প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
ডিপিডিসির লোগো। ছবি: বাসস
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হলেও অগ্রগতি হচ্ছে না অজ্ঞাত কারণে। এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন ফাইলবন্দি অবস্থাতে পড়ে আছে তদন্ত কার্যক্রম।
এদিকে ভুক্তভোগীকে অভিযোগ তুলে নিতে একটি প্রভাবশালী মহল থেকে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্থবিরতা থেকে কমিটিকে ম্যানেজের অভিযোগ আনা হলেও ‘জুন ক্লোজিং’ এর দোহাই দিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরুর কথা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর ডিপিডিসি’র বনশ্রী ডিভিশনে দায়িত্বপালনকারি সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের বিরুদ্ধে দুই লাখ ঘুষ গ্রহণ এবং আরো এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনেন মো. সেলিম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তার পক্ষে মো. রাশেদ নামে একজন সাব-স্টেশন ব্যবসায়ি বিদ্যুৎ সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগটি জমা দেন।
বিদ্যুৎ সচিবের কাছে করা দেওয়া অভিযোগে দেখা গেছে, বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের মাঝে ডিপিডিসি’র একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। যার ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই নানা দুর্ঘটনা ঘটে। আর এ কারণে মো. সেলিম এলাকাবাসীর পক্ষ ‘জনস্বার্থে’ বৈদ্যুতিক খুঁটিটি সরিয়ে নিতে প্রায় তিন মাস আগে বনশ্রী ডিভিশনে একটি আবেদন জমা দেয়।
মো. রাশেদ জানান, সেলিম রেজার পক্ষে তিনিই এ বিষয়ে ডিপিডিসি বনশ্রী ডিভিশনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এক পর্যায়ে তার কাছে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের পক্ষে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধও করেন।
কিন্তু ঘুষ দেওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় গত ৬ মে তিনি ডিপিডিসির বনশ্রী কার্যালয়ে গেলে তার কাছে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং সেই ঘুষের অর্থ বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এর খরচের জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ডিপিডিসির বনশ্রী কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলেও জানান মো. রাশেদ।
গত ৭ মে বিদ্যুৎ সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর এ বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের নির্দেশে গত ১৮ মে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন তদন্ত কাজ শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এদিকে উল্টো মো. রাশেদকে ঐ সহকারী প্রকৌশলীর দালালচক্র নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঐ ঠিকাদার সম্প্রতি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ন্যায়বিচারের আশায় ঐ বিদ্যুৎ গ্রাহক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব গত রবিবার মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, এখনো তদন্ত কাজ শুরু করা হয়নি। জুন ক্লোজিং এর ব্যস্ততার কারণে তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগির তদন্ত শুরু করা হবে। দুই পক্ষকে ডেকে বক্তব্য নেওয়া হবে। সব পক্ষের বক্তব্য ও খোঁজ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে বনশ্রী ডিভিশন সূত্র থেকে জানা যায়, অফিসটি পরিচালনা করেন সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবিরসহ তার নির্দিষ্ট একটি দালালচক্র দ্বারা গঠিত সিন্ডিকেট।
জানা যায়, বনশ্রীতে গত দেড় বছরে অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনের উচ্চচাপ সংযোগ পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপ সংযোগ দিয়ে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকার উপরে। সেখানে বাড়ি প্রতি নেওয়া হয়েছে ৩/৪ লক্ষ টাকা করে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত ডিপিডিসির বনশ্রী ডিভিশনে দায়িত্বপালনকারি সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকে বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার কল করে এসএমএস দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়।