প্রচ্ছদ
নীরা ইসলাম
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৪:২২ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১৪:৩০ পিএম
মডেল : জারা; পোশাক ও ছবি : বিশ্বরঙ
পোশাকে প্রকাশ পায় ব্যক্তিত্ব- সৌন্দর্য-আভিজাত্য। তাই নিজের পছন্দ ও উপলক্ষ অনুযায়ী প্রয়োজন সঠিক পোশাক নির্বাচন। যদি হয় নিমন্ত্রণবাড়ি, তাহলে তো কথাই নেই। নিমন্ত্রণ যেমনই হোক না কেন নারীদের পোশাক হিসেবে শাড়ি সব সময়ই থাকে পছন্দের শীর্ষে। তবে শাড়ি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে এই গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমকেও

বছরজুড়ে কমবেশি উৎসব বা উপলক্ষ লেগেই থাকে। এ মৌসুমে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ সবাই। অনেকেই গরমের জন্য নিমন্ত্রণ এড়িয়ে যান। তবে নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবদের আহ্বান এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ধরা যাক, কাছের কারও বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ে বলতে শুধু এক দিন নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গায়েহলুদ, বিয়ে, বৌভাতসহ আরও নানা অনুষ্ঠান। আবার বছরের কিছু বিশেষ দিন যেমন পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ, ঈদ, পূজাপার্বণগুলোতেও একটু সাজগোজ না করলেই নয়। তেমনি জন্মদিন, অফিস পার্টি, ট্যুর, যেকোনো পুনর্মিলনীতে ইচ্ছে না থাকলেও যোগ দিতে হয়। এমন নিমন্ত্রণে নিজেকেও বেশ গুছিয়ে উপস্থাপন করতে চান অনেকে। বাহারি পোশাক যেমন- কামিজ, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা ও গাউন পরার সুযোগ থাকলেও যেকোনো নিমন্ত্রণে শাড়ি নারীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। শাড়িতেই নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তবে সব নিমন্ত্রণে যেকোনো শাড়ি মানানসই হয় না। নিমন্ত্রণের ধরন ও সময় অনুযায়ী শাড়ির ফেব্রিক, রঙ, নকশা নির্বাচন করতে হয়।
মৌসুম, আবহাওয়া, উৎসবের ধরন মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করছে নিত্যনতুন পোশাক। একদিকে আবহাওয়া উপযোগী, অন্যদিকে ফ্যাশনেবল হওয়ায় পোশাক নির্বাচন এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে। দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব সাহা বলেন, নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে প্রয়োজন যথোপযুক্ত পোশাক। সবার চাহিদা ও পছন্দের কথা মাথায় রেখেই পোশাকের ডিজাইন করি। এখন যেহেতু গরম তাই আরামের কথা বিবেচনা করে শাড়ি তৈরি করা হয়েছে শিফন, হাফসিল্ক, চাঁদনি সিল্ক ফেব্রিকে। যা একদিকে আরামদায়ক, তেমনি মানিয়ে যাবে যেকোনো অনুষ্ঠানে।

সময় অনুযায়ী শাড়ি
উৎসব, পালাপার্বণ, নিমন্ত্রণের ধরন অনুযায়ী যেমন শাড়ির নকশায় আসে ভিন্নতা, ঠিক তেমনি সময়ের আঙ্গিকে শাড়ির রঙেও আনা হয় বৈচিত্র্য। দিনের যেকোনো অনুষ্ঠানে বেছে নিতে পারেন হালকা রঙের শাড়ি। নকশাও হওয়া উচিত সাধারণ। দিনে পরার জন্য শাড়ির নকশায় খুব বেশি জরি, চুমকি, স্টোন না থাকাই ভালো। উজ্জ্বল রঙ যেমন- হালকা ধূসর, বাদামি, হালকা গোলাপি, সবুজ রঙগুলো দিনে পরার জন্য ভালো মানাবে। রাতে সূর্যের তাপ থাকে না, গরমও কম অনুভূত হয়। তাই রাতের নিমন্ত্রণে পরার জন্য বেছে নিতে পারেন গাঢ় রঙ। লাল, হলুদ, নীল, মেরুন কিংবা কালো নিতে পারেন পছন্দের রঙটি। রাতের অনুষ্ঠানে পরার জন্য চাইলে ভারী কাজ করা শাড়িও বেছে নিতে পারেন। জরি, চুমকির কাজ করা শাড়ি দেখতে বেশ সুন্দর লাগবে।

নিমন্ত্রণ অনুযায়ী শাড়ি
বিয়ে ও গায়েহলুদের মতো অনুষ্ঠানে একটু জমকালো শাড়ি ভালো মানায়। বেছে নিতে পারেন সুতি বা হাফসিল্ক শাড়ি। আর জামদানি তো মানিয়ে যায় যেকোনো অনুষ্ঠানে। বিয়ের নিমন্ত্রণে পরতে পারেন জামদানি, কাতান বা সিল্ক। বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে হালকা রঙের শাড়িই ভালো লাগবে। জন্মদিনের নিমন্ত্রণে জর্জেট, সিল্ক ও হাফসিল্ক সুন্দর মানিয়ে যাবে। অফিসিয়াল গেট টুগেদারে হালকা শাড়ি ফরমাল লুক এনে দেবে। পূজাপার্বণে ঢাকাই জামদানি, সুতি ও কাতান দেবে সাবেকিয়ানা লুক। আর ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হালকা শাড়ি পরলেই সুন্দর লাগে।
আরও পড়ুন: চুলের যত্ন বেণির বাঁধনে

শাড়ির ভাঁজে বাহারি
নকশা
ডিজাইনারদের কাছে পোশাক হলো সাদা ক্যানভাস। কখনও সেই ক্যানভাসে স্থান পায় ফুলেল নকশা, তো কখনও নানা ধরনের আঁকিবুকি। জিওমেট্রিক, জ্যামিতিক লাইন মোটিফ দেখা যায় পোশাকে। ডটপ্রিন্ট হালের ফ্যাশনে আবার নতুন করে চলছে এখন। আর চেক বা স্টাইপের আবেদন সব সময়ই ছিল। সিল্ক বা জর্জেট শাড়িতে চুমকি দিয়ে কাজ অর্থাৎ সিকোয়েন্স শাড়ি এখন যেকোনো অনুষ্ঠানে বেশ মানানসই। ছয় গজ শাড়িতে দেখা যায় বাহারি নকশার সমাহার। আঁচলে ভারী কাজ, জমিনে একটু কম কাজ আবার কুচির ভাঁজে আলাদা কাজ দেখা যায়। শাড়ির পাড়ে সব সময় আলাদা নজর থাকে। নকশা ও রঙের সংমিশ্রণে শাড়ির পাড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় শৈল্পিক কারুকাজ। জরি-পুতি কিংবা সুতার কাজ আবার কখনও এম্ব্রয়ডারি শাড়ির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এতে লেস লাগিয়েও ডিজাইন করে হাউসগুলো। কখনও চওড়া লেস আবার কখনও চিকন লেস সোভাবর্ধন করে।
শুধু সুন্দর একটি শাড়ি পরলেই পরিপূর্ণতা আসে না। সুন্দর শাড়ির সঙ্গে চাই মানানসই সাজ। সকালের যেকোনো অনুষ্ঠানে স্নিগ্ধতা বজায় রাখা খুব জরুরি। তাই হালকা রঙের শাড়ির সঙ্গে হালকা মেকআপ করুন। অফিসিয়াল নিমন্ত্রণে সাধারণ বিবিক্রিম ও ফেসপাউডার, মাসকারা, হালকা রঙের লিপস্টিকে স্নিগ্ধ লাগবে। আর ফাউন্ডেশন যদি লাগাতে চান তাহলে একদম হালকা করে ন্যুড মেকআপ করতে পারেন। চোখে একদম হালকা বেজ শ্যাডো দেবে সিগ্ধ লুক। সঙ্গে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। বিয়ে, জন্মদিন, পার্টির নিমন্ত্রণ যদি রাতে হয় তাহলে চোখ সাজাতে পারেন কালো, বাদামিসহ যেকোনো স্মোকি আইলুক। আবার কেউ চাইলে গ্লিটারি আইলুকও করতে পারেন। চিকন করে লাইন টেনে কাজল পরতে পারেন। মাসকারা ভালোভাবে কোট করে নিলে চোখ দেখতে আকর্ষণীয় লাগবে। যদি আইল্যাশ পরতে চান তাহলে ভারি ল্যাশ নয় একদম হালকা ল্যাশ বেছে নিন। গালে পরে নিতে পারেন গোলাপি ব্লাশন। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গাঢ় রঙের লিপস্টিক চাইলে পরতে পারেন। তবে একদম হালকা ন্যুড রঙের লিপস্টিকও সুন্দর মানিয়ে যাবে। গরমের মধ্যে চুল খোলা না রেখে বেধে নিতে পারেন। বিয়ে, গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠানে চুল টেনে খোঁপা করে নিতে সুন্দর দেখাবে। এ ছাড়া চুলের সাজে টুইস্ট, সাইড বান, ফ্রেঞ্চ বেণি, কার্ল করেও বাঁধতে পারেন। সাজে আরো পূর্ণতা দিবে খোঁপায় বা বেণীর ভাজে সুন্দর তাজা ফুল।

যেমন চাই গয়না
রাতের
বিয়ে বাড়ির দাওয়াত, পার্টি, জমকালো অনুষ্ঠানে বেছে নিতে পারেন একটু ভারী গয়না। শাড়ি
যদি একদম সাধারণ হয় সে ক্ষেত্রে জুয়েলারি হিসেবে বেছে নিতে পারেন জমকালো গয়না। তা
নেকপিস হতে পারে বা একটু লম্বাও হতে পারে। শাড়িতে যদি বেশি কাজ থাকে তাহলে গয়না পরুন
ছোট ও হালকা ডিজাইনের। শুধু কানে বড় দুল পরতে পারেন। গায়েহলুদ, বর্ষবরণ, বসন্তবরণের
ক্ষেত্রে সুতি, জামদানি শাড়ির সঙ্গে ফ্লোরার গয়না ভালো মানায়। তবে অফিসের ফরমাল অনুষ্ঠানে
যতটা সাধারণ থাকা যায় তত বেশি সুন্দর দেখাবে। এমন অনুষ্ঠানে ছোট আকৃতির গয়না বেছে নিন।
হাতভর্তি চুড়ি পরতে পারেন শাড়ির সঙ্গে। হাতঘড়ি পরতে ভুলবেন না।
খেয়াল রাখবেন যেসব বিষয়