রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:৪৫ পিএম
গাজীপুরের কালিয়কৈরের আন্ধারমানিক এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটিতে খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন গাছি। প্রবা ফটো
কাক ডাকা ভোরে খেজুরের রস তার মনমাতানো ঘ্রাণ শহরে বিরল- ছন্দটির মতো শীতের সকালে শহরে টাটকা এক গ্লাস খেজুরের রসের স্বাদের তুলনা হয় না। শহুরে মানুষের যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় প্রকৃতির স্বাদের চাহিদা পূরণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটির ১০৫ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে চার শতাধিক খেজুরগাছ। গাছ থেকে রস আহরণে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩৫০টি খেজুরগাছ। শীতের শুরুতেই এসব গাছ থেকে প্রতিদিন ১০০ লিটার রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে শীত বাড়লে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।
এতে খুশি এলাকাবাসী ও রসপ্রেমীরা। শিল্প-অধ্যুষিত গাজীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রস খেতে প্রতিদিন ছুটে আসছে লোকজন। কেউ রস ওখানে বসেই খাচ্ছেন আবার কেউ বা বাসার জন্য নিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে ফিল্ম সিটিতে দেখা যায়, মূল ফটক থেকে শুরু করে দুই পাশের দিঘির পাড়ে সারি সারি ছোট-বড় অসংখ্য খেজুরগাছ। চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে এসে তিনজন গাছি ও তার তিন সহকারী এসব গাছে কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলেছেন। গত সপ্তাহ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদন শুরু হয়েছে। সকালে গাছ থেকে রসভর্তি হাঁড়িগুলো নামিয়ে গুড় তৈরির জন্য কড়াই প্রস্তুত করেন। এর মধ্যে আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন আসে রস খেতে। প্রতি লিটার রস বিক্রি হয় ১০০ টাকা। আগত লোকজনের চাহিদা মিটিয়ে বাকি রস দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়।
চাষি আব্দুর রহমান, মঞ্জুর হোসেন ও তাদের সহযোগী আলতাব বলেন, ‘গত ১০ দিন হলো রস পাড়া শুরু হয়েছে। চলবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। আমরা দীর্ঘ ২ মাস পরিচর্যা করে গাছ রস উপযোগী করেছি। এখন প্রতিদিন রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীত যত বেশি পড়ে রস ততই মিষ্টি হয়।’
চাষি জয়নাল বলেন, ‘বাদুর ও পোকামাকড় যেন প্রবেশ করতে না পারে এজন্য সতর্কতার সঙ্গে হাঁড়িতে জাল পেঁচিয়ে রাখি। সকালে লোকজন আসার পর হাঁড়ি গাছ হতে নামিয়ে আনি। গাছ থেকে নামানো রস কাঁচা বিক্রি শেষে এখানেই জাল দিয়ে পাটালি, ঝোল, লনের গুড় তৈরি করে থাকি। এখানে ভেজালের কিছু নেই।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটির এই জমি লিজ গ্রহীতা রিজভী আহমেদ মিল্টন বলেন, ‘আমি ন্যাচারাল ফুড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করে থাকি। এজন্য আমি ফিল্ম সিটির ৬০ বিঘা জমিটি লিজ নিয়েছি। এই জমির মধ্যে চার শতাধিক খেজুরগাছ রয়েছে। এ বছর সাড়ে তিন শতাধিক খেজুরগাছ রস সংগ্রহের উপযোগী করা হয়েছে। কাঁচা রস বিক্রির পর অবশিষ্ট রস দিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। এখানে এমনভাবে খেজুরের গুড় প্রস্তুত করা হয় তাতে অসুস্থ বা ভেজালের কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় গ্রাহকের সামনেই গুড় তৈরি করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর শিল্প এলাকা হওয়ায় এই এলাকায় শিল্প-কারখানা বেশি। এমন জায়গায় পর্যাপ্ত রস ও গুড় পাওয়া সত্যি দারুণ ব্যাপার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটির ইনচার্জ নাসির আহম্মেদ বলেন, ফিল্ম সিটিতে রয়েছে গ্রামীণ বাড়ি, বাজার, শুটিং রেস্টুরেন্ট, মেকআপ রুম, একটি লেক, একটি পুকুর, খেজুরবাগান, বিভিন্ন গাছের বন-জঙ্গল, একটি ব্রিজ, ডরমিটরিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এখানকার লেক, খেজুরগাছ, কৃষিভূমিসহ ৬০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে।