প্রতীকী ছবি
দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার ডোজ অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে আরও এক হাজার ডোজ অ্যান্টি-ভেনম সংরক্ষিত আছে।
সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসা সরঞ্জামের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ কলেরার স্যালাইন এবং ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিডিসির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ৪৪ হাজার ১৭৫টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৭৫ হাজার ৭৪৫টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিএমএমসিতে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন সংরক্ষিত আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় পর্যাপ্ত মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা, পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন বিতরণ করছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (কন্ট্রোল রুম) মাধ্যমে ফোকাল পারসনরা সারা দেশের পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করছেন।
দেশের উত্তর ও চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া স্থায়ী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে সভায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরাসরি আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমী রোগের তথ্য প্রবাহ নিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের আওতাধীন ১৬২৬৩ হেল্পলাইনটি ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। আগে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য জেলা পর্যায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও এখন তা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।