বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:৪৫ পিএম
চিতলী-বৈটপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি মোহাম্মদ রফিক। প্রবা ফটো
বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের চিতলী-বৈটপুর গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি মোহাম্মদ রফিক।
সোমবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চিতলী-বৈটপুর এলাকায় উদ্দিপন বদর সামছু বিদ্যানিকেতনে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
কবির শেষ বিদায়ে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, কবির বোন জামাই শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুল হক, কবির বোন গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সেলিনা পারভীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সবিতা ইয়াসমিন, কবির ভাই প্রকৌশলী মো. শফিক, কবির ছোট ছেলে অধ্যাপক ড. শুদ্ধসত্ত্ব রফিক, লেখক অধ্যাপক প্রশান্ত মৃধা, সামছউদ্দিন নাহার ট্রাস্ট্রের প্রধান সমন্বয়ক সুব্রত কুমার মুখার্জীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রিয় কবিকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। কবির ভাই মো. শফিক বলেন, ‘আমাদের আট ভাই-বোনদের মধ্যে কবি মোহাম্মদ রফিক সবার বড়। তিনি শুধু আমাদের বড় ভাই ছিলেন না, তিনি আমাদের সবার অভিভাবক ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা অভিভাবক শূন্য হলাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার একজন ভালো নিরাহংকার মানুষ ছিলেন। দেশের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার কলম চলত সব সময়। স্যারের অবদান ভোলার নয়।’
নামাজে জানাজা ও দাফন শেষে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া করার অনুরোধ করেন কবির ছোট ছেলে শুদ্ধসত্ত্ব রফিক।
রবিবার (৬ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে কবি মোহাম্মদ রফিক মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মোহাম্মদ রফিকের জন্ম ২৩ অক্টোবর ১৯৪৩ সালে বাগেরহাটে। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে তিনি কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পাকিস্তান আমলের ছাত্র আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পর আশি ও নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কাব্যিক রসদ জুগিয়ে তিনি বিখ্যাত হন। সামরিক শাসক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কবিতা লেখার প্রতিবাদে মোহাম্মদ রফিকের সাহসী উচ্চারণ সারা বাংলাদেশে চমক লাগিয়েছিল।
‘সব শালা কবি হবে, পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই উড়বে।’- পঙক্তিটি ওই সময় সবার মুখে মুখে ফিরতো।
১৯৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বৈশাখী পূর্ণিমা’ প্রকাশিত হয়। ১৯৭৬ সালে প্রকাশ পায় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধুলার সংসারে এই মাটি’।
কবির উল্লেখযোগ্য অন্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো, ‘কীর্তিনাশা’, ‘খোলা কবিতা ও কপিলা’, ‘গাওদিয়ায়’, ‘স্বদেশী নিশ্বাস তুমিময়’, ‘মেঘে এবং কাদায়’, ‘রূপকথা কিংবদন্তি’, ‘মৎস্য গন্ধ্যা’, ‘মাতি কিসকু’, ‘বিষখালি সন্ধ্যা’ , ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘কালাপানি’, ‘নোনাঝাউ’, ‘দোমাটির মুখ’, ‘ত্রয়ী’। আরও রয়েছে চমৎকার চিন্তাশীলতার অনবদ্য গদ্যের বই ‘আত্মরক্ষার প্রতিবেদন’, ‘ওগো বন্ধু ওগো পরবাসী’। এ ছাড়া প্রকাশিত হয়েছে মোহাম্মদ রফিক রচনাবলি প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান মোহাম্মদ রফিক। এ ছাড়া আলাওল পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার, পদক ও সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে তাকে।
শিক্ষকতাকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন তিনি।
‘মৃত্যু তবে শেষ নয়, শুরু/আলোতেই হোক তবে অন্তিম উত্থান।’-নিজের এই কবিতার মতোই শুরু হলো কবি মোহাম্মদ রফিকের নতুন অধ্যায়।