শাহিনা নদী
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩ ১৬:২৪ পিএম
মডেল : মঞ্জুর ও দ্বীপ; পোশাক : কে ক্র্যাফট; ছবি : ফারহান ফয়সাল
গ্রীষ্মের হলকায় স্বাভাবিক জীবন হয়ে উঠেছে ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড তাপে ঘর থেকে বের হওয়া যেন দায়। তবু জীবন-জীবিকার তাগিদে রোজ বাইরে যেতে হয়। চাকরিজীবী ছেলেদের তো কথাই নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ঘরের বাইরে থাকতে হয়। তীব্র এই দহনকালে লম্বা সময় ঘরের বাইরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে আরামদায়ক পোশাক

ছেলেদের পোশাক নির্বাচনে দুটি লুককে প্রাধান্য দেওয়া হয়- ফরমাল ও ক্যাজুয়াল। চাকরিজীবী এবং নির্দিষ্ট অফিস ড্রেসকোড রয়েছে (যেমন ব্যাংক বা করপোরেট অফিস) তাদের ফরমাল পোশাক পরতেই হয়। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নেই সেখানে সুযোগ আছে ক্যাজুয়াল পোশাক বেছে নেওয়ার। অফিস ছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘোরাঘুরি কিংবা কোনো কাজে বাইরে বের হলে ক্যাজুয়াল পোশাকই মানানসই। এ গরমে সে ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পায় টি-শার্ট। আরামের পাশাপাশি ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনতে টি-শার্টের নকশায় ও কাপড়ে দেখা যায় ভিন্নতা। গরমে টি-শার্ট যেমন আরামদায়ক তেমনি বাহারি রঙ, ব্লক-বাটিক প্রিন্টসহ প্রতিটি শার্ট, টি-শার্ট যেন হয়ে উঠেছে ডিজাইনারের রঙতুলির ক্যানভাস।
এই গরমে ফরমাল লুকের জন্য যে ধরনের পোশাক বেছে নিতে পারেন : ভালো মানের ফেব্রিকের ফুলহাতা শার্ট, ভালো মানের সুতির কাপড়, সাদা কাপড়ের টেক্সটাইল ফেব্রিক্স। আবার ক্যাজুয়াল লুকের জন্য বেছে নিতে পারেন সুতি হাফহাতা শার্ট, পোলো শার্ট, ব্লকের শার্ট, ভালো মানের টি-শার্ট, ঢিলেঢালা ফতুয়া, হালকা রঙের সুতার নিটেড টি-শার্ট। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে গেলে পরতে পারেন সুতি অথবা খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি; যা ফ্যাশনের পাশাপাশি গরমে আপনাকে দেবে আরাম ও স্বস্তি।

এই গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো রঙ। রঙ এমন একটি জাদুকরি উপাদান, যা এই রৌদ্রোজ্জ্বল তাপে দিতে পারে স্বস্তি। অন্যদিকে ভুল রঙের পোশাক নির্বাচন এমন দিনে গরম অনুভূতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রঙ নির্বাচনে হতে হবে সচেতন। ফরমাল লুকের জন্য নীলাভ, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ, আকাশি ইত্যাদি রঙের শার্ট বেছে নিতে পারেন। এমন গরমে সিনথেটিক কাপড় ও কালো রঙের পোশাক একেবারেই নয়। সেই সঙ্গে ওয়ারড্রবেই থাক টাইট প্যান্ট ও ফিটিং শার্ট। এ গরমে এ ধরনের পোশাক স্বস্তি তো দেবেই না, বরং শরীরে বাতাস ঢুকতে না পেরে ঘেমে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। হতে পারে ত্বকের সমস্যা। তাই গরমে একটু ঢিলেঢালা পোশাক সব দিক থেকে ভালো। অনেকে কলারবিহীন টি-শার্ট পরতে ভালোবাসেন। কিন্তু রোদের যা তেজ তাতে রোদে পুড়ে ঘাড় কালো হয়ে যেতে পারে। তাই কলারসহ টি-শার্ট পরাই ভালো। ক্যাজুয়াল লুকের জন্য যেকোনো রঙের হালকা শেড বেছে নিতে পারেন। যারা ট্রেন্ডি ফ্যাশনে তাল মেলাতে চান, তারা পরতে পারেন ঢিলেঢালা টাইডাই করা সুতির হাফ শার্ট।
গরমের পোশাক নির্বাচনে রঙের পাশাপাশি প্রাধান্য দিতে হবে ফেব্রিকে। ছেলেরা যেহেতু দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটান, তাই পোশাকটি হতে হবে আরামদায়ক কাপড়ের। এ ক্ষেত্রে সুতির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। পাতলা সুতি কাপড়ে ঘামের শোষণক্ষমতা থাকে সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের কাপড় অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় গরমের অনুভূতি কমায়। তাই সুতি বা তাঁতে তৈরি কাপড়ের পোশাক হতে পারে এ গরমের স্বস্তিদায়ক সঙ্গী।

হাফহাতা শার্ট
হাল ফ্যাশনে হাফহাতা শার্টের চাহিদা পছন্দের শীর্ষে। আপনি গরমে আরামদায়ক পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন ক্যাজুয়াল হাফ শার্ট। এ শার্টে যেমন ফুটে উঠবে ফ্যাশনেবল লুক, তেমনি পাওয়া যাবে স্বস্তি। ক্যাজুয়াল হাফ শার্টের কলারে এখন দেখা যায় বৈচিত্র্য। একসময়ের চওড়া কলারের বদলে এখন সরু কলারের শার্ট পরতে বেশি দেখা যায়। সাধারণ ন্যারো কলারের পাশাপাশি চলছে ব্যান্ড কলার ও টিউনিক ব্যান্ড কলার। হাফহাতা ও থ্রি-কোয়ার্টার হাতায় ফোল্ডিং এখনও বেশ জনপ্রিয়। নিচের দিকে রাউন্ড লেয়ার, ডিশ লেয়ার কাট শার্ট তরুণদের পছন্দ। স্লিম কাটের শার্ট বেছে নেন অনেকে। হাতা লম্বা হোক বা ছোট, গুটিয়ে পরতেই পছন্দ করেন এখনকার ফ্যাশন সচেতন তরুণরা।
আরও পড়ুন : এ সময়ে নিমন্ত্রণে

রঙবেরঙের প্রিন্ট শার্ট
নরম কাপড়ে প্রিন্টের কাজসহ রঙবেরঙের শার্টও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাল ফ্যাশনে। এর মধ্যে কিছু শার্টের নকশায় রয়েছে পুরো বডি একরঙা আর কলার ও হাতের কাফগুলো অন্য রঙে সাজানো। নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে উপস্থাপন করা হয়েছে স্ট্রাইপ দিয়েও। গ্রাফিক হাফ শার্ট ও ভি-নেক হাফ শার্টও এখন বেশ জনপ্রিয়। পকেটেও এসেছে নানা ধরনের বৈচিত্র্য। কোনোটায় থাকছে এক বা একাধিক পকেট, কোনোটা আবার পকেট ছাড়া।
পোলো শার্ট
বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় পোলো শার্ট। গরমে এ শার্ট খুবই আরামদায়ক। তা ছাড়া একই সঙ্গে ফরমাল বা ক্যাজুয়াল ব্যবহার করা যায়। মূলত পোলো টি-শার্টগুলো হলো স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট। ফ্যাশন হাউস ‘কে ক্র্যাফট’-এর স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘পোলো শার্টগুলোর সাত-আটটি রঙ রয়েছে আমাদের। তার মধ্যে উজ্জ্বল বেগুনি, সাদা, উজ্জ্বল সবুজ রঙগুলোর চাহিদা বেশি। পরতে আরামদায়ক ও বাজেট ফ্রেন্ডলি হওয়ায় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি প্রাধান্য পায়। এ ছাড়া ভালো মানের কাপড় পরলে গরম থেকে কিছুটা শান্তি মেলে।

টি-শার্ট
গরমে আরামের প্রিয় পোশাক হলো টি-শার্ট। আরামদায়ক বৈশিষ্ট্য, জনপ্রিয়তা ও চাহিদা টি-শার্টের চেহারায়ও দিয়েছে ভিন্নতা। তরুণদের চাহিদার কথা ভেবে বাজারে এসেছে ক্যাজুয়াল টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট। টি-শার্টগুলোর গলায় রয়েছে একাধিক ডিজাইন। গোল গলা, ভি গলা, কলারসহ নানা রকম টি-শার্ট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। টি-শার্ট কেনার আগে কাপড় সুতি কি না তা যাচাই করে নিন। ফতুয়া কাটের গলার টি-শার্টও বেছে নিতে পারেন। গরমের টি-শার্টের বুকে নানা ডিজাইনের সংমিশ্রণও দেখা যাচ্ছে। তাই গরমের জন্য বেছে নিতে পারেন সাদা, নীল, ছাই, ঘন নীল, সবুজ, মেরুন, হলুদ, হালকা ফিরোজা, গোলাপি, লালচে ইত্যাদি রঙের টি-শার্ট।
ফতুয়া
ফতুয়া ছেলেদের আরামদায়ক পোশাকের তালিকায় অন্যতম। যেকোনো প্যান্টের সঙ্গে যা পরা যায়, ঝামেলাও কম। এ গরমে উৎসবের পোশাক হতে পারে হাতের কাজ করা ফতুয়া। সঙ্গে পরুন জিন্স বা একরঙা ট্রাউজার। এতে গরমে যেমন আরাম পাবেন, তেমনি আপনাকে দেখে চোখ জুড়াবে সবার। তা ছাড়া ক্যাজুয়াল আউটফিটের জন্য ফতুয়া দৃষ্টিনন্দন একটি পোশাক।
ফরমাল লুক হোক বা ক্যাজুয়াল; শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া বা পাঞ্জাবির সঙ্গে এ গরমে প্যান্টের কাপড়টিও হওয়া চাই আরমদায়ক। তাই ফরমাল লুকের সঙ্গে গাঢ় বাদামি, ধূসর বাদামি, হালকা বাদামি, অফ হোয়াইট রঙের প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। আর ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে স্ট্রেইট কাটের জিন্স অথবা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের প্যান্ট গরমে বেশ আরামদায়ক। এ ধরনের প্যান্ট সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে যায়, অন্যদিকে ট্রেন্ডি লুক দেয়। এ সময় এমন পোশাক বেছে নিতে হবে যেন দ্রুত ঘেমে ভিজে না যায়। ঘাম শরীরে বসে সর্দি-কাশি, ঘামাচি, চুলকানি ও অন্যান্য রোগের আবির্ভাব ঘটায়। ক্যাজুয়াল লুকের জন্য ছেলেরা গরমে ট্রেন্ড হিসেবে বেছে নিতে পারেন ঢিলেঢালা কার্গো বা থ্রি-কোয়ার্টার; সঙ্গে হাফহাতা শার্ট বা টি-শার্ট। ব্লক-বাটিক করা সুতির হাফহাতা শার্ট, ব্লকের শার্ট, পোলো শার্ট অথবা ফতুয়া; সঙ্গে স্ট্রেইট কাটের জিন্স।
যেখানে পাবেন : রাজধানীর নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, মিরপুর, মতিঝিল, রাজউক কমপ্লেক্স, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক, চাঁদনী চক মার্কেটসহ নিকটস্থ যেকোনো শপিং মল, শোরুম বা ফ্যাশন হাউসে গেলেই পেয়ে যাবেন গরমের নানা পোশাক।
দরদাম : পাইকারি কিংবা খুচরা বাজারে টি-শার্টের দাম পড়বে গোল গলা ২শ থেকে ৪শ, কলারওয়ালা হলে ৩শ থেকে ৫শ টাকা। ব্র্যান্ডের টি-শার্ট কিনতে হলে খরচ করতে হবে ২শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা। শার্ট মিলবে ৫শ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫শ টাকার মধ্যে। প্যান্ট কিনতে পারবেন ৫শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকায়। স্থান, বাজারদর ও পোশাকের গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে পোশাকের দাম ওঠানামা করে। শপিং মলগুলোয় শার্ট কিনতে হলে গুনতে হবে ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৩শ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে মেলে পছন্দসই টি-শার্ট।