প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
নেইমার জুনিয়র। ছবি: এ স্পোর্টস
গোলের উৎসবে মেতেছেন বড় তারাকারা। দুই ম্যাচে ৫ গোল করেছেন ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচেই জোড়া গোল উপহার দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে আর্লিং হালান্ড, সমান ম্যাচে ২ গোল পেয়েছেন অ্যাটাকার ভিনিসিউস জুনিয়র। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই গোল উৎসব রিজার্ভ বেঞ্চে বসে দেখছেন মহাতারকা নেইমার। এমনি অবস্থায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ নির্ধারণী ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর পেল ব্রাজিল। ইনজুরি কাটিয়ে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান সেনসেশন নেইমার। এখন তাকে মাঠে দেখার অপেক্ষায় ফুটবল দুনিয়া।
‘সি’ গ্রুপে মিয়ামিতে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ মুহূর্তে গ্রুপে শীর্ষে বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই গ্রপে সমান ম্যাচে মরক্কোর সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। তবে গোল গড়ে ব্রাজিলেল চেয়ে পিছিয়ে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে মরক্কো। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি। এরই মধ্যে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া হাইতি এখনও পয়েন্টশূন্য। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ড। সব মিলিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য স্কটিশদের বিপক্ষে ব্রাজিলের জেতাটা ভীষণ জরুরি।
চলতি আসরে হেক্সা মিশনে নেইমারবিহীন ব্রাজিলের শুরুটা হয় বেশ সাদামাটা। প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল হাইতির বিপক্ষে জেতে ৩-০ ব্যবধানে। ভক্তদের বিশ্বাস, নেইমার ফিরলেই, স্বরূপে ফিরবে তাদের দল। ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দলে ফিরে অনুশীলনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি নেইমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ ঈশ্বর। আমি ভীষণ খুশি!’
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন নেইমার। তাই তার ফিট হয়ে ওঠা ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৯ ম্যাচে করেছেন ৭৯ গোল। নেইমারের ফেরায় দারুণ খুশি সতীর্থরাও। ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকার লুকাস পাকুয়েতা বলেন, “তাকে আবার আমাদের সঙ্গে অনুশীলনে দেখতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত। জাতীয় দলের জন্য সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আশা করি, দ্রুতই মাঠে নেমে তিনি দলকে সাহায্য করতে পারবেন।”
এটি নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এবারের আসরে খেলছেন তিনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে। দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা এবার ঘোচাতে চায় সেলেসাওরা। নেইমারের এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে কি না এমন প্রশ্নে পাকেতা বলেন, ‘সম্ভবত তাই। আমরা সবাই জানি এই জার্সির মূল্য কতটা। তার স্বপ্ন পূরণে আমরা সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত।’
২০২৩ সালে সবশেষ ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন নেইমার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর চোটের পর থেকেই ভুগছেন তিনি। গত ৩ বছর আর হলুদ জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ক্লাবেও সময়টা ভালো যায়নি। সৌদি আরবে গিয়ে এবং ব্রাজিলে ফিরেও ধুঁকতে হয় তাকে। তবে, গত বছর ঘরের ক্লাব সান্তোসে ফিরে, থমকে থাকা ক্যারিয়ারে গতি ফেরাতে সচেষ্ট হন নেইমার। এ বছরে সান্তোসের হয়ে খেলা ১৫ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন নেইমার, অ্যাসিস্টও আছে ৪টি। তবে, গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কখনোই টানা চার ম্যাচ খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই সাবেক তারকা।ক
আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও নেইমারকে নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের দল দেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার পথটা তৈরি হয়, কদিন আগে নেইমার অনুশীলনে ফিরলে। স্কটল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে সোমবার হওয়া টেকটিক্যাল সেশনেও ছিলেন তিনি। তাতে, দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। সতীর্থ মার্তিনেল্লি দিয়েছেন ইতিবাচক ইঙ্গিত। তার কথায়, ‘সে খুবই উঁচু পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছে (অনুশীলনে)। আমাদের সাথে থাকার জন্য সে কতটা আগ্রহী, সেটা আপনারা দেখেছেন। তার মান প্রশ্নাতীত।’ যোগ করেন, ‘তিনি খেলবেন কি না, এটা কোচ জানেন। তবে আমি মনে করি, তিনি দারুণ অবস্থায় আছেন।’