জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম
ডুবন্ত জাহাজ থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পিরোজপুরের জিয়ানগরে কচা নদীতে ডুবে থাকা একটি জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামের এক নিখোঁজ যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
উপজেলার পারেরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুল্লাহ একই এলাকার আলাল পশারীর ছোট ছেলে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানায়, গত ১২ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আকিজ গ্রুপের ‘এমভি গ্রীন এসট্রল-১’ নামের একটি পণ্যবাহী কার্গো উমেদপুর এলাকার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীর চরে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি; কার্গো চালক, সহকারী ও কর্তৃপক্ষ নিরাপদে চলে যান। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত আব্দুল্লাহ বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে না ফিরলে পরদিন পরিবারের লোকজন নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে জাহাজের পাশে ছোট ডিঙ্গি নৌকায় নিহতের পায়ের একটি জুতা এবং কার্গোর সিঁড়ির ওপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দেখতে পেয়ে নিহতের বড় ভাই গত শনিবার ইন্দুরকানি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহতের বড় ভাই রানা পশারী বলেন, “তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। আমি থানায় জিডিও করেছিলাম। আমার ভাই ওই জাহাজের কাছে কেন এবং কীভাবে গেছে, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। আমার ভাইয়ের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, সেটা ময়নাতদন্তের পর বুঝতে পারব”।
জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, “আকিজ গ্রুপের একটি পণ্যবাহী কার্গো গত ১২ জুন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নদীর চরে ডুবে যায়। পরদিন শনিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হলে আমাদেরকে ডুবুরি দলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে বরিশালের ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা রোববার বিকেলে আসে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কার্গোটির ইঞ্জিনকক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি”।
তিনি আরও বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে চুরির উদ্দেশ্যে ওই যুবকসহ একাধিক লোক একটি নৌকায় করে আসছিল। সেই নৌকায় নিহতের একটি জুতাও পাওয়া গেছে। কার্গোটির ইঞ্জিনে তারা ঢুকলে স্লিপ কেটে ওই যুবক পড়ে গিয়ে ভেতরে আটকে যায় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়”।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, “নিহত আব্দুল্লাহর ভাই রানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে আব্দুল্লাহকে উদ্ধারের জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিসকে চিঠি পাঠাই। ফায়ার সার্ভিস এবং আমাদের যৌথ অভিযানে আব্দুল্লাহর মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় জাহাজের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে”।