কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে রবিবার সকাল ৭টায় মুখোমুখি হচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং চারবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট সুইজারল্যান্ড।
এই ম্যাচটি মূলত হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার শৈল্পিক আক্রমণভাগের সাথে সুইজারল্যান্ডের জমাট ও ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের এক তুমুল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। আর এই মহাসংগ্রামের ভাগ্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবেন দুই দলের তিন তারকাÑ লিওনেল মেসি, নিকো এলভেদি এবং তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বি।
আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা শিবিরের পুরো আস্থা স্বভাবতই থাকবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসির ওপর। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে আছেন ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্বÑ চলতি বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়েছেন মেসি। আলবিসেলেস্তেদের আক্রমণভাগকে এক সুতোয় গেঁথে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়াই হবে মেসির প্রধান লক্ষ্য।
তবে মেসিকে বোতলবন্দি করার মহাগুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্বটি থাকছে সুইজারল্যান্ডের ২৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক নিকো এলভেদির ওপর। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার আকাশি লড়াইয়ে যেমন পারদর্শী, তেমনি নিচেও দুর্দান্ত ট্যাকল করতে ওস্তাদ। জার্মান ক্লাব বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের হয়ে বুন্দেসলিগায় খেলা এলভেদি যদি রবিবার নিজের সেরা দিনে মেসির ড্রিবলিং ও পাসিং লেন ব্লক করতে পারেন, তবে সুইসদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
অন্যদিকে পরোক্ষ কাউন্টার অ্যাটাকে সুইসদের আক্রমণের মূল ভরসা হবেন ২০ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি। চলতি আসরে দলগত ফুটবলের অনন্য নিদর্শন রাখা সুইজারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই তরুণ। ক্লাব ফুটবলে জার্মান ক্লাব ফ্রেইবার্গের হয়ে খেলা মানজাম্বির গতি এবং ক্ষিপ্রতা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো কিংবা ওতামেন্দিদের আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে।
মেসির চেনা জাদু নাকি এলভেদি-মানজাম্বিদের সুইস প্রতিরোধ-শেষ সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে কার রণকৌশল সফল হয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবলবিশ্ব।