× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুমেক হাসপাতাল

রেডিওথেরাপির বন্দিদশা

মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

খুমেক হাসপাতালে ১৫ বছর ধরে বাক্সবন্দি হয়ে আছে রেডিওথেরাপি যন্ত্র। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুমেক হাসপাতালে ১৫ বছর ধরে বাক্সবন্দি হয়ে আছে রেডিওথেরাপি যন্ত্র। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। থমকে আছে উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা।

একদিকে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আনা রেডিওথেরাপি যন্ত্র ১৪-১৫ বছর ধরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। অন্যদিকে টিকা পরিবহনের জন্য আনা আধুনিক সরকারি গাড়িও তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হওয়ার পথে। রোগী, চিকিৎসক ও প্রশাসন সবাই বলছে একই কথা পরিকল্পনা আছে, টাকা আছে। কিন্তু নেই বাস্তবায়ন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যানসার চিকিৎসার প্রধান ভরসা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক)। কিন্তু এই হাসপাতালেই ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রেডিওথেরাপি আজ কার্যত অচল।

২০০৯ সালে স্থাপিত ৬০ কোবাল্ট রেডিওথেরাপি মেশিন কয়েক বছরের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। তারপর থেকেই টানা দেড় দশক ধরে এটি ব্যবহারের বাইরে। এতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, মাগুরাসহ আট জেলার ক্যানসার রোগীরা কার্যত ঢাকামুখী।


হাসপাতালের তথ্য বলছে, বছরে প্রায় ২০০০ ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন খুমেকে। কিন্তু রেডিওথেরাপি না থাকায় ৬০-৭০ শতাংশ রোগী শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে পারেন না।

এক রোগী শেফালী খাতুনের কণ্ঠে অসহায়তা স্পষ্ট ঢাকায় গিয়ে ছয় মাস অপেক্ষা করেছি, সিরিয়াল পাইনি। ব্রেস্ট ক্যানসার ছিল। কিন্তু রেডিওথেরাপি না পাওয়ায় চিকিৎসা থেমে গেছে।

আরেক রোগী নীলুফা আক্তার বলেন, ঢাকায় থাকার সামর্থ্য নেই। তাই কেমো শেষ করেও রেডিওথেরাপি নিতে পারিনি।

খুমেক ক্যানসার বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন ২০-৩০ জন রোগী রেডিওথেরাপির জন্য আসেন। কিন্তু আমরা দিতে পারি না। এটা রোগীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি।

চিকিৎসক ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৬২টি বাক্সে রেডিওথেরাপি যন্ত্র আসে হাসপাতালে। এর মধ্যে ২২টি পরে ঢাকা ক্যানসার ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলেও বাকি অংশ এখনও সিলগালা অবস্থায় পড়ে আছে।

খুমেক ক্যানসার বিভাগের প্রধান ডা. মুকিতুল হুদা বলেন, এটি অত্যন্ত সেনসিটিভ মেশিন। ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দরকার। ইনস্টলেশনই হয়নি। ওয়ারেন্টিও শেষ হয়ে গেছে। ফলে এগুলো কার্যত অচল।

তিনি আরও বলেন, ভারী যন্ত্র আনার আগে অবকাঠামো ও জনবল দরকার ছিল। সেটাই নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) ২০২৩ সালে নতুন লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর এআইএনএসি মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু হাসপাতালের বেজমেন্টে সেটি বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। রেডিয়েশন সেফটির জন্য আলাদা ব্লক, পুরু কংক্রিট ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল দরকার। বেজমেন্টে সেটা সম্ভব নয়। ঝুঁকি থেকেই যায়।

প্রশাসনিক সূত্র জানায়, গত তিন বছরে অন্তত পাঁচবার ফাইল আদান-প্রদান হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে হাসপাতাল চত্বরে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসার জন্য ১৫ তলা ভবন নির্মাণ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রশ্ন ভবন তৈরি হলেও যদি যন্ত্র ও জনবল না থাকে, তবে সেটির কার্যকারিতা কী?

একই চিত্র দেখা গেছে স্বাস্থ্য প্রশাসনেও। করোনা টিকাদান ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য আনা একটি আধুনিক এসি ভ্যাকসিন পরিবহন যান তিন বছর ধরে পড়ে আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের সামনে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের মার্চে গাড়িটি আনা হলেও আজও একবারও ব্যবহার হয়নি। চালক না থাকায় এটি কার্যত অচল।

খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসক জাহাতাব হোসেন বলেন, গাড়িটি ব্যবহার হয়নি। মাঝেমধ্যে ইঞ্জিন চালু করা হয়, তবে নিয়মিত কার্যক্রমে নেই।

পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত ও জনবল পেলে এটি কাজে লাগানো যাবে।

দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের ক্যানসার চিকিৎসার ভরসা আজও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। বাক্সবন্দি যন্ত্র, অসম্পূর্ণ প্রকল্প আর অব্যবহৃত গাড়ি সব মিলিয়ে খুলনার স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেন এক দীর্ঘ প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। রোগীদের প্রশ্ন একটাই, দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও ক্যানসারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কি আদৌ পাবেন খুলনাবাসী?

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা