যাপিত জীবন ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৪৩ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৪৭ পিএম
অনেকেই আছেন যারা সবসময়ই বলে থাকেন সময়ের অভাবে এক্সারসাইজ করতে পারেন না। কিন্তু একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারবেন সময়টা আসল সমস্যা নয়। একটু সচেতন হয়ে টাইম ম্যানেজমেন্ট করলেই দেখবেন রোজকার রুটিনে ব্যায়ামের জন্য সময় মিলে যাচ্ছে।
সুস্থ এবং ফিট থাকতে এক্সারসাইজের কোনও বিকল্প নেই। আমরা প্রায় সকলেই এই বিষয়ে অবগত। কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে প্রতিদিন ব্যায়াম করেন এমন মানুষ পাওয়া দায়। অনেকেই আছেন যারা এক্সারসাইজ করবেন মনে করেও করে উঠতে পারেন না। আপনি হয়তো বলবেন আমাদের রোজকার রুটিন এর জন্য দায়ী। কিন্তু জানেন কী এর আসল কারণ আমাদের চিন্তাভাবনা। আসলে আমারা নিজেদের যা বলি বা বোঝাই মানসিকভাবে তা আমাদের উপর প্রভাব ফেলে। বাস্তবেও আমরা সেটাই বিশ্বাস করি। বেশিরভাগ মানুষ যারা একেবারেই শরীরচর্চা করেন না তারা বলেন সময় পান না। সময়টা কিন্তু আসল সমস্যা নয়। অফিসের মিটিং, সংসারের কাজ, সন্তানের হোমওয়র্ক সবকিছু সামলে এক্সারসাইজ চলে যায় প্রায়োরিটি লিস্টের একেবারে তলার দিকে। অথচ ভেবে দেখুন এক্সারসাইজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ থাকার জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে ৪-৫ দিন এক্সারসাইজ মাস্ট। নিয়মিত এক্সারসাইজ অতিরিক্ত ওজন কমায়, মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে, এনার্জি বাড়ায়। এছাড়া টাইপ টু ডায়াবিটিস, স্ট্রোক, কিছু ধরনের ক্যানসার, ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমার্স, অস্টিওপোরোসিস রোধ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া সুস্থসবল, টোনড এবং ফিট থাকার অনুভূতি সত্যিই অনবদ্য। এই সবকিছুর জন্য কি আমরা একটু সময় বার করতে পারি না? এখানেই আসে টাইম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের শরীরের কথা ভেবে কিছুটা সময় বার করুন। চারপাশে তাকালে দেখতে পাবেন এমন অনেকে আছেন যারা আপনার চেয়েও হয়তো অনেক বেশি ব্যস্ত কিন্তু নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। অর্থাৎ শরীরচর্চার গুরুত্ব বুঝতে হবে। এক্সারসাইজকে রাখতে হবে প্রায়োরিটি লিস্টের উপর দিকে।
দৈনন্দিন রুটিন থেকে সময় বার করার জন্য কয়েকটা ছোট টিপস ফলো করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এক্সারসাইজ শুরু করুন একদম কম সময়ের জন্য। ১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। হিসেব করলে দেখবেন আপনি প্রতিদিন সোশাল সাইটে এর চেয়ে বেশি সময় ব্যস্ত থাকেন। যারা বিবাহিত তারা চাইলে দুইজন মিলে করতে পারেন এক্সারসাইজ। সন্তানের জন্য সময় না পেলে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই এক্সারসাইজ করুন। ব্যায়াম যে শুধু শরীর ভাল রাখে তাই নয়। মনকে শান্ত করে সঙ্গে স্ট্রেস কমায়। এই সুন্দর উপলব্ধির স্বাদ একবার পেলে ব্যায়ামের জন্য সময় বার করতে কোনও অসুবিধাই হবে না। তাই চেষ্টা করুন এক্সারসাইজের মাধ্যমে আনন্দ পেতে। শরীরচর্চাকে উপভোগ করতে।
এক্সারসাইজের পাশাপাশি সারাদিন এক্টিভ থাকার চেষ্টা করুন। অল্প দূরত্বে যাওয়ার সময় রিক্সায় না চড়ে অন্তত আধাঘণ্টা হেঁটে যান। যেখানে সম্ভব লিফ্টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন। তথাকথিত এক্সারসাইজ করতে ভাল না লাগলে অন্যরকম কিছু বেছে নিন। নাচ, মার্শাল আর্ট, রোলার ব্লেডিং, অ্যারোবিক্স, পিলাটিস যে কোনও একটা নিজের ফিটনেস রুটিনে সামিল করতে পারেন। আসলে সময়ের অভাবটা অজুহাত আর আলসেমি ছাড়া কিছুই নয়। শরীরচর্চা শুরু করে দিন আজ থেকেই।