প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ১১:০৬ এএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম
আটলান্টিকে নিখোঁজ টাইটান। ছবি : সংগৃহীত
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে পাঁচ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে ট্রাক-আকৃতির একটি ডুবোজাহাজ। ডুবোজাহাজটির নাম টাইটান। জাহাজটির অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কোস্ট গার্ড এবং বিভিন্ন বেসরকারি নৌপরিবহন সংস্থা কাজ করছে। ডুবোজাহাজটিতে ৭০ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মতো অক্সিজেন অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি নৌপরিবহন সংস্থা ওশানগেট টাইটানের মালিক। কোম্পানিটির তথ্যমতে, রবিবার (১৮ জুন) পাঁচ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিকের গভীরে যাত্রা করে টাইটান। আট দিনের সফরে ৩ হাজার ৮০০ মিটার তলদেশে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখাই ছিল যাত্রীদের উদ্দেশ্য। কিন্তু যাত্রা শুরুর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর জাহাজটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সোমবার (১৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার বলেন, এ উদ্ধার অভিযানকে আমরা ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে নিয়েছি। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। অভিযানে দুটি উড়োজাহাজ, একটি ডুবোজাহাজ এবং সাগরের তলদেশে শনাক্তকারী অসংখ্য যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্বেগের সুরে এই অ্যাডমিরাল বলেন, আমাদের ধারণা নিখোঁজ জাহাজটিতে ৭০ থেকে ৯৬ ঘণ্টার অক্সিজেন বাকি রয়েছে। তবে যে স্থানে ডুবোজাহাজটি নিখোঁজ হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো বেশ কঠিন।
বিবিসি জানায়, ডুবোজাহাজটি উত্তর আটলান্টিকে নিখোঁজ হয়েছে। তবে আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। বস্টন উপকূল থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনের মতো শব্দ ও ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ
টাইটানে যারা যাত্রী হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে গুনতে হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তা ছাড়া তাদের সবার রয়েছে সমুদ্র অভিযানের বিশেষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা।
১৯১২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে প্রথম সমুদ্রযাত্রায় ডুবে যায় বহুল আলোচিত টাইটানিক। জাহাজটি কখনোই ডুববে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু একটা হিমশৈলের ধাক্কায় তা ডুবে যায়। ফলে ২ হাজার ২০০-এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি যাত্রী নিহত হয়।
১৯৮৫ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ৩ হাজার ৮০০ মিটার গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত হয়।
সম্প্রতি একটি কোম্পানি টাইটানিকের ধ্বংসাবশের থ্রি-ডি স্ক্যান করেছে। অত্যন্ত জটিল এ কাজ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ ঘণ্টা।
সূত্র : বিবিসি, আরটি, গার্ডিয়ান