মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ২৭ নৃ-গোষ্ঠী জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নিয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২।
উপজেলার ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়নের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বর্ণিল এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, ফিনলে টি কোম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাসিন আহমেদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।
টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বিকাশে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স
রুমে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ
ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, "বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পর্যটন খাত অংশে কমিনিউটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গেজেটভুক্ত রয়েছে তন্মধ্যে শ্রীমঙ্গল ও তদসংলগ্ন এলাকায় গেজেটভুক্ত ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এছাড়াও চা বাগান কেন্দ্রিক বসবাস রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিলুপ্তপ্রায় বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পুনরদ্ধারের মাধ্যমে টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। সারাবিশ্বের ট্যুরিস্টদের কাছে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বিশেষত সেখানকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও জীবনধারা আকর্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশি ট্যুরিস্টদের কাছে অব্যাহতভাবে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও উৎসব তুলে ধরতে চায়। হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ আয়োজনে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, জীবনাচার, পোশাক, ব্যবহৃত গহনা, শিকারে ব্যবহৃত তীর ধনুক ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিক্রয় করতে পারবে। এছাড়াও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি যেমন নাচ, গান, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ যাবতীয় বিষয়াদি দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। এ আয়োজন শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র ও নৃগোষ্ঠীদের জীবনধারা, সংস্কৃতি, উৎপাদিত পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশ সাধন করবে, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলে কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সম্প্রসারিত হবেÑ যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। ইতোমধ্যে সেখানে মনিপুরি জনগোষ্ঠীর একটি কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
হারমোনি ফেস্টিভ্যালে খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বাড়াইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূইয়া, সাঁওতাল, ওরাও, লোহার, মুন্ডা, কুর্মী, ভুমিজ, বুনারাজি, গঞ্জ, মৃধা, তেলেগু, গৌড় সমাজ, রবিদাস, পাইনকা, কৌরি/ভুজপুরী, কালিন্দি, কড়াসহ শ্রীমঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি নৃগোষ্ঠী তাদের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবে এ আয়োজনের মাধ্যমে। সবর জনগোষ্ঠীর সবরী নৃত্য, ভজন নৃত্য ও বোনাকাড়ো নৃত্য, খাড়িয়াদের ঝুমুর ও খাড়িয়া নৃত্য, রিকিয়াসনদের মুশোরি নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য ও লাঠি নৃত্য, বাড়াইকদের ডমকচ নৃত্য, ডীনসারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কন্দদের কুই নৃত্য, রাজবল্ববদের কিরংগ লগইলু নৃত্য ও দহি আনিচিরে নৃত্য, ভূঁইয়াদের ভূঁইয়া গীত, সাঁওতালদের লাগড়ে নৃত্য ও দং নৃত্য, ওরাওদের ওরাও নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কুর্মীদের কুরমালি নৃত্য, ভুমিজদের ঝুমুর নৃত্য, বুনারাজিদের অলেখ্য ভোজন, সম্বল পুরিয়া নৃত্য ও মংলা নৃত্য, লোহারদের ভুজপুরি রামায়ন কীর্তন, গজ্জুদের রঙ ঝুমুর ও আসাম নৃত্য, তেলেগুদের গানতি বাজনি (ডাল তেলু) ও সেলতেলু (কাঠি নৃত্য), কড়াদের ঝুমুর নৃত্য ও ধামসি কড়া নৃত্য, খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক ডিয়া কেরছা ও মালা পরিধানের মাধ্যমে নাচ ও গান, তীর ধনুক প্রতিযোগিতা, সীয়াট বাটুর (গুলতি দিয়ে খেলা), কিউ থেনেং (তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রতিযোগিতা), গৌড়দের লাঠি নৃত্য, কার্মা নাচ ও দাদারিয়া গীত, মৃধাদের লাঠি নৃত্য ও ঝুমুর নৃত্য, কৈরী/ভুজপুরিদের ভজন সংগীত, লাচারি ও পুরবী সংগীত, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাথারক নৃত্য, বৈসু নৃত্য, জুম নৃত্য, মামিটা নৃত্য ও আতারঙ চাকহাই নৃত্য, গারো জনগোষ্ঠীর মান্দি নৃত্য, গারো জুম চাষা নৃত্য, ওয়ানগালা উৎসব প্রদর্শন, ও সেরেনজিং নৃত্য (প্রেম কাহিনীর গান), মনিপুরি জনগোষ্ঠী রাস লীলা নৃত্য, পুং চলোম নৃত্য (ঢোল নৃত্য) এবং রাধা কৃষ্ণ নৃত্য, রবিদাসদের রাজধারী নৃত্য ও পুরবী বিরহা গান, পাইনকাদের কারমা গীত ও দাদারিয়া গীত, ভূইয়াদের ভূইয়া গীত এবং কালিন্দিদের কালিন্দি ঝুমুর নৃত্য প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাত, মনিপুরিদের লাইভতাত, চা প্রদর্শনী, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্যও পরিবেশন করা হবে। খাসিয়া জনগোষ্ঠীদের পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, মনিপুরিদের লাইভ তাত, হোমস্টে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের কাঠ ও বাঁশের সামগ্রী লাইভ প্রস্তুত, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করা হবে। হারমোনি ফেস্টিভ্যালের এ আয়োজনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন এর ১০টি স্টল থাকবে যেখানে তাদের উদ্যোক্তাগণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিষ্ট পুলিশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, হোটেল রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর ট্যুর গাইড, ফিনলে চাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সফল বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পর্যটন শিল্পে পণ্য উন্নয়ন ও প্রচারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রতিবছর এ আয়োজনটি শ্রীমঙ্গলে একটি নির্দিষ্ট দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর ফলে ট্যুর অপারেটররা ইনবাউন্ড প্যাকেজ প্রস্তুত ও বিপণন করতে সক্ষম হবেÑ একই সঙ্গে বিদে ট্যুরিস্টরা এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারবে। এটি টেকসই সংস্কৃতি বিকাশ ও কালচারাল ট্যুরিজম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।