টাইটান উদ্ধার অভিযান
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ০৯:০১ এএম
আপডেট : ২২ জুন ২০২৩ ১২:৩২ পিএম
সমুদ্রের গভীরে ১২ হাজার ৫০০ ফুট নিচে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে টাইটান সাবমেরিনের বোর্ডে উঠেছিলেন পাঁচজন। ছবি : গৃহীত
দ্বিতীয় দিনের মতো ওশানগেটের সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) টাইটান অনুসন্ধান
এলাকা থেকে রহস্যজনক শব্দ ও ধাক্কাধাক্কির আওয়াজ শোনা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের
পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।
তবে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা বলেছেন, অনুসন্ধান সাইট থেকে কানাডার
সামরিক পি৩ বিমান থেকে শনাক্ত হওয়া শব্দগুলোর অবস্থান বের করা কঠিন এবং এখনও নৌবাহিনীর
বিশেষজ্ঞরা এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখছেন।
বিশেষ করে ধাক্কাধাক্কি বা শোরগোলের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন
জেমি ফ্রেডরিক বুধবার (২১ জুন) সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে
খোলামেলা হতেই বলছি, আমরা জানি না সেগুলো কী।’
ক্যাপ্টেন ফ্রেডরিক জানিয়েছেন, অনুসন্ধানের এলাকা এখন ভূপৃষ্ঠের আয়তনের
বিচারে কানেকটিকাট রাজ্যের দ্বিগুণ এবং আটলান্টিক মহাসাগরের ২.৫ মাইল গভীরে পরিচালিত হচ্ছে।
সাবমেরিনের আরোহীদের বেঁচে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রেডরিক বলেন, ‘এটি একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান। যখন আপনি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মধ্যে থাকবেন, আপনার আশা সব সময়ই থাকবে।’
উড হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশনের গবেষক কার্ল হার্টসফিল্ড সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শব্দগুলো সামুদ্রিক ধ্বনিবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আর ওই এলাকায় এখনও প্রচুর জাহাজ হয়েছে। তাই উৎস সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ টাইটানের উদ্ধার নিয়ে শঙ্কা
রবিবার সমুদ্রের গভীরে ১২ হাজার ৫০০ ফুট নিচে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ
দেখতে টাইটান সাবমেরিনের বোর্ডে ওঠা পাঁচজনের
মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হামিশ হার্ডিং, ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ব্যবসায়ী শাহজাদা
দাউদ এবং তার ছেলে সুলেমান, ফরাসি অভিযাত্রী পল-হেনরি নারজিওলেট ও ওশানগেটের প্রধান
নির্বাহী স্টকটন রাশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নৌবাহিনী এবং গভীর সমুদ্রের গবেষণাকারী বাণিজ্যিক
সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে, যা ম্যাসাচুসেটসের শহর বোস্টন থেকে পরিচালিত
হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে সামরিক বিমান, একটি সাবমেরিনও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ক্যাপ্টেন ফ্রেডরিক আগে বলেছিলেন, ‘অনুসন্ধানের জায়গায় ভারী যন্ত্রপাতি আনার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে। দুটি কানাডিয়ান কোস্ট গার্ড জাহাজ এবং একটি রয়্যাল কানাডিয়ান নৌবাহিনীর জাহাজ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।’ তবে সবশেষ উদ্ধার পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। শোনা গেছে, জরিপকাজে দক্ষ ব্রিটিশ সংস্থা ম্যাগেলানের জাহাজকে অনুসন্ধান এলাকায় কাজ করতে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্টের কোস্ট গার্ড।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট ইউকে