প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে
প্রিয় বাবা,
সব কথা মুখে বলা যায় না বলেই খাতা-কলম নিয়ে বসে চিঠি লেখা।
প্রথমেই একটা সরল অভিযোগ তুমি ছোটবেলা থেকে যতবার বলেছ, ‘বড় হলে বুঝবি!’, আমি ততবার বড় হওয়ার কথা ভেবেছি। একপর্যায়ে বুঝলাম, আমার বোধহয় কখনোই বড় হওয়া হবে না।
ছোটবেলায় আমি মুগ্ধ হতাম পাঁচ মিনিটের গল্পকে পঁয়তাল্লিশ মিনিটে নিয়ে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে। বাবা, তোমার গল্পের আফ্রিকান হাতিগুলো আজ কেমন আছে? সেই জঙ্গলের রাজা সিংহটা কি এখনও গর্জন দেয়? আর সেই বুদ্ধিমান বানরটা, যে নাকি সবাইকে ফাঁকি দিত, সে কি এখনও গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়ায়?
মজার ব্যাপার হলো, এখন বুঝতে পারি গল্পগুলো হয়তো পুরোপুরি সত্যি ছিল না, কিন্তু সেগুলো শুনে যে আনন্দ পেতাম, সেটা একদম সত্যি ছিল।
বাবা, তোমাকে দেখে অনেক কিছু শিখেছি। সাইকেল চালানো, হেরে গিয়ে আবার চেষ্টা করা, নিজের ভুল স্বীকার করা এসবের কোনো আলাদা ক্লাস ছিল না। তুমি না বুঝিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছ।
তবে একটা কথা বলি? তুমি মাঝে মাঝে খুব ব্যস্ত হয়ে যাও। তখন মনে হয়, ছোটবেলার সেই গল্প বলা বাবাটাকে একটু খুঁজে পাই না। যদিও জানি, আমাদের ভালো রাখার জন্যই তোমার এত ব্যস্ততা। তবুও মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, আমরা আবার একসঙ্গে বসে গল্প করি, হাসি, আর তুমি নতুন করে কোনো আফ্রিকান হাতির কাহিনী শোনাও।
আজ আমি মাত্র চৌদ্দ বছরের একজন ছেলে। পৃথিবীর সবকিছু বুঝি না, কিন্তু এটুকু বুঝি বাবারা অনেক সময় তাদের ভালোবাসা কথায় প্রকাশ করেন না, কাজের মাধ্যমে করেন। আর তুমি ঠিক তেমনই একজন বাবা।
তাই আজ অভিযোগ নয়, বরং ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পাশে থাকার জন্য, আমাকে বিশ্বাস করার জন্য, আর আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে থাকার জন্য।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল।
তোমার স্নেহের সন্তান
প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী
সপ্তম শ্রেণি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা