× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্বকাপ মাঠের ঘাসের গল্প

নিজামুল হক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এক স্টেডিয়ামে অতিযত্নে বেড়ে ওঠা ঘাস। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এক স্টেডিয়ামে অতিযত্নে বেড়ে ওঠা ঘাস। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের মাঠ শুধু ঘাসের আস্তরণ নয়, বরং এটি কৃষিবিজ্ঞান, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, প্রকৌশল ও সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল অবকাঠামো।

বিশ্বকাপের মাঠ তৈরির প্রথম ধাপ হলো উপযুক্ত ঘাস নির্বাচন। শীতল অঞ্চলে সাধারণত রাইগ্রাস ও কেন্টাকি ব্লুগ্রাসের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, কারণ এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য বারমুডাগ্রাস বেশি উপযোগী। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ভেন্যুতে তাদের স্থানীয় জলবায়ু ও স্টেডিয়ামের নকশা অনুযায়ী ঘাস নির্বাচন করা হয়েছে। উচ্চমানের মাঠ তৈরির জন্য ঘাসের নিচে বালুসমৃদ্ধ মূলস্তর ব্যবহার করা হয়, যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। এর নিচে থাকে নুড়িপাথরের স্তর, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সেচ পাইপ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পানি ও বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ প্লাস্টিক কাঠামো। কিছু স্টেডিয়ামে পারমাভয়েড প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভূগর্ভস্থ জলাধারের মতো কাজ করে।

 টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই বিশেষ টার্ফ খামারে ঘাস উৎপাদন শুরু হয়। নির্দিষ্ট অনুপাতে বীজ বপন, নিয়মিত ছাঁটাই, সেচ ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট-মানের ঘাস প্রস্তুত করা হয়। পরিপক্ব হওয়ার পর ঘাসকে বড় বড় ফিতার মতো কেটে রোল করে সংরক্ষণ করা হয় এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবহনে স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর লেজার-সমতল করা জমির ওপর ঘাস বিছানো হয়। এরপর রোলার দিয়ে সমান করা, সেচ দেওয়া এবং দ্রুত শিকড় বিস্তারের জন্য সার প্রয়োগ করা হয়। 

ফিফার জ্যেষ্ঠ পিচ ম্যানেজার ডেভিড গ্রাহাম রয়টার্সকে জানান, নিউইয়র্ক/নিউ জার্সিসহ কিছু ভেন্যুতে উষ্ণ মৌসুমের ঘাস ব্যবহার উপযোগী, আর উচ্চতার কারণে মেক্সিকো সিটিতে শীতল মৌসুমের ঘাস উত্তম। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বিশ্বকাপের মাঠ পরীক্ষা করে দেখেছেন, বেশি তাপমাত্রার খোলা স্টেডিয়ামের জন্য বারমুডাগ্রাস বেশি উপযুক্ত। লক্ষ্য হলো সব ভেন্যুতে একই ধরনের খেলার উপযোগী মাঠ নিশ্চিত করা, যদিও ব্যবহৃত ঘাসের প্রজাতি ভিন্ন হতে পারে।

আধুনিক ফুটবল মাঠকে আরও টেকসই করতে প্রাকৃতিক ঘাসের সঙ্গে কৃত্রিম তন্তুও ব্যবহার করা হয়। বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কোটি কোটি তন্তু মাটির ভেতর প্রবেশ করানো হয়, যা ঘাসের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠকে আরও শক্তিশালী করে। ফলে ঘাস সহজে উপড়ে যায় না এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরও মাঠের গুণগত মান বজায় থাকে।

বলের গতি ও খেলার মান ঠিক রাখতে প্রায় প্রতিদিন ঘাস কাটা হয়। নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পানি দেওয়া হয় এবং ম্যাচ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হয়। অনেক স্টেডিয়ামে সূর্যালোকের ঘাটতি পূরণে বিশেষ গ্রো-লাইট ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও এসব মাঠের গল্প শেষ হয় না। কিছু স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে বসানো প্রাকৃতিক ঘাস সরিয়ে আগের কৃত্রিম টার্ফ ফিরিয়ে আনা হয়। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা