পাহাড়ে সেনাসদস্য হত্যা
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৭:১৬ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৭:৩৩ পিএম
কোর্টপাড়ার বাড়িতে ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিনের দাফনে অংশ নেন শত শত মানুষ। প্রবা ফটো
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে গুলিতে নিহত মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিনের দাফন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রংপুর সেনানিবাসে তার মরদেহ নেওয়া হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর মডার্ন কোর্টপাড়ার বাড়িতে তার কফিন কাধে করে নিয়ে যান সেনাসদস্যরা। এ সময় তার মরদেহ একনজর দেখতে এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের ঢল নামে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও এলাকাবাসী।
বাদ জোহর বাড়ির সামনে বাগানে নাজিম উদ্দিনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ জানাজায় অংশ নেন। এরপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। লাশ দাফন ও দোয়া শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন সেনাসদস্যরা। এরপর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নাজিম উদ্দিনের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন, ৩৪ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব। এরপর সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে মরণোত্তর সালাম ও ভলি ফায়ার করা হয়। বিউগলে জাতীয় সংগীত ও করুণ সুরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে কোর্টপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নাজিম উদ্দিনের ছোট ভাই আজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই একজন সৎ ও সাহসী মানুষ ছিলেন। তিনি গ্রামের সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর বড় ভাই আমাদের বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন। বাবার কমতি বুঝতে দেননি। আমরা সেই বড় ভাইকে হারিয়ে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আত্মত্যাগের জন্য পরপারে মহান আল্লাহ আমার বড় ভাইকে ভালো রাখবেন এই দোয়া করছি।’
আরও পড়ুন : দুর্গম পাহাড়ে কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির গুলিতে সেনাসদস্য নিহত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া নাজিম উদ্দিনের বড় ছেলে নাইমুর জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর বাবা বলতেন আমরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছি। জীবন দিয়ে হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি বাবার এ আত্মত্যাগের জন্য গর্ববোধ করছি। আমার বাবার আয়ের ওপর আমাদের পুরো পরিবার চলত। তাই সেনাপ্রধান মহোদয় আমার সঙ্গে কথা বলে আমার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।’
রংপুর সেনানিবাসের সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব বলেন, ‘গত ১২ মার্চ দুপুরে একটি ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনীর উপস্থিতি টের পান মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন। তিনি অন্য সঙ্গীদের রক্ষায় নিজে কয়েকজন সেনাসদস্য নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা নিরাপদ করার চেষ্টা করেন। এ সময় সন্ত্রাসী বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তিনি দেশের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার জীবন থেকে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের শিক্ষা নেব। সেই সঙ্গে শহীদ মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিনের পরিবার ও তার সন্তানদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বদা পাশে থাকবে সেনাবাহিনী। ‘
মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন ১৯৭৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর মডার্ন কোর্টপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে ভর্তি হন। মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে যোগদান করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তার পরিবারে স্ত্রীসহ দুই ছেলে রয়েছে।