সাক্ষাৎকার: আবুল হায়াত
আবুল হায়াত ছবি : কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে
বাংলা শিল্পাঙ্গনের জীবন্ত এক কিংবদন্তি আবুল হায়াত। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ, লেখালেখিতেও সমানভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন দর্শকদের প্রিয় মুখ। ঈদ, নাটক, বর্তমান প্রজন্মের নির্মাতা ও নিজের অভিনয় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদা বিশ্বাস
আরও পড়ুন: ঈদে আবুল হায়াতের সখিনা |
ঈদ এলেই ছোটবেলার কোন স্মৃতি বা বিশেষ মুহূর্তটি সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে?
ছোটবেলায় ঈদের দিন সকালে সকালে উঠেই পরিবারের সাথে সেমাই খাওয়ার অন্যরকম একটা আনন্দ ছিল। বাবার হাত ধরে জায়নামাজ নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম, বন্ধুদের বাড়িতে ঘুরতে যেতাম। অনেক মজার দিন ছিল তখন। এই সময়গুলো অনেক মনে পড়ে। এ ছাড়া কোরবানির ঈদে গরু কেনার আনন্দ, গরু-ছাগল জবাই দেওয়া সবই ভালোলাগার মুহূর্ত ছিল। আমার মনে পড়ে, কোরবানি দেয়ার সময় জবাই করা দেখে কান্না করতাম। পরে অবশ্য মাংস রান্না হলে সবাই মিলে একসাথে খাওয়া হতো। ছোটবেলার এই মুহূর্তগুলো অনেক মনে পড়ে। কারণ বড় হয়ে গেলে তখনকার মতো আর আনন্দ থাকে নাÑ সেই সময়ের মতো করে আমরা আর কোনো কিছুই অনুভব করতে পারি না।
প্রতি ঈদেই দর্শক আপনার নির্মিত নতুন নাটকের অপেক্ষায় থাকেন- এই ভালোবাসা কেমন অনুভূতি দেয় আপনাকে?
অবশ্যই ভালো লাগে। এই বিষয়টা আমি খুব উপভোগ করি। আমি কী কাজ, কেমন করলাম, দর্শকের কী মন্তব্য- এটা তো জানতে ইচ্ছে করেই। দর্শক যে আমাকে ভালোবাসে, প্রতি ঈদে আমার নতুন কাজের জন্য অপেক্ষা করে- এই বিষয়টা আমাকে অনেক আনন্দ দেয়। এবারের ঈদেও আমার বেশ কয়েকটা কাজ আসছে। সত্যি বলতে এবারও আমি সবার মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করছি।
আপনার অভিনীত কোন ঈদ-নাটকটি এখনও আপনার নিজের কাছে বিশেষ মনে হয়?
ঈদ উপলক্ষে যেসব কাজ করেছি তার সবগুলোই আমার কাছে বিশেষ। কষ্ট করে একটা নাটক বানাই, অবশ্যই সেটা আমার কাছে বিশেষ হবে। ঈদের বাইরে যেগুলো করেছি তার মধ্যে কিছু নাটক আছে একটু আলাদা। সেইগুলোও আমার জন্য বিশেষ কাজের মধ্যেই পড়ে।
অবসর সময়ে কী করতে পছন্দ করেন?
লেখালেখি করি, বাসায় সবাইকে সময় দিই, বাজার করিÑ এগুলো করেই আমার অবসর সময় কাটে।
আপনি অভিনেতা, লেখক দুটি পরিচয়েই সমান পরিচিত। কোন পরিচয়টা দিতে আপনি বেশি উপভোগ করেন?
লেখক পরিচয় আমি দিতে চাই না। লেখক বলতে যা বোঝায় তা আমি না। নাটক বানাই এটাই আমার বড় পরিচয়। এই পরিচয় দিতেই বেশি উপভোগ করি।
এখনকার তরুণ নির্মাতাদের কাজ দেখে কেমন লাগে? কার কাজ আপনাকে আশাবাদী করে?
তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে মোটামুটি সবার কাজ দেখি। ভালো করছে তারা। সবাইকে নিয়েই আমি আশাবাদী, তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। তারা লেখাপড়া করে এসে জেনে-বুঝে কাজ করছে। তাদের কাজ দেখে দর্শকও অনেক আনন্দিত।
বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আপনি কী পরামর্শ দেবেন?
পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। তারা বিশ্ববিদ্যালয় পাস করে এসে জেনে-বুঝে কাজ করছে। তাদের নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি যা বলব তার চেয়ে তারা অনেক ভালো করছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দেবে।
যদি কখন আপনার জীবনী নিয়ে সিনেমা হয়, নিজের চরিত্রে কাকে দেখতে চাইবেন?
খুবই কঠিন প্রশ্ন, বলা মুশকিল। আলাদা করে কারও নাম বলতে চাই না। যে কেউ আমার চরিত্রে অভিনয় করতে পারে। আমার মনে হয় যেই করুক সে অবশ্যই ভালো করবে। এখন সবাই অনেক ভালো অভিনেতা।