প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ২০:৫২ পিএম
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ছবি : সংগৃহীত
নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধভাবে উপাচার্যের চেয়ার দখল, সনদ বাণিজ্য, উপাচার্যের বাড়িকে ক্যাম্পাস দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল ইউজিসি। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়টির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ‘ভার্সিটি নয়, অনিয়মের কারখানা’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ। রিপোর্ট প্রকাশে শুরু হয় তোলপাড়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক ক্যাম্পাস হতে বিতাড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সসম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপদে বহাল, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক অবৈধভাবে পদে আসীন থেকে যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, তা বাতিল এবং তিনি বেতন-ভাতাসহ যেসব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্ট ডিড এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্ট-এর মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের বিধানাবলি দ্বারা সৃষ্ট ‘পাবলিক ট্রাস্ট-এর মূলনীতি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর পরিপন্থি হওয়ায় আইনবিরুদ্ধ বিধান বাদ দিয়ে দ্রুত নতুন করে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন’ প্রণয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ১৭ ও ১৯ এবং কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান ও পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৪৩ অনুযায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চাকরির প্রবিধানমালা ও বেতনকাঠামো প্রণয়ন করে কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বিশ্ববিদ্যালয়টির সূচনালগ্ন থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য কর্তৃক নিযুক্ত ট্রেজারার না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৪৪(২) ধারা মোতাবেক সাধারণ তহবিল পরিচালনা করা হয়নি।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সে বিবেচনায়, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির সমস্ত আয়-ব্যয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানসমূহের (সিএ ফার্ম) মধ্য হতে সরকার কর্তৃক মনোনীত একটি ফার্ম দ্বারা পুনরায় নিরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন, পুনরায় নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া বা কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদ্যমান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শুধু শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি ও জরুরি একাডেমিক ব্যয় ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অন্য কোনো খাতে ব্যয় বা বিনিয়োগ বা তহবিল স্থানান্তর না করা; বিশ্ববিদ্যালয়টির সব বিভাগে পূর্ণকালীন কমপক্ষে একজন করে অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ নিশ্চিতপূর্বক সব বিভাগে আগামী ৩ মাসের মধ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও এ বিভাগকে অবহিত করা; এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৮ ধারা অনুযায়ী সনদপত্রের জন্য আবেদন দাখিল না করায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু রাখার লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯-এর শর্তাবলি অনতিবিলম্বে পূরণ করে সাময়িক অনুমতির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে ব্যর্থ হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর ধারা ১২ অনুয়ায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।
এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সদস্য বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ‘যে বিষয়গুলো ইউজিসির এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, সে বিষয়ে ইউজিসি ব্যবস্থা নেবে। বাকি বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’
এশিয়ান ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার একেএম এনামুল হক বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু বিষয় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে, শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আর কিছু বিষয়ে আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার। সেজন্য ইউজিসির সঙ্গে সভা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে।’