× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চসিকের মশক নিধন

কোটি টাকা খরচেও কমছে না দুর্ভোগ

তারাচরন টিপু, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মশার উপদ্রব কমাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

চসিকের তথ্য অনুযায়ী, মেয়র শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ৩.৮০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চসিক। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ১০ মাসে শুধু ওষুধ ও যন্ত্রপাতিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত ৩৫৫ জন অপারেটরের বেতন বাবদ প্রতি মাসে সংস্থাটির খরচ হয় অন্তত ৫০ লাখ টাকা।

এদিকে গত চার বছরে চট্টগ্রামে মশাবাহিত রোগে প্রতিবছর গড়ে মারা গেছে ৫৫ জন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২২০ জন। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৭১৯ জন। চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৪৫ জন এবং মারা গেছে একজন। এই পরিস্থিতি নগরীর মশক নিধন কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

নগরের চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, নন্দনকানন, জামালখান, পাথরঘাটা, কাজীর দেউড়ি, ফরিদারপাড়া, কোতোয়ালি, চকবাজার, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার আগেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতে হয়। এরপরও মশার হাত থেকে রেহাই মেলে না।

নগরের পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা ইমু খান বলেন, সিটি করপোরেশন দাবি করে তারা নিয়মিত মশা নিধনের কাজ করছে। কিন্তু আমাদের এলাকায় তার কোনো প্রভাব দেখা যায় না। গত দুই মাসেও কাউকে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখিনি।

অন্যদিকে চসিকের দাবি, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি পৃথক টিমের মাধ্যমে মোট ৩৫৫ জন কর্মী নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এসব টিম প্রতিদিন নির্ধারিত ব্লকে মশার লার্ভা ধ্বংসে কাজ করে। একটি এলাকায় কাজ শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় সেখানে স্প্রে করা হয়, যাতে মশার বংশবিস্তারের চক্র ভেঙে দেওয়া যায়।

মশার উপদ্রব না কমার কারণ জানতে চাইলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নগরীর ৭০ লাখ মানুষকে মাত্র সাড়ে তিনশ কর্মী দিয়ে সেবাপ্রদান করা কঠিন। তিনি স্বীকার করেন, অনেক কর্মী যথাযথ দায়িত্ব না নিয়ে লোকদেখানো একটু স্প্রে মেরে চলে আসে। গত ছয় মাস ধরে মশার লার্ভা নিধনের জন্য একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব জৈব কীটনাশক ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।

চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুর ইসলাম মাহি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করার জন্য চসিক আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করতে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় ল্যাব থাকা দরকার।”

মশক নিধনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, “ওষুধ ছিটানোর আগে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি। মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করছি। এরপর আমরা এনফোর্সমেন্টে নামব। দশটি টিমকে দশটি ওয়ার্ডে ভাগ করে দিয়ে অভিযান চালাব।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা