প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ০০:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং মামলায় জামিনে থাকা ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত সাবেক যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানান। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামিদের হাজিরার জন্য দিন ধার্য ছিল। আসামি সম্রাটের পক্ষে তার আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন ২০৫ ধারায় হাজিরা দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন তার এই হাজিরা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি চলাকালে বিচারক আসামিপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, সম্রাট কোথায় আছে? জবাবে আইনজীবী জানান, তিনি কোথায় আছে জানা নেই। আসামি সম্রাটের উপস্থিতিতে আগামী রবিবার শুনানি হবে বলে এমন নির্দেশনা দেন বিচারক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিআইডির উপপরিদর্শক রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাকরাইলের ‘মেসার্স হিস মুভিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বসে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ চালাতেন সম্রাট। এভাবে তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ‘বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ’ উপার্জন করেন। এসব অর্থের উৎস গোপন করার জন্য সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে তিনি সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচার করতেন। এ ছাড়া তার কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাব-১-এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অস্ত্র মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর উপপরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক। এ ছাড়া একই বছরের ৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর এসআই আব্দুল হালিম। এর মধ্যে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে অস্ত্র ও ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার বিচার চলছে। এ ছাড়া ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এ আসামি সম্রাটের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলাটি বিচারাধীন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলা করেন। এতে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।