নিজস্ব প্রতিবেদক,বরিশাল
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ১১:২২ এএম
জাকির মোল্লা ও রাজ্জাক মোল্লা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বরিশালের বাবুগঞ্জে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান তারা।
উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা একই ইউনিয়নের বালু ব্যবসায়ী ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জহিরুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।
জহিরুল ইসলাম টাকা দেওয়ার কথা বলে সোমবার রাত ৮টার দিকে জাকির মোল্লাকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসতে বলেন। নির্ধারিত সময়ে জাকির মোল্লা তার সহযোগী চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনাস্থলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উত্তেজিত জনতা জাকির মোল্লা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর বিএনপির ওই দুই নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, জাকির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির মোল্লা বলেন, “আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। বালু ব্যবসা নিয়ে একসঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কখনো চাঁদাবাজি কিংবা চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, তাই ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই। তবে চাঁদাবাজির বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”