সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্বাধীনতা সম্মেলনকেন্দ্রে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ উপভোগ করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে উপস্থিত হন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। তার সঙ্গে আর্জেন্টিনা থেকে আগত কয়েকজন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারও ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীরা রবিবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি দেখতে সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলনকেন্দ্রে পৌঁছান। ম্যাচ শুরুর আগে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, ছবি তোলেন এবং ক্যাম্পাসের ফুটবলমুখর পরিবেশ ঘুরে দেখেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম আর কবির, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ আল্লাইয়ারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাচকে ঘিরে স্বাধীনতা সম্মেলনকেন্দ্রে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ফুটবলপ্রেমী দর্শক। আর্জেন্টিনার জার্সি, পতাকা, ব্যানার এবং সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, আবেগ ও করতালিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বিশেষ করে ম্যাচের একপর্যায়ে যখন লিওনেল মেসির পা থেকে গোল আসে, তখন আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা।পুরো ৯০ মিনিট টানটান উত্তেজনা শেষে আর্জেন্টিনা যখন দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তখন সম্মেলনকেন্দ্র জুড়ে শুরু হয় বিজয়োল্লাস। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, হাততালি ও ভুভুজেলার আওয়াজে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন ড্যাফোডিলের ফুটবলপ্রেমীরা।

ক্যাম্পাসে বসে ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “বিশ্বকাপের ম্যাচ সবাই মিলে ক্যাম্পাসে দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে”।
আরেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বাবু বলেন, “মেসির গোলের মুহূর্তে পুরো অডিটোরিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। এটি আমাদের জন্য সত্যিই একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা”।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, খেলাধুলা ও বিশ্বকাপকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ কেবল সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে এমন আয়োজন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আবেগ, সৃজনশীলতা এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিবাচক প্রতিফলন।
তাদের মতে, রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড্যাফোডিলের ফুটবল উদযাপনের ধারাবাহিক আলোচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। কারণ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করার এক বৈশ্বিক ভাষা।