× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভার্সিটি নয়, অনিয়মের কারখানা

সেলিম আহমেদ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৩ ০৮:৩৮ এএম

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ০৮:৩৯ এএম

ভার্সিটি নয়, অনিয়মের কারখানা

টানা ১০ বছর বৈধ অনুমোদন ছাড়াই উপাচার্য ছিলেন তিনি। কাগজে-কলমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের মালিকানাধীন দুটো বাড়িকে। এভাবে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন সাড়ে ২৫ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার স্বাক্ষর থাকা প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আইনগতভাবে অবৈধ। শুধু তা-ই নয়, তার স্বাক্ষরিত সব দলিল এবং তার সভাপতিত্বে হওয়া সব একাডেমিক ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তও অবৈধ। 

অনিয়ম-দুর্নীতিতে ন্যুব্জ, টাকা কামানোর ফ্যাক্টরি হয়ে ওঠা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হলো ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’। আর এর অবৈধ, স্বঘোষিত সাবেক উপাচার্য হলেন ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু থেকেই ছিল না কোনো বৈধ ট্রেজারার। সাধারণ তহবিল পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘটেছে সীমাহীন নয়ছয়। উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার থেকে শুরু করে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সবাই হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অঙ্কের টাকা। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। এমনকি শিক্ষকদেরও বঞ্চিত করা হয়েছে নামমাত্র বেতন দিয়ে। দেশ-বিদেশে অবৈধ ক্যাম্পাস বসিয়ে সনদবাণিজ্য করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাময়িক সনদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৮ ধারা অনুযায়ী সনদপত্রের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আবেদন না করায় বর্তমানে এটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত অনুমোদনও নেই। 

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির এ রকম সব অনিয়ম-দুর্নীতির চালচিত্র। তদন্তের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে ইউজিসি অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। বিদ্যমান ট্রাস্টি বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়টি খেয়াল-খুশিমতো পরিচালনা করায় সেটি ভেঙে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বোর্ড গঠন করার সুপারিশও করেছে ইউজিসি। ইউজিসির তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। 

একনজরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া বাজারের কাছে অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকলেও একাডেমিক কাজে অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসে এসেছেন। নাম-পরিচয় গোপন রেখে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো কোর্সে ভর্তি হলেই পাস করা নিশ্চিত। কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য উৎসাহও দেন এ প্রতিবেদককে। সুবিধা ও গুরুত্বের কথা জানাতে গিয়ে তারা বলেন, ‘এখানে ভর্তি হলে নিয়মিত ক্লাস করতে হয় না। পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক খুব শর্ট সাজেশন দিয়ে দেন। সাজেশনের বাইরে কোনো প্রশ্ন আসে না’। 

১৯৯৬ সালের শেষদিকে অনুমোদন পায় এ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২২ সালে প্রকাশিত ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৫ জন। শিক্ষক আছে ১২৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৩টি বিভাগ, ২৩টি কোর্স এবং ১টি ইনস্টিটিউটে পাঠদান করানো হয়। তবে ২০২২ সালে তদন্ত করতে গিয়ে ইউজিসি দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৫৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরুর সময় আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক এককালীন টাকা অনুদান করায় তাকেই ভিসি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। সেই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি চলে যায় তার কবজায়। বর্তমানে তিনি ভিসি না থাকলেও কর্তৃত্ব কমেনি। কারণ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন তার ছেলে ড. মুহাম্মাদ জাফার সাদেক। তা ছাড়া সদস্য হিসেবে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রী সালেহা সাদেকও রয়েছেন এই বোর্ডে।

সাব্কে উপাচার্যের অনিয়মের বহর

১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক। এরপর রাষ্ট্রপতি ও আচার্য তার মেয়াদ বাড়াননি। তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়নি কিংবা নতুন কাউকে নিযুক্তও করা হয়নি। পরে ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপক ড. শাহজাহান খানকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাঝখানে ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কালে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত না হলেও কার্যক্ষেত্রে ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেকই উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি উপাচার্য হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মূল সনদসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক ও একাডেমিক দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। তার সভাপতিত্বে একাধিক সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত হয়েছে অসংখ্য সিদ্ধান্ত। নিয়ম না মেনেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে অন্তত ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে। ইউজিসির তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

ইউজিসি জানিয়েছে, এসব সনদ ও সিদ্ধান্ত বর্তমানে বাতিল বলে বিবেচিত হবে। তা ছাড়া অবৈধভাবে দায়িত্ব পালনের এক দশকে সাবেক উপাচার্য বেতন-ভাতাসহ যেসব সুবিধা নিয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে ফেরত দিয়ে ইউজিসিকে জানাতে হবে। অবৈধভাবে যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে সাবেক উপাচার্য বহিষ্কার করেছেন, তাদের স্বপদে বহাল করতে এবং ওই সময়কালের পাওনাদি দেওয়ার পক্ষেও সুপারিশ করেছে ইউজিসি। 

বাসাই যখন ক্যাম্পাস!

তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ঘেঁটে ইউজিসি দেখেছে, বাড়িভাড়া খাতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। সাদেক তার মালিকানাধীন মতিঝিলের টয়নবী সার্কুলার রোডের বাড়িকে ক্যাম্পাস হিসেবে দেখিয়ে ১০ বছরে অন্তত ২০ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৬২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ২৮ নং রোডের বাড়িকে ক্যাম্পাস হিসেবে দেখিয়ে নিয়েছেন ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৮ টাকা। অথচ এই দুই বাড়ি ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার হয়নি। ইউজিসি থেকেও ক্যাম্পাস হিসেবে এগুলোর অনুমোদন ছিল না। এ ছাড়া উত্তরার ৭নং সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের একটি বাড়িকে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছ থেকে ভাড়া হিসেবে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ পাসের পর আইনানুযায়ী সব আউটার ক্যাম্পাস অবৈধ ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরও এ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ক্যাম্পাস পরিচালনার নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এমনকি স্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্পূর্ণ কার্যক্রম হস্তান্তরের পরও ২০২০-২১ সালে বাড়িভাড়া বাবদ ১ কোটি ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

তদন্ত প্রতিবেদনে ইউজিসি বলছে, বাড়িভাড়া খাতে বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায়, বিশেষ করে ক্যাম্পাস না থাকার পরও ক্যাম্পাস দেখিয়ে ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় ব্যক্তিনামে ফ্ল্যাট ক্রয়, ট্রাস্টের অনুকূলে বাড়িভাড়া পরিশোধসহ প্রতিটি লেনদেনই সন্দেহজনক ও আইনবহির্ভূত। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে (বিএফআইইউ) তদন্ত করে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। একই সঙ্গে এসব টাকা ফিরিয়ে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দিতে বলা হয়েছে। 

সনদবাণিজ্য

ইউসিজির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু থেকেই সরকার ও ইউজিসিকে পাশ কাটিয়ে গুণগত শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে সার্টিফিকেটসর্বস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন স্থানে দূর শিক্ষণকেন্দ্র খুলে বসে। এমনকি সৌদি আরবেও ছিল তাদের আউটার ক্যাম্পাস। এসব ক্যাম্পাসের মাধ্যমে ইস্যু করা হয় অসংখ্য সার্টিফিকেট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তেও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাবেক রেজিস্ট্রার ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সনদবাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। কারণ নীতিমালা অনুযায়ী মূল সনদে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। সাময়িক সনদে স্বাক্ষর করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। সুতরাং শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া সার্টিফিকেট জালিয়াতি সম্ভব নয়। 

নামমাত্র বেতনে শিক্ষক নিয়োগ

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পর্যায়ের একজন শিক্ষকের বেতন ছিল মাত্র ১৩ হাজার টাকা। অধ্যাপক পর্যায়ে ছিল ১৯ হাজার থেকে ২৩ হাজার। এত অল্প বেতনে মানসম্মত শিক্ষক ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইউজিসি। একই দাবি শিক্ষা বিশ্লেষকদেরও। তাই আগামী তিন মাসের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী চাকরির প্রবিধানমালা ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন করে ইউজিসির অনুমোদন নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সকল বিভাগে পূর্ণকালীন কমপক্ষে একজন করে অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

ছিল না বৈধ ট্রেজারার

বিশ্ববিদ্যালয়টির শুরু থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছিল না আচার্য কর্তৃক নিযুক্ত কোনো ট্রেজারার। ফলে আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ তহবিল পরিচালনা করা হয়নি এবং কোটি কোটি টাকার লুটপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউজিসি। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম প্রথম ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। ইউজিসি ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমস্ত আয়-ব্যয় বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের (সিএ ফার্ম) মধ্য থেকে সরকার মনোনীত একটি ফার্মের মাধ্যমে পুনরায় নিরীক্ষার সুপারিশ করেছে। 

বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠনের সুপারিশ

বোর্ড অব ট্রাস্টিজ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে খেয়াল-খুশিমতো পরিচালনা করছে, এ তথ্য দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করার জন্য আচার্য বরাবর সুপারিশ করেছে ইউজিসি। তদন্ত প্রতিবেদনে ইউজিসি বলেছে, অদূরদর্শিতা, ট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, অদূরদর্শিতা, ক্রমাগত আইনের লঙ্ঘন, আইনে বর্ণিত শর্তাবলি প্রতিপালনে অনীহা ও আইন অমান্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এ প্রসঙ্গে জানতে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক উপাচার্য ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেকের দুটি ফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহেল রহমান জানান, ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক হজ পালনে সৌদি আরব রয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান খানের কাছেও একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। মেসেজ দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার একেএম এনামুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সাবেক উপাচার্য ১০ বছর অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাহলে এই সময় ইস্যু করা সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্তের কী হবে? -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কী হবে তা আমরাও পুরোপুরি জানি না। বিষয়টি জানতে হবে। অবৈধভাবে নেওয়া টাকা সাবেক উপাচার্যের কাছ থেকে ফেরত আনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খোঁজ নিতে হবে। 

শিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রার বলেন, ইউজিসির নির্দেশনার পর ২০ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আইনগত ভিত্তি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা স্থায়ী সনদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, তদন্তে অনেক অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা