ফিফা সভাপতির সাথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এনপিআর
মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে এবার নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ড বাতিলের আবেদন করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের ফুটবলার মাতিয়াস গালার্জার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ওলিসে। ম্যাচের সময় রেফারির ধারণা ছিল, গালার্জার মুখে আঘাত করেছেন ফরাসি মিডফিল্ডার। তবে পরবর্তীতে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, ওলিসে মূলত গালার্জার জার্সি টেনে ধরেছিলেন; মুখে আঘাত করার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এই ঘটনার পর ফ্রান্সের দাবি, ওলিসের বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখানোর মতো অপরাধ ঘটেনি। তাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে কার্ডটি বাতিল করার জন্য তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।
ফ্রান্সের এই আবেদনের পেছনে কৌশলগত কারণও রয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও গোল না পেলেও পাঁচটি গোলে সহায়তা করে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ওলিসে। বিশেষ করে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ও অন্য ফরোয়ার্ডদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরিতে তিনিই অন্যতম ভরসা।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। সেই ম্যাচে ওলিসে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে তিনি নিষিদ্ধ হয়ে যাবেন। আর সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ওলিসেকে হারাতে চায় না ফরাসিরা।
ফিফার প্রতিযোগিতা বিধি অনুযায়ী, কোনো দল ফাইনালে উঠলে আগের সব হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে যায়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে নতুন কোনো শাস্তি না থাকলে ফাইনালে খেলতে সমস্যা হয় না। তবে সেমিফাইনালে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতেই এখনই ওলিসের প্রথম হলুদ কার্ড বাতিলের চেষ্টা করছে ফ্রান্স।