ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে পরীক্ষামূলক ট্রেন। ডিসেম্বরে যাতায়াত করতে পারবে সাধারণ যাত্রীরা। প্রবা ফটো
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন রেললাইনের উদ্বোধন হলেও ট্রেনে করে সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার যেতে ভ্রমণপিপাসুদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) এ রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। এরপর চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি চলাচল শুরু হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
এ রুটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৬ টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫৫ ও সর্বোচ্চ ৭৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।
এ রুটে দুটি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব থাকলেও ঢাকা থেকে প্রথম দিকে দিনে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলবে। রেলের মহাপরিচালক কামরুল আহসান জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে এ রুটে ট্রেন বাড়বে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে।
রেল সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় যাত্রা করে বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে বিরতি দিয়ে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছাবে ট্রেন। কক্সবাজার থেকে দুপুর ১টায় যাত্রা করে রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে। ফিরতি পথেও চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করবে। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে ট্রেনটির। পরে এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে।
ট্রেনে দুটি খাবার বগি, একটি পাওয়ার কার, তিনটি এসি কেবিন, পাঁচটি এসি চেয়ার, ছয়টি শোভন চেয়ার এবং একটি নন-এসি ফার্স্ট সিট বগি থাকবে। ঢাকা থেকে যাত্রার সময় আসনসংখ্যা হবে ৭৯৭। ফিরতি পথে আসন হবে ৭৩৭। আপাতত ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তূর্ণা নিশীথার বগি দিয়ে চালানো হবে ঢাকা-কক্সবাজারের ট্রেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে চালু হতে যাওয়া ট্রেনের জন্য বেশ কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এগুলো হলো প্রবাল এক্সপ্রেস, হিমছড়ি এক্সপ্রেস, ইনানী এক্সপ্রেস, লাবণী এক্সপ্রেস ও সেন্টমার্টিন এক্সপ্রেস। এর মধ্য থেকে একটি বাছাই বা অন্য কোনো নাম দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সুবক্তগীন জানান, এ প্রকল্পের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথমবারের মতো পর্যটন নগরীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হচ্ছে। কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে অপারেশন সুবিধা ব্যাপক হারে আছে।