পায়নি। দেখতে দেখতে বিশ্বকাপের ছয়টি আসর শেষ। কিন্তু এখনও পূরণ হয়নি হেক্সা মিশন। এবারও ব্যর্থ তারা। আর এ ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দলটির তারকা খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ব্রাজিলের হেক্সা মিশন পূরণের স্বপ্ন এবার খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। শেষ ষোলোতেই থামতে হয়েছে তাদের। নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় হয়েছে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অপেক্ষার প্রহর বেড়ে এখন ২৮ বছরে দাঁড়িয়েছে। দলের এমন হতাশাজনক বিদায়ে সমর্থকদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুকভাঙা কষ্ট নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মূলত ব্রাজিলের এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যান রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো দুই তারকা। এরপর টুর্নামেন্টের সময় সেই তালিকায় যোগ হয় রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতার নাম। সেই সঙ্গে নেইমার জুনিয়র তো ছিলই। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইনজুরিতে ভুগছিলেন তিনি। তারপরও তাকে দলে রাখা হয়েছিল। মাঝে মাঝে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। তবে দলে খুব বেশি অবদান রাখতে পারেননি।
এক ঝাঁক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের পুরো চাপটা এসে পড়েছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাঁধে। সেই গুরুদায়িত্ব তিনি ভালোভাবে পালন করেছেন ঠিকই, তবে তা যথেষ্ট ছিল না। ব্রাজিলের খেলা পাঁচ ম্যাচে তিনি চার গোল করেছেন, একটা গোলে সহায়তা করেছেন। শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারেননি। বরং আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল দেখতে হয়েছে। একটা গোল অবশ্য পরিশোধ করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু তা ম্যাচের শেষ সময়ে, ফলে তা ফল নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফলে দলকে বিদায় নিতে হয়। সে ধাক্কা কাটিয়ে চার দিন পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
নিজের পোস্টে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র লিখেছেন, ‘জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে গর্বের বিষয়। আর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়ার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমাদের আরও দূরে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। আমি আপনাদের সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। দলকে বিশ্বসেরা বানানোর জন্য আমরা লড়াই করে যাব।’