প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৩৫ পিএম
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৩৬ পিএম
অফিসের কাজের চাপ, স্ট্রেস এবং দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে এবং স্ট্রেস কমিয়ে প্রশান্তির খোঁজে আজকের এ বিশেষ প্রচ্ছদÑ
যান্ত্রিক এ জীবনে একটুখানি প্রশান্তি কে না চায়! কিন্তু সারা দিনের কর্মব্যস্ততা, নানা মানসিক চাপে সে প্রশান্তি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। আর সুস্থসবল ও ভালো থাকতে হলে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা কমবেশি সবাই বুঝতে পারি। কারণ এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব দিক প্রভাবিত করে। তাইতো মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত প্রত্যেকের। সবার আগে প্রয়োজন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা। সে ক্ষেত্রে সারা দিনের সময়কে একটা রুটিনের ছকে ফেলুন।

মেডিটেশন বা ধ্যান
দিনের শুরুটা হতে পারে মেডিটেশন বা ধ্যানের মাধ্যমে। ধ্যান মানসিক প্রশান্তি
আনার একটা কার্যকর উপায়; যা মানসিক চাপ কমিয়ে মন শিথিল করতে কার্যকর। মেডিটেশন করার
কিছু সহজ পদ্ধতি হলোÑ

প্রতিদিন সময় বের করে মেডিটেশন বা ধ্যান করলে মানসিক চাপ হ্রাসের পাশাপাশি
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন সহজে। এ ছাড়া মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক স্থিতিশীলতা
আনে। ফলে উদ্বেগ ও হতাশার মতো নানা সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন সহজেই।
এ ছাড়া ধ্যানের পাশাপাশি যদি সময় পান তবে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। খুব বেশি শারীরিক পরিশ্রম হয় অর্থাৎ জিমে গিয়ে বা ওয়েট লিফটিংয়ের মতো ব্যায়াম না করে সাধারণ ব্যায়াম করুন। সেটি হতে পারে হাঁটা বা দৌড়ানো। নিয়মিত ব্যায়াম মন ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং উদ্বেগ ও হতাশা কমায়। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে ‘এন্ডরফিন’ নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে আনন্দবোধ সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন
স্বাস্থ্যকর
খাবার
মানসিক
সুস্থতার
জন্য
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাবার যেমন
ফল,
শাকসবজি
এবং
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে Omega-3 ফ্যাটি
অ্যাসিড
(যেমন
মাছের
তেলে
পাওয়া
যায়)
মস্তিষ্কের
কর্মক্ষমতা
বাড়াতে
সহায়তা
করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসে শরীর যেমন তরতাজা ও সতেজ থাকে তেমন ডিপ্রেশন কমাতে
সহায়ক। ফলে মনেও প্রশান্তি থাকে।
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম মন তরতাজা রাখে এবং স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। ঘুমের ঘাটতি
মানসিক
চাপ
ও
উদ্বেগ
বাড়াতে
পারে।
কাজের
পরে
শরীর
ও
মন
রিফ্রেশ
করতে
ঘুম
অপরিহার্য। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম
(৭-৮
ঘণ্টা)
মানসিক
সুস্থতার
জন্য
অপরিহার্য।
ঘুমের
ঘাটতি
মস্তিষ্কের
কার্যকারিতা
কমিয়ে
দেয়
এবং
আবেগ
নিয়ন্ত্রণে
সমস্যা
সৃষ্টি
করতে
পারে।
তাই
নিয়মিত
ঘুমের
রুটিন
মেনে
চলা
উচিত।
শখ বা সৃজনশীল কাজ করুন
নিজের
পছন্দের
শখ
বা
সৃজনশীল
কার্যক্রমে
নিজেকে
ব্যস্ত
রাখা
মানসিক
চাপ
কমাতে
সাহায্য
করে। ভালো
লাগার
কাজ
যেমন
ছবি
আঁকা,
গান
শোনা,
বই
পড়া
ইত্যাদিতে
নিজেকে
ব্যস্ত
রাখলে
মানসিক
চাপ
কমে।
কারণ পছন্দের জিনিস নিয়ে সময় কাটালে দুশ্চিন্তা বা অন্য কোনো স্ট্রেস থাকে না, বরং
সে সময় মন শান্ত ও স্থির থাকে; যা মানসিক শক্তি
বাড়ায়
এবং
মস্তিষ্ক
শিথিল
করে মানসিক
প্রশান্তি
আনে।
বিরতি নিন এবং আরাম করুন
অনেক
সময়
একটানা
কাজ
করার
ফলে
মানসিক
চাপ
বেড়ে
যায়।
তাই
কাজের
মাঝে
ছোট
বিরতি
নিন।
৫-১০
মিনিটের
জন্য
কাজ
থেকে
দূরে
গিয়ে
হাঁটা
বা
রিলাক্সেশন
কার্যক্রমে
মনোযোগ
দিন।
এটি
মন
সতেজ
করে
এবং
কাজের
কার্যক্ষমতা
বাড়ায়।
প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান
পরিবারের
সদস্য
বা
ঘনিষ্ঠ
বন্ধুদের
সঙ্গে
সময়
কাটানো
এবং
খোলামেলা
আলাপ
করা
মানসিক
স্বাস্থ্যের
জন্য
খুবই
উপকারী।
সামাজিক
সম্পর্ক
মানসিক
স্বাস্থ্য
উন্নত
করে
এবং
একাকিত্ব
বা
হতাশার
অনুভূতি
কমায়।
নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্তি
নেতিবাচক
চিন্তা
বা
মানসিক
চাপ
থেকে
মুক্তি
পেতে
ইতিবাচক
চিন্তাধারার
চর্চা
করা
উচিত।
নিজের
সমস্যাগুলো
নিয়ে
কথা
বলা
এবং
তা
নিয়ে
খোলামেলা
আলোচনা
মানসিক
প্রশান্তি
এনে
দিতে
পারে। তাই চেষ্টা করুন নেতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং
আতঙ্ক
এড়িয়ে
নিজের
প্রতি
সদয়
হতে।
নিজেকে
সময়
দিন
এবং
সঠিকভাবে
কাজ
না
হওয়ার
জন্য
নিজেকে
চাপ
না
দিয়ে
ইতিবাচক
চিন্তা
করুন। এতে মনে প্রশান্তি আসবে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
যদি
মানসিক
চাপ,
উদ্বেগ
বা
হতাশা
বেশি
সময়
ধরে
থাকে
তবে
মনোবিজ্ঞানী
বা
মানসিক
স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ
নেওয়া
উচিত।
প্রয়োজন
অনুযায়ী
বিশেষজ্ঞের
দেওয়া
চিকিৎসা
বা
পরামর্শ
মানসিক
স্বাস্থ্যের
উন্নতি
ঘটাতে
পারে।