× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মন্দিরের টিআর প্রকল্প

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দীপক কুমার বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দীপক কুমার বর্মণ। ছবি: সংগৃহীত

মন্দিরের উন্নয়নের জন্য সরকারি টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা দীপক কুমার বর্মণের (প্রিন্স) বিরুদ্ধে।

পাশাপাশি তার নামে ওএমএস ডিলার নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়, মন্দির কমিটি গঠনের নামে টাকা নেওয়া, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

দীপক কুমার বর্মণ নরসিংদী জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নরসিংদী পৌরসভার বৌয়াকুড় এলাকায় অবস্থিত শীতলাবাড়ি মন্দিরের উন্নয়নের জন্য চলতি বছরের ৫ এপ্রিল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নথি অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এতে সভাপতি করা হয় দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)-কে, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সূত্রধর এবং সদস্য হিসেবে কিশান দাস পার্থ, সজয় দাস ও তুষার দাসের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

একই দিন পৌর প্রশাসক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনও দেওয়া হয়।

পরে গত ১১ মে সভাপতির নামে ইস্যু করা চেকের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দের পুরো অর্থ মন্দিরের উন্নয়নকাজে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে নিজের ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি কয়েকজনের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমেও কমিটি গঠন করা হয়

আরও অভিযোগ, অর্থ উত্তোলনের পরও মন্দির কমিটির দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছিল যে বরাদ্দের টাকা এখনো পাওয়া যায়নি।

শীতলাবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক অখিল দাস জানান, মন্দিরের উন্নয়নের জন্য তারা পৌরসভায় অনুদানের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো অর্থ তারা পাননি। 

মন্দির কমিটির অন্যান্য সদস্যও একই দাবি করে বলেন, লোকমুখে বরাদ্দের কথা শুনলেও তাদের হাতে কোনো অর্থ পৌঁছেনি।

তারা আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার করে মন্দিরের তহবিলে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য তুষার দাস জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, তাকে না জানিয়েই তার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তার স্বাক্ষরও জাল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগে বলেন, সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার করে মন্দিরের তহবিলে দেওয়া হোক।

শুধু মন্দিরের অর্থ নয়, ওএমএস ডিলার নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রিন্সের বিরুদ্ধে।

বৌয়াকুড় এলাকার বাসিন্দা বলাই জানান, ওএমএস ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়।

 টাকা জোগাড় করতে তার স্ত্রীকে গয়না বন্ধক রাখতে হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ডিলারশিপ পাননি, ফেরতও পাননি টাকা, দাবি করেন তিনি।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাগবত আশ্রমের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর আশ্রম পরিচালনা কমিটির বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব পাওয়ার পর দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স) উভয় পক্ষের কাছ থেকেই কমিটি গঠনের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রিন্স এবং তার শ্যালক জেলা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কিশান দাস পার্থ দলীয় পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেছেন।

এ ধরনের প্রতারণার শিকার আরও অনেক ব্যক্তি রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দীপক কুমার বর্মণ (প্রিন্স)

তিনি বলেন, বরাদ্দের অর্থ সম্পর্কে মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস অবগত আছেন। এ বিষয়ে জানতে হলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্যদিকে মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সজয় দাস বলেন, তারা শুনেছেন কেউ একজন তাদের মন্দিরের নামে বরাদ্দের টাকা তুলে নিয়েছে। কিন্তু মন্দির কমিটি এখনো সরকারি কোনো অনুদানের অর্থ হাতে পায়নি।

জেলা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমেদ বলেন, মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের জন্য সরকারি বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন।

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

লিখিত অভিযোগ পেলে অথবা প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা