শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ২০ জুন ২০২৩ ১৭:৫৭ পিএম
সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যানপুত্র ফাহিম ফয়সাল রিফাতের পিস্তলসহ একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যানপুত্র ফাহিম ফয়সাল রিফাতের পিস্তলসহ একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অস্ত্রের রহস্য কী এবং কীভাবে তার হাতে এলো তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
রিফাত উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম-আহ্বায়ক। নাদিমের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, আকাশি রঙের শার্ট ও কালো রঙের প্যান্ট পরিহিত রিফাত ডান হাতে পিস্তল নিয়ে একটি মাঠে কারো সঙ্গে দুষ্টুমিতে মেতে উঠেছেন। তার পেছনে ধান ক্ষেত।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘ছবিটি তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। রিফাতকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার হলে এ অস্ত্রের রহস্য বেরিয়ে আসবে। যদি তার কাছে অস্ত্র পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী
এদিকে চেয়ারম্যান বাবু গ্রেপ্তারের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, ১০ বছর আগের মুদি দোকানদার মাহমুদুল আলম বাবু খুব অল্প সময়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। নিজের বাড়ির তিন তলায় বানিয়েছিলেন টর্চার সেল। কেউ অবাধ্য হলেই তার পোষা বাহিনী ধরে নিয়ে আসতো সেই সেলে। বিরোধীপক্ষ এবং চাঁদা ও দখলবাজিতে বাধাদানকারীদের টর্চারসেলে চলতো নির্যাতন। সেই সেলে নিয়মিত মদ, জুয়া ও নারীর আসরও বসানো হতো।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার ক্ষমতার দাপটে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল রিফাত। গ্যাং গ্রুপের মাধ্যমে বাবার বিভিন্ন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত সে। কোনো ব্যাপারে কেউ ‘না’ বললেই চলতো নির্যাতন।
চেয়ারম্যান বাবুর নেতৃত্বে গত ১৪ জুন রাতে বকশীগঞ্জের পাথাটিয়া এলাকায় সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলা চালানো হয়। পর দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।