রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে পুশইনের শিকার নারী-শিশুসহ ৯ জন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ৯ জন এখনও দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এর আগে রবিবার জেলার রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভেন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে ওই ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নেয়। পরে দুপুরে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। বৈঠকে উভয়পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ওই ৯ জন ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের পাশেই অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ ও বিজিবি নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
সীমান্তে অবস্থানরত ৯ জনের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, তা নিয়ে এখন অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “রবিবার দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যাচাই-বাছাই ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে”।